সাভারে দাম্পত্য কলহের জেরে স্বামী পিকআপ-চালক স্ত্রী গার্মেন্টসকর্মীকে নৃশংসভাবে হত্যা করে সেই মরদেহে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার পর অভিযুক্ত স্বামী পলাতক।
রবিবার (২০ এপ্রিল) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে আশুলিয়ার টঙ্গাবাড়ি এলাকার কালাম মাদবরের ভাড়া বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে।
নিহত নূরানী আক্তার (১৯) বগুড়া জেলার শিবপুর থানার জীবননগর গ্রামের মো. নজরুল ইসলামের মেয়ে। তিনি স্থানীয় ন্যাচারাল ইন্ডিগো লিমিটেড কারখানায় কাজ করতেন।
অভিযুক্ত পলাতক স্বামী শাহীন খন্দকার বগুড়া জেলার সোনাতলা থানার সোনাতলা নতুন বন্দরের আনারুল খন্দকারের ছেলে। সে পেশায় একজন পিকআপ চালক।
নিহতের বোন রোকসানা আক্তার বলেন, ‘আমার বোনের আগে বিয়ে হয়েছিল। কিন্তু ওই সংসার না টেকায় পরে আশুলিয়ায় এসে পোশাক কারখানায় চাকরি নেয়। এর পর শাহীনের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক হলে তারা বিয়ে করে। মাঝে মধ্যেই মাদকাসক্ত শাহীন আমার বোনকে টাকার জন্য নির্যাতন করত। গতকাল গভীর রাতে তাদের মধ্যে ঝগড়ার জেরে সে আমার বোনকে মাথায় আঘাত করে নৃশংসভাবে হত্যার পর কাথাবালিশ দিয়ে ঢেকে সেখানে আগুন ধরিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে পোড়ার গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে প্রতিবেশীরা দরজা খুলে নূরানীকে মৃত অবস্থায় দেখতে পায়। খবর পেয়ে সকালে পুলিশ আমার বোনের মরদহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। আমি আমার বোনের হত্যাকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’
আশুলিয়া থানার পরিদর্শক (ওসি) তদন্ত কামাল হোসেন বলেন, ‘ভিকটিমের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে দাম্পত্য কলহের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।’
তিরি আরও জানান, ভিকটিমকে হত্যার পর মরদেহ পুড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টাও করা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা প্রক্রিয়াধীন। একই সঙ্গে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।
ইমতিয়াজ/তাওফিক/