মাদকের ভয়াল থাবায় আক্রান্ত খুলনা মহানগরী। যার প্রধান শিকার কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। মাদক নিরাময় কেন্দ্রের তথ্যানুযায়ী, মাদকাসক্তদের ৭০ শতাংশই বিভিন্ন স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। যাদের বয়স ১৪-২২ বছরের মধ্যে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর মাদক সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে না পারায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সেই সঙ্গে প্রতিনিয়ত মাদক ব্যবসার ভাগাভাগি নিয়ে হামলা, মামলা ও হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনা ঘটছে। এ কারণে বন্দর নগরী খুলনা আবারও অশান্ত হয়ে উঠেছে।
এদিকে খুলনায় মাদক প্রতিরোধে শক্ত অবস্থান ঘোষণা করেছে মহানগর বিএনপি। মহানগরীকে মাদকমুক্ত করতে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে ধারাবাহিক কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।
শুক্রবার (৯ মে) নগরীর কেডি ঘোষ রোডে বিএনপির কার্যালয়ে মাদক সেবন প্রতিরোধে ধারাবাহিক কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। এর মধ্যে আজ (শনিবার) বিকেল ৪টায় চিত্রালী বাজার থেকে নগরীর খালিশপুর থানার ৭, ৮ ও ১০ নম্বর ওয়ার্ডের উদ্যোগে মাদকবিরোধী র্যালির আয়োজন করা হয়। আগামী রবিবার খালিশপুর থানার ৯, ১৪ ও ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে মাদকবিরোধী র্যালির পরিকল্পনা করা হয় এবং আগামী সোমবার ১১, ১২ ও ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের র্যালি নিউজপ্রিন্ট মিল গেটে বিএনপির অফিস থেকে বের করার কথা বলা হয়। এ ছাড়া আগামী মঙ্গলবার ১ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডে মাদকবিরোধী কর্মসূচি পালন করার কথা রয়েছে।
মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন বলেন, ‘মাদকে আসক্তির কারণে ক্রমশই সমাজে বাড়ছে বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ। যার মধ্যে রয়েছে চুরি-ডাকাতি, ছিনতাই, খুন, জখম ও ধর্ষণ। ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি সেজে, মোটরসাইকেলে প্রেস স্টিকার লাগিয়ে, স্কুল কলেজের ইউনিফর্ম পরে, পাগল ও ভিখারির বেশে এবং ভ্রাম্যমাণ হকার সেজে অনেক ব্যবসায়ী মাদকসেবীদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে গাঁজা, ইয়াবা, মদ, হেরোইন, ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক। যুবসমাজকে মাদকের ভয়াবহ করাল গ্রাস থেকে বিরত রাখার জন্য সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।’
মহানগর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট শফিকুল আলম মনা বলেন, ‘মাদকের করাল গ্রাস থেকে যুবসমাজকে রক্ষার জন্য মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। মাদকের অবাধ বাণিজ্য বন্ধে মাদক ব্যবসায় জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।’