গ্রামের মসজিদে মাইকিং করে গরু-ছাগলকে সরকারি ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, ভ্যাকসিন দেওয়া গরু-ছাগলগুলো ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই মারা যেতে শুরু করে। ঘটনাটি খাগড়াছড়ি জেলার রামগড় উপজেলার ১ নম্বর রামগড় ইউনিয়নের লামকুপাড়া এলাকার। ১২ দিনের ব্যবধানে এখন পর্যন্ত ১৬টি ছাগল ও চারটি গরু মারা যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ ছাড়া অসুস্থ হয়ে মুমূর্ষু অবস্থায় রয়েছে আরও অর্ধশতাধিক গরু-ছাগল। এ ঘটনায় ওই এলাকার খামারিদের পাশাপাশি বসতবাড়িতে গরু-ছাগল পালনকারীরা আতঙ্কে রয়েছেন। ঘটনার সঠিক তদন্ত ও দায়ীদের বিচারের দাবিতে গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে ক্ষতিগ্রস্তরা রামগড় ইউনিয়ন পরিষদের সামনে জড়ো হন।
গ্রামবাসী ও ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ, রামগড় উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের ভেটেরিনারি সার্জন ডা. মো. রুবায়েতুল ইসলামের পরামর্শে তার দুই সহকারী জামাল উদ্দিন ও রমজান গত ১৫ এপ্রিল লামকুপাড়া এলাকায় গরু ও ছাগলের মধ্যে ভ্যাকসিন প্রয়োগ করেন। ভ্যাকসিন দেওয়ার এক দিন পার হতে না হতেই গরু ও ছাগলের অসুস্থতা দেখা দেয়। এরপর এক এক করে মারা যায় গবাদি পশুগুলো। গবাদিপশু মালিকদের দাবি, এসব ভ্যাকসিনে সমস্যা ছিল কিংবা একই সিরিজে সবগুলো পশুকে ভ্যাকসিন দেওয়ায় এমন ঘটনা ঘটেছে।
লুৎফর রহমান নামে স্থানীয় এক খামারি অভিযোগ করে বলেন, ‘ভ্যাকসিন দেওয়ার দুই দিন পর আমার তিনটি ছাগল ও দুটি গরু মারা যায়। পশুচিকিৎসকরা আমার খামারের আরও অন্তত ১৫টি ছাগলকে ভ্যাকসিন দিয়েছিলেন। ধীরে ধীরে সবগুলো ছাগল অসুস্থ হয়ে পড়ছে। আমাদের গ্রামে যারা ভ্যাকসিন দিয়েছেন তাদের সবার গরু-ছাগলে একই অবস্থা।’
লামকুপাড়া গ্রামের গৃহিণী সায়েরা খাতুন বলেন, ‘আমার দিনমজুর স্বামী বেশির ভাগ সময় অসুস্থ থাকেন। গরু-ছাগল পালন করেই আমাকে সংসার চালাতে হয়। ভ্যাকসিন দেওয়ার পর আমার তিনটি ছাগল মারা গেছে। বাড়িতে আরও তিনটি অসুস্থ অবস্থায় রয়েছে।’
একই অভিযোগ করেন লামকুপাড়ার ওবায়দুল হক, আবুল কাশেম, আবদুল করিম, শান্তনু দেবী ও চিকনি ত্রিপুরার। তাদের দাবি, এ ঘটনার সঠিক তদন্ত এবং দায়ীদের বিচার হোক।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে রামগড় উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের ভেটেরিনারি সার্জন ডা. রুবায়েতুল ইসলাম বললেন ভিন্ন কথা। তিনি বলেন, ‘ছাগল মারা গেছে, তবে গরু মারা যাওয়ার বিষয়টি গুজব। ভ্যাকসিনের মেয়াদ ছিল। তবুও মৃত্যুর কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আক্রান্ত গবাদিপশুগুলোকে চিকিৎসা দেওয়া হবে। এ ছাড়া ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণের কোনো সুযোগ আমাদের নেই।’
রামগড় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মমতা আফরিন বলেন, ‘ঘটনাটি শুনেছি। তবে এখন পর্যন্ত আমার কাছে এ বিষয়ে কেউ কোনো অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’