বর্ষার শুরুতেই রাজশাহীর চারঘাটের ইউসুফপুর ইউনিয়নের সাহাপুর এলাকার পদ্মা নদীতে আবারও দেখা দিয়েছে তীব্র ভাঙন। পানির স্তর বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভাঙনের ভয়াবহতাও বেড়ে চলেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে ভাঙনের শিকার হলেও এখনো কোনো স্থায়ী প্রতিরোধব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। ফলে রাতের পর রাত আতঙ্কে কাটছে তীরবর্তী মানুষের।
সোমবার (৩০ জুন) সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, সাহাপুরের একাধিক পরিবার নদীর ভাঙন থেকে ঘরবাড়ি রক্ষার শেষ চেষ্টা করছেন। কেউ ঘরের মালপত্র সরাচ্ছেন, কেউ আবার চোখের সামনে ভেঙে পড়া ঘর দেখতে বাধ্য হচ্ছেন।
স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যমতে, গত কয়েক বছরেই সাহাপুর ও আশপাশের এলাকায় কয়েকশ পরিবার ভূমিহীন হয়ে পড়েছে। অনেকেই অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। এ কারণে নদীর তীরবর্তী মানুষের একটাই দাবি, জিও ব্যাগ দিয়ে নয়, সিসি ব্লক দিয়ে নদীর পাড় রক্ষা করতে হবে। এতে একদিকে যেমন সম্পদ রক্ষা পাবে, অন্যদিকে মানসিক শান্তি ফিরবে মানুষের মধ্যে। স্থানীয় রিয়াদ আলী বলেন, ‘প্রতিবছরই নদীভাঙনে আমাদের জমি আর ঘর চলে যাচ্ছে। স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। কিছু জিও ব্যাগ ফেলা হয় শুধু লোক দেখানো কাজ হিসেবে।’
একই কথা বলেন শীলা মণ্ডল। তার ভাষ্য, ‘বছরের পর বছর ধরে আমরা ভাঙনের শিকার। এবারও পানি বাড়তেই নতুন করে ভাঙন শুরু হয়েছে। কিন্তু তেমন কোনো পদক্ষেপ নেই। আর পদক্ষেপ নেওয়া হলেও সেটা কার্যকর হয় না।’
সাহাপুরের দোকানদার নূর ইসলাম বলেন, ‘জিও ব্যাগ দিয়ে কিছুই হবে না। বাঁধ নির্মাণ ছাড়া ভাঙনরোধ সম্ভব নয়। আমরা ভিক্ষা চাই না, শুধু চাই নিরাপদে বসবাস করতে।’ স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আরিফুল ইসলাম মাখন বলেন, ‘বিষয়টি আমি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানিয়েছি। জরুরি ভিত্তিতে কিছু ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’ এ দিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের রাজশাহী বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী পার্থ জানান, ‘ভাঙন রোধে জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে। তবে নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় নতুন নতুন জায়গায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। প্রয়োজনে আরও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, ‘ভাঙনের খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থল পরিমর্শন করেছি। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তীরবর্তী মানুষের সঙ্গে আমাদের নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে।’