সাতক্ষীরার শ্যামনগরে সুন্দরবনসংলগ্ন চুনকুড়ি নদীর বেড়িবাঁধে ভয়াবহ ফাটল দেখা দিয়েছে। নদীতে জোয়ারের পানির উচ্চতা বাড়ায় এ ফাটল দেখা দেয়। এতে মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে বাঁধসংলগ্ন মুন্সীগঞ্জ ইউনিয়নের সিংহরতলী ও চুনকুড়ি গ্রামসহ পার্শ্ববর্তী ১০ থেকে ১৫টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ। সেই সঙ্গে অসংখ্য মাছের ঘের ভেসে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
শনিবার (২৬ এপ্রিল) সকালে মুন্সীগঞ্জ ইউনিয়নের হরিনগরের সিংহরতলী এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ৫ নম্বর পোল্ডারের ৬০ থেকে ৭০ মিটার বেড়িবাঁধের অংশে ভয়াবহ ফাটল দেখা দেয়। এর আগে গত শুক্রবার রাত থেকে এই ফাটল শুরু হয়।
জানা গেছে, শনিবার সকালে চুনকুড়ি নদীর তীরবর্তী বাসিন্দারা বেড়িবাঁধে হঠাৎ ফাটল ও ধস দেখেন। সহায়-সম্পত্তির ক্ষতির আশঙ্কায় স্থানীয়রা তাৎক্ষণিক স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধ মেরামতের কাজ শুরু করেন। পরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকেও বাঁধ মেরামতের কাজ শুরু হয়।
স্থানীয়রা জানান, চুনা নদীর অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে উপজেলার সুন্দরবনসংলগ্ন মুন্সীগঞ্জ হরিনগরের সিংহরতলী এলাকার বাঁধে ফাটল দেখা দেয়। এ সময় বাঁধের নদী অংশের প্রায় ৬০ থেকে ৭০ ফুট জায়গা লম্বালম্বিভাবে পাশের খোলপেটুয়া নদীর দিকে দেবে যায়। তখন ফাটল দেখা দেওয়ায় বাঁধের পাশে বসবাসরত গ্রামবাসীসহ চিংড়িঘের মালিকদের মধ্যে চরম উৎকণ্ঠা দেখা দেয়। গ্রামবাসী জানান, শুষ্ক মৌসুমে বাঁধে ফাটলের ঘটনায় তারা আতঙ্কিত।
স্থানীয় বাসিন্দা ইসমাইল হোসেন বলেন, এই জায়গাটি আগে থেকেই ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। এ বিষয়ে অনেকবার স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। বাঁধ ভাঙার আগে কার্যকর পদক্ষেপ নিলে জনগণের জানমালের ক্ষয়ক্ষতি হয় না। কিন্তু পাউবো কর্তৃপক্ষ বাঁধে ফাটল ধরলে বা ভেঙে গেলে ভাঙনকবলিত এলাকায় কাজ শুরু করেন।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি নিপা চক্রবর্তী জানান, সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড-১-এর আওতাধীন ৫ নম্বর পোল্ডারের মুন্সীগঞ্জ ইউনিয়নের হরিনগর সিংহরতলী এলাকায় চুনকুড়ি নদীর বেড়িবাঁধে শুক্রবার রাতে হঠাৎ ফাটল দেখা দেয়। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। জোয়ারের পানিতে বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হতে পারে এমন আশঙ্কায় গ্রামের মানুষ রাত জেগে পাহারা দিয়েছেন। পরে সকাল থেকে স্থানীয়রা স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে বাঁধ সংস্কারের কাজ শুরু করেন, যা অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে উপকূলরক্ষা বেড়িবাঁধ ফাটলের খবর শুনে শনিবার সকালে শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. রনী খাতুন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ আল রিফাত, পানি উন্নয়ন বোর্ডের সেকশন অফিসার (এসও) প্রিন্স রেজাসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা সিংহরতলী এলাকায় ভাঙনকবলিত বেড়িবাঁধ পরিদর্শন করেছেন।
বেড়িবাঁধের ফাটল এলাকা পরিদর্শনকালে ইউএনও রনী খাতুন বলেন, ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। পানি উন্নয়ন বোর্ডকে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বলা হয়েছে। তারা কাজ শুরু করে দিয়েছেন। দ্রুত সমাধান হয়ে যাবে। তিনি এলাকাবাসীকে আতঙ্কিত না হয়ে বাঁধ সংস্কারকাজে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড-১-এর উপসহকারী প্রকৌশলী প্রিন্স রেজা বলেন, চুনকুড়ি নদীর বেড়িবাঁধের ফাটল দেখা দেওয়া অংশে সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে। রবিবারের মধ্যে কাজ শেষ হবে।