বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার জিয়ানগর লক্ষ্মীমন্ডপ গ্রামে নৃশংস হত্যাকাণ্ডে শ্বশুর ও পুত্রবধূ হত্যা মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ।
সোমবার (১৪ জুলাই) রাত সাড়ে ১২টায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ঢাকার কমলাপুর স্টেশন থেকে গ্রেপ্তার করে বগুড়া জেলার দুপচাঁচিয়া উপজেলার বেরুঞ্জ গ্রামের মো. আব্দুল করিমের ছেলে মো. আব্দুল হাকিম (৩৪) ও একই উপজেলার লক্ষ্মীমন্ডপ গ্রামের মৃত মোকবুল হোসেনের ছেলে মো. আব্দুল মান্নানকে (৫০) এবং কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার চর জামাল গ্রাম থেকে গ্রেপ্তার হন আরেক আসামি আদমদীঘি উপজেলার বাশিকোড়া গ্রামের মৃত লছির আকন্দের ছেলে মো. রফিকুল ইসলাম (৪১)।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশের তথ্য মতে, গত মঙ্গলবার (৮ জুলাই) রাতে নিজ বাড়িতে হত্যা করা হয় শ্বশুর মো. আফতাব আলী (৬৫) ও তার পুত্রবধূ রিভা আক্তার (৩০)কে।
বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) হোসাইন মুহাম্মদ রায়হান জানিয়েছেন, আসামিরা ডাকাতির উদ্দেশ্যে নিহত আফতাব আলীর বাড়িতে কৌশলে প্রবেশ করে। আফতাব আলীর ঘরের দরজায় ধাক্কা দিয়ে বারবার ডাকাডাকি করলে তিনি বের হন। এসময় তারা আফতাব আলীর ডান চোখে আঘাত করলে তিনি মাটিতে পরে যান এবং তাৎক্ষণিক তার হাত, পা ও মুখ বেঁধে শ্বাসরোধ করে হত্যা নিশ্চিত করে। এ অবস্থায় পুত্রবধূ রিভা জানতে পেরে দরজা খুললে তাকে একই অবস্থায় শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। রিভার শিশু কন্যাকে চোখ বন্ধ করতে বললে সে ভয়ে চুপ করে থাকে। এসময় কাছে থাকা স্বর্ণের বিভিন্ন গয়না ও নগদ ৬ লাখ ২০ হাজার এবং মোবাইল ফোন নিয়ে মূল গেট দিয়ে বের হয়ে যায়। এ ঘটনায় নিহত আফতাব আলীর মেয়ে তহমিনা বিবি বাদী ওই দিন অজ্ঞাত ব্যক্তির নামে মামলা করেন।
পুলিশের তথ্য মতে, আফতাব আলীর ছেলে নিহত রিভার স্বামী মো. শাজাহান আলী একজন সৌদি প্রবাসি। বাড়িতে পুরুষ মানুষ না থাকায় আব্দুল মান্নান এ হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনা করেন। তিনি অনেকদিন ধরে নিহত আফতাব আলীর বাড়িতে কাজ করতেন। এক সময় বাড়ির লোকজন জানতে পারে যে, আব্দুল মান্নান নেশাগ্রস্ত ও নানা অপকর্মের সঙ্গে জড়িত। এ অবস্থায় আফতাব আলী তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেন। এ রাগে আব্দুল মান্নান ডাকাত সরদার আব্দুল হাকিম ও রফিকুল ইসলামের সঙ্গে পরিকল্পনা করে এ হত্যাকাণ্ড ঘটায়। ডাকাত সরদার আব্দুল হাকিম আরও ৭টি মামলার আসামি বলে জানায় পুলিশ।
রিপন কুমার দাস/মাহফুজ