চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার কেঁওচিয়া ইউনিয়নের দস্তিদার হাটে আবদুর রহমান (৩৭) নামে এক শিক্ষককে রশি দিয়ে খুঁটি সঙ্গে বেঁধে মারধরের ঘটনায় জড়িত ২ আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে সাতকানিয়া থানা পুলিশ।
রবিবার (২৯ জুন) বিকাল ৫টার দিকে খবরের কাগজের অনলাইনে ‘সাতকানিয়ায় জায়গা সংক্রান্ত বিরোধে শিক্ষককে মারধর’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হবার পর রাত ৮ টার দিকে ভুক্তভোগী শিক্ষক আবদুর রহমানের স্ত্রী রোকসানা আক্তার (৩৩) বাদী হয়ে ৬ জনের নাম উল্লেখ করে ৬ থেকে ৭ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে সাতকানিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
পরবর্তীতে সংবাদটি সোমবার (৩০ জুন) খবরের কাগজের ছাপা সংস্করণে ‘শিক্ষককে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে প্রকাশ্যে মারধর’ শিরোনামে প্রকাশিত হয়।
মামলা দায়েরের পরপরই সাতকানিয়া থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে মো. হান্নান (৪৫) ও আবু বক্কর (৫৫) নামে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তাররা উভয়েই উপজেলার কেঁওচিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত শামসুল ইসলামের ছেলে এবং এ মামলার এজহারভুক্ত আসামি।
এ মামলার অপর এজহারভুক্ত আসামিরা হলেন- মৃত শামসুল ইসলামের বাকি তিন ছেলে মো. হান্নান (৪২), মো. সোহাগ (৪৫), মো. ইকবাল (৩৮) ও গ্রেপ্তার আবু বক্করের ছেলে মুসলিম উদ্দিন হিরু (২৬)।
অপরদিকে মারধরের শিকার শিক্ষক আবদুর রহমান (৩৭) বান্দরবান সদর উপজেলার সুয়ালক ইউনিয়নের ভাগ্যকুল কদুখোলা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। এ ছাড়াও তিনি চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার কেঁওচিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বুচির পাড়ার মৃত শফিকুর রহমান পুত্র।
ওই শিক্ষককে মারধরের একটি ভিডিও শনিবার (২৮ জুন) রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ব্যাপক ভাইরাল হয়। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এ ছাড়াও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ব্যবহারকারীরা এ ঘটনাকে ন্যক্কারজনক আখ্যা দিয়ে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
মামলার বাদী রোকসানা আক্তার খবরের কাগজকে বলেন, আমার স্বামীকে দোকানের খুঁটির সঙ্গে রশি দিয়ে বেঁধে মারধরের ঘটনার পর তিনি ভেঙে পড়েন। এ ছাড়াও আসামিরা এলাকায় প্রভাবশালী হওয়ায় মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে তিনি ভয় পান। কিন্তু খবরের কাগজের অনলাইনে নিউজটি দেখার পর আমার স্বামী মামলা দায়েরের সিদ্ধান্ত নেন। আমার স্বামীর মাথায় ও চোখে বেশি আঘাত করা হয়েছে। এখনো তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন। তাই আমি বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেছি।
সাতকানিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাহেদুল ইসলাম বলেন, মামলা দায়েরের পরপরই এ ঘটনায় জড়িত ২ আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতের নিকট সোপর্দ করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
মো. আরিফুল ইসলাম/