জামায়াত নেতা এটিএম আজহারুল ইসলামের মুক্তির বিষয়ে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘জুলাই-আগস্টের ভিকটিমদের মামলাগুলো নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে সরকারের যে উদাসীনতা এটিএম আজহারুল ইসলামের মুক্তির ক্ষেত্রেও ঠিক একই উদাসীনতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তিনি প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি ছিলেন। তিনি মজলুম ব্যক্তিত্ব ছিলেন। এরপরেও যদি সরকার এটি নিয়ে টালবাহানা করে, আমাদের পক্ষ থেকেও একটা ধৈর্যের বাঁধ ভাঙার বিষয় রয়েছে। আমরা ধৈর্য ধারণ করেছি। যদি ধৈর্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হয় অথবা আমাদের উদারতাকে দুর্বলতা মনে করা, তাহলে আমরা বড় কর্মসূচিতে যাব।’
মঙ্গলবার (২২ এপ্রিল) সকালে রংপুর নগরীর একটি হোটেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন তিনি।
জাহিদুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ দীর্ঘদিনের ফ্যাসিবাদী পরিবেশ থেকে মুক্ত হয়েছে। আওয়ামী লীগের যে পরিণতি হয়েছে, এই ফ্যাসিবাদের জন্য শেখ হাসিনাসহ তার দল দায়ী। তাদের অপকর্ম এবং ফ্যাসিবাদ কায়েম এত উচ্চবিলাসী পথে পৌঁছে গিয়েছিল যে মানুষকে মেরে ফেলতেও কুণ্ঠাবোধ করেননি তারা।
তিনি বলেন, যেদিন সে পালিয়ে গেছে সেদিন কয়েক লাখ মেরে ফেলে থাকতে পারলে সেটাই করতো। এমন একটি ঘৃণ্য গণহত্যাকারী ব্যক্তি বাংলাদেশটাকে নরকে পরিণত করছে। এতগুলো হত্যাকাণ্ডের পরেও আওয়ামী লীগ তাদের জায়গা থেকে ন্যূনতম অনুশোচনা করেনি। একটি দল কতটা হিংস্র হলে এটি সম্ভব! যারা আবার মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার চেষ্টা করছেন তারা বোকার স্বর্গে বাস করছেন। এমন একটা প্রজন্ম তৈরি হয়েছে বিশেষ করে যুবকদের মাঝে ফ্যাসিবাদ বিরোধী চিন্তা বা স্পিরিট মনের মধ্যে কাজ করছে। এই মনস্তাত্ত্বিক জায়গা চিন্তা করে হাসিনা যে হঠকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশে ফিরে আসা তাদের পক্ষে কখনো সম্ভব না।
রংপুর অঞ্চলের উন্নয়ন বৈষম্য নিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল অবহেলিত। তাই ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে এবং বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও ভবিষ্যতে যারা সরকার গঠন করবেন, তাদের প্রতি আহ্বান থাকবে শিক্ষা অবকাঠামো উন্নয়ন করার।
জুলাই আন্দোলনে ছাত্রদের বিরুদ্ধে মামলার ব্যাপারে তিনি বলেন, একটি বিপ্লব, একটি আন্দোলন কোনো নিয়ম মেনে হয় না। আশা করছি গণঅভ্যুত্থানকে ধারণ করে এই মামলাগুলো নিষ্পত্তি করবে। সেজন্য আমরা চাপ প্রয়োগ করব।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদল সভাপতির জুলাই আন্দোলনকে ‘তথাকথিত জুলাই আন্দোলন’ বলার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তথাকথিত বলাটা কখনো মেনে নেওয়ার মত বিষয় না। এটি কারো ইশারা-ইঙ্গিতে বলেছেন কিনা এটি দেখার দাবি রাখে। জুলাই স্পিরিটের সঙ্গে যারা জড়িত ছিল, যতজন নিহত হয়েছেন, যারা আহত হয়েছেন তাদের সঙ্গে এটা বেইমানিসূচক শব্দ। ভবিষ্যতে সতর্কতা অবলম্বন করার আহ্বান জানান তিনি।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন কেন্দীয় দাওহা সম্পাদক মেজবাহুল কবির, মহানগর সভাপতি নুরুল হুদা, মহানগর সেক্রেটারি আনিছুর রহমান, বেরোবি ছাত্রশিবিরের সভাপতি সোহেল রানা, রংপুর জেলা সভাপতি ফিরোজ মাহমুদসহ জেলা ও মহানগর শাখার ছাত্রশিবিরের নেতারা।
সেলিম সরকার/মাহফুজ