পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার চালিতাবুনিয়া গ্রাম নদীভাঙনের মুখে পড়ে দিন দিন নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে। আগুনমুখা নদীর তীব্র ভাঙনে গত কয়েক মাসে বসতভিটা, কৃষিজমি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিলীন হয়েছে। প্রায় ৬০টি পরিবার ঘর হারিয়ে রাস্তার পাশে আশ্রয় নিয়েছে। বেড়িবাঁধ না থাকায় প্রতিদিন নতুন এলাকায় ভাঙন দেখা দিচ্ছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে চালিতাবুনিয়া একদিন মানচিত্র থেকেই হারিয়ে যাবে।
স্থানীয়রা বলছেন, গ্রামের মূল ভূখণ্ডের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ নদীতে বিলীন হয়েছে। ২০১৪ সাল থেকে এ জনপদে ভাঙন শুরু হয়। বর্তমানে প্রায় ১৫ হাজার মানুষ ইউনিয়নটিতে বসবাস করে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনটিও ইতোমধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া যে সাইক্লোন শেল্টারটি ছিল, সেটিও নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এতে ঘূর্ণিঝড়ের সময় স্থানীয় বাসিন্দাদের ঝুঁকি নিয়ে নিজেদের বাড়িতেই অবস্থান করতে হয়।
চালিতাবুনিয়ার বাসিন্দা কবির হাওলাদার বলেন, ‘আমার দুই একর জমি ছিল। নদী সব ভেঙে নিয়ে গেছে। ঘরবাড়ি ভেঙে নিয়ে গেছে। এখন পর্যন্ত তিনবার ঘর পরিবর্তন করেছি। যেখানেই ঘর বাঁধি সেখানেই ভাঙন শুরু হয়। এখনো এই এলাকা ছেড়ে যাওয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই। এত বছর ধরে নদী ভাঙছে অথচ আমাদের এখানে টেকসই বাঁধ নির্মাণ করা হয়নি। আমাদের এখানে একটি টেকসই বাঁধ নির্মাণের দাবি জানাচ্ছি।’
অপর বাসিন্দা রাজ্জাক বয়াতি বলেন, ‘জমিজমা সব নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এখন অন্যের জমিতে কাজ-কাম করে খাই। এরকম ভাঙতে থাকলে কাজ-কামও বন্ধ হয়ে যাবে, তখন না খেয়ে মরতে হবে। নদীভাঙনের কারণে আমরা যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি তাদের পুনর্বাসনের জন্য দাবি জানাচ্ছি।’
চালিতাবুনিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. বিপ্লব হাওলাদার বলেন, ‘আমরা পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বারবার জানিয়েছি। তারা এলাকা পরিদর্শন করেছেন, কিন্তু এখনো কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেননি। এভাবে চলতে থাকলে পুরো ইউনিয়নই বিলীন হয়ে যাবে।’
রাঙ্গাবালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইকবাল হাসান জানান, ভাঙনকবলিত চালিতাবুনিয়া রক্ষার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে স্থায়ী ব্লক বাঁধ নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বলা হবে।
কলাপাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহ আলম বলেন, ‘চালিতাবুনিয়া ইউনিয়নের ভাঙনরোধে দুই কিলোমিটার বেড়িবাঁধের জন্য এ বছর প্রস্তাব দিয়েছি। প্রকল্প অনুমোদন হলে কাজ শুরু করতে পারব।