পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর থেকে বরিশাল-ঢাকা নৌরুটের যাত্রী কমেছে ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ। একসময় ঢাকা ও বরিশাল দুই প্রান্ত থেকে প্রতিদিন ভায়া রুটসহ ২৪ থেকে ৩০টি লঞ্চ চলাচল করত। বর্তমানে ভায়া রুটের দুটিসহ তিনটি লঞ্চ চলছে। যাত্রী সংকটের কারণে সরকারি স্টিমার চলাচলও বন্ধ হয়ে গেছে। এ অবস্থায় নৌযাত্রীদের সেবায় প্রায় ৯৩ কোটি ৩৩ লাখ টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলছে। নৌপথ বিমুখ যাত্রীদের ফিরিয়ে আনতে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিআইডব্লিউটিএ। তবে এই উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে বরিশালের বিভিন্ন মহল প্রশ্ন তুলেছে।
প্রকল্প প্রকৌশলী আহমেদ হিমেল জানান, এ প্রকল্পে অর্থায়ন করছে বিশ্বব্যাংক। প্রায় ৯৪ কোটি টাকা ব্যয় হবে। প্রকল্পের মধ্যে বিশালাকার মাল্টিপারপাস টার্মিনাল ভবন, প্রায় ৪ লাখ লিটার পানির রিজার্ভার, ওয়াকওয়ে, ফুলের বাগান, নিরাপত্তা বেষ্টনী, গ্যাংওয়ে, পার্কিং ইয়ার্ড নির্মাণ ও ব্যাংকিংসহ ১৭টি সুবিধা থাকবে। প্রকল্পটি পদ্মা সেতু চালু হওয়ার আগে নেওয়া হয়েছিল। অনুমোদনে দীর্ঘসূত্রতার কারণে বিলম্ব হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক লঞ্চমালিক বলেন, ‘পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর থেকেই ঢাকা-বরিশাল নৌরুটের ৯০ শতাংশেরও বেশি যাত্রী কমে গেছে। বলতে গেলে টার্মিনাল ফাঁকা পড়ে থাকে। বেশির ভাগ লঞ্চমালিক অন্য ব্যবসায় যুক্ত হওয়ার চিন্তা করছেন। এ অবস্থায় এই উন্নয়ন প্রকল্প তেমন কাজে আসবে বলে মনে করি না।’
লঞ্চের নিয়মিত যাত্রী সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘নৌযান ও যাত্রী শূন্যতার এই সময়ে যাত্রী সেবার নামে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে তা হাস্যকর। যখন অসংখ্য লঞ্চ ও হাজার হাজার যাত্রী এই ঘাট দিয়ে যাতায়াত করত তখন কোনো উন্নয়ন করা হয়নি।’
প্রকল্প ব্যবস্থাপক আরমান হোসেন বলেন, ‘এটা হবে বরিশাল বিভাগের নান্দনিক ও আধুনিক নৌবন্দর টার্মিনাল। আমরা যাত্রীদের নিরাপত্তাকে প্রাধান্য দিয়ে ২০টি ফায়ার ওয়াটার ট্যাংক ইমার্জেন্সি পয়েন্ট চালু রাখতে পানির রিজার্ভার করেছি। এমন সুবিধা বরিশালে এই প্রথম। একটা সময় শুধু এই নদীবন্দরকে দেখতে এবং এর সৌন্দর্য উপভোগ করতে মানুষ বরিশাল আসবে।
বরিশাল বিভাগ উন্নয়ন পরিষদের সদস্যসচিব ডা. মিজানুর রহমান বলেন, ‘গত সরকারের সময় উন্নয়নের নামে অর্থ লোপাটের জন্য যে প্রকল্পগুলো বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল তা অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও চালিয়ে যাওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। বরং নদী ব্যবস্থাপনা ও সড়কের উন্নয়নের টেকসই প্রকল্প হাতে নেওয়া উচিত।’
বরিশালের বন্দর কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ সেলিম রেজা বলেন, আগে বরিশাল লঞ্চঘাট সরগরম থাকত, এখন যাত্রীদের চাপ কম। এক টার্মিনাল ভবনেই আমরা যাত্রীদের সব সুবিধা নিশ্চিত করতে যাচ্ছি। আমরা ভালো সুবিধা দিলে যাত্রী বাড়বে। প্রকল্পটি শেষ হলে লঞ্চ বরিশালের যাত্রীদের নৌপথে ফিরিয়ে আনা যাবে। গত ঈদুল ফিতরের চেয়ে আসন্ন ঈদুল আজহায় লঞ্চযাত্রীদের আমরা ভালো সেবা দিতে পারব।’