২০২৪ সালের মে মাসে খুলনার ব্যস্ততম পিটিআই মোড়ে ফুটওভারব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগ নেয় খুলনা সিটি করপোরেশন। এখানে পাশাপাশি কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কারণে শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে সড়ক পারাপার হতে হয়। ফলে ফুটওভারব্রিজ নির্মাণের খবরে স্বস্তি দেখা যায়।
কিন্তু সম্প্রতি সড়ক ও জনপথ বিভাগ বলছে, এ জায়গায় ফুটওভারব্রিজ করতে গেলে দুই পাশের সড়কের প্রায় ১৪ ফুট জায়গা স্থাপনারকাজে ব্যবহৃত হবে। ফলে সড়কটি আরও সংকুচিত হয়ে যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়বে। তাদের আপত্তির মুখে এরই মধ্যে ফুটওভারব্রিজের নির্মাণকাজ বন্ধ হয়ে গেছে।
জানা গেছে, পিটিআই মোড়সহ নগরীর গুরুত্বপূর্ণ ২২টি মোড়ে প্রায় ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে সড়ক প্রশস্তকরণ ও সৌন্দর্যবর্ধনের উদ্যোগ নেয় খুলনা সিটি করপোরেশন। কিন্তু ২২টি মোড়ের মধ্যে ১২টি সড়ক বিভাগের মালিকানাধীন জায়গা। সড়ক বিভাগের দাবি, কোনো ধরনের অনুমতি ছাড়াই সিটি করপোরেশন এখানে স্থাপনা নির্মাণ করছে। ফলে তারা নির্মাণকাজ বন্ধ রাখতে চিঠি দিয়েছেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, পিটিআই মোড়ের কাছে শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের গেটের সামনে ও সড়কের অপর পাশে ফুটপাতের ওপর পাইলিং করে ফুটওভারব্রিজের ভিত তৈরি করা হয়েছে। একপাশের ফুটপাতের ওপর লোহার রড বিছিয়ে ঢালাই দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। সেই অবস্থায় নির্মাণকাজ বন্ধ হয়ে যায়।
খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান বলেন, ‘যানবাহনের চাপ ও আশপাশের অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পারাপারে পিটিআই মোড়ে ফুটওভারব্রিজ নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়। এর নকশা প্রণয়ন করে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্কিটেকচার ডিসিপ্লিনের রিসার্চ অ্যান্ড ডিজাইন কনসালটেন্সি ইউনিট (আরডিসিইউ)। কিন্তু ওই জায়গায় নির্মাণকাজ করতে গেলে সড়ক বিভাগ আপত্তি দেখায়। তাদের অভিযোগ, প্রকল্পে সড়ক প্রশস্তকরণের কথা বলা হলেও মূলত স্থাপনা নির্মাণের কারণে সড়ক সংকুচিত হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘যখন সাইট সিলেকশন হয় ওই সময় সড়ক বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। সেই সময় তারা কোনো আপত্তি জানাননি। এখন তাদের অনেকে বদলি হয়ে গেছেন। বর্তমানে নির্মাণকাজ করতে গেলে সড়কের নতুন কর্মকর্তারা বাধা দিচ্ছেন।’
তবে খুলনা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী তানিমুল হক বলেন, ‘শুধু অনুমতি না নেওয়ার জন্য নয়, পিটিআই মোড়ের দুই পাশে ৭ ফিট করে মোট ১৪ ফিট সড়কের জায়গা দখল করে ফুটওভারব্রিজ নির্মাণের কথা বলা হচ্ছে। চার লেন সড়কের এখানে প্রশস্ত থাকার কথা ৪৮ ফিট। সেখানে প্রায় ১৪ ফিট জায়গা দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করলে সড়ক সংকুচিত হয়ে যানবাহন চলাচলে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হবে। এতে যানজট ও দুর্ঘটনা বাড়বে।’
পিটিআই মোড়সংলগ্ন আহসান আহমেদ সড়কে সেন্ট জোসেফস উচ্চবিদ্যালয়, সরকারি করোনেশন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, শিশুবিদ্যালয়, সিটি ল কলেজসহ পাশেই রয়েছে সরকারি পাইওনিয়ার বালিকা মহাবিদ্যালয় ও আযমখান সরকারি কমার্স কলেজ। এ ছাড়া খানজাহান আলী সড়কে হামিদ আলী বালিকা বিদ্যালয়সহ আশপাশে দুই ডজনের বেশি কোচিং সেন্টার রয়েছে। এসব কারণে মোড়টি দিয়ে প্রতিদিন কয়েক হাজার শিক্ষার্থী যাতায়াত করে। বিভিন্ন সময় ওই মোড়ে একটি ফুটওভারব্রিজ নির্মাণের দাবি জানান অভিভাবকরা। এখানে ফুটওভারব্রিজ নির্মাণ বন্ধের খবরে তারা হতাশা ব্যক্ত করেন।
অপর দিকে এভাবে পরিকল্পনা ও দূরদর্শিতা ছাড়া যেনতেনভাবে কাজে অর্থ অপচয় হয় বলে মন্তব্য করেন খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট বাবুল হাওলাদার।
তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যতে অর্থ অপচয় রোধ ও উন্নয়নকাজের স্বার্থে সংস্থাগুলোর পরস্পরের মধ্যে সমন্বয় করে কাজ করতে হবে। এতে উন্নয়নকাজ ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে না।’