ঢাকা ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, রোববার, ০৭ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
সক্ষমতা বাড়াতে সুপরিকল্পিত বাজেটের তাগিদ টেকনাফ দিয়ে মাছ ধরা নৌকায় মানবপাচার প্রাকৃতিকভাবেই এইচআইভি দমনে সক্ষম দুই নারীর গল্প ঝিনাইদহে শিশু ধর্ষণের অভিযোগে গ্রাম্য চিকিৎসক আটক নিশ্চিহ্নের পথে শেরেবাংলার জন্মভিটা শিশু রামিসা হত্যা মামলার রায় আজ আম পাড়া নিয়ে ব্যস্ত মৌসুমি শ্রমিকরা মিউচুয়াল ফান্ড ও মার্জিন ঋণ বিধিমালা বাতিলের দাবি খুলনায় ধারাবাহিক খুন-চাঁদাবাজিতে উদ্বেগ, কাজে আসছে না বিশেষ অভিযানও নারায়ণগঞ্জে এনসিপির অনুষ্ঠানের চেয়ার টেবিল ভাঙচুর, আহত ১০ জয়পুরহাটে দিনমজুরকে পিটিয়ে হত্যা গ্রাহকের ব্যানারে আন্দোলনে ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তারা এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার বিষয় ও কর্মদিবস কমানোর পরিকল্পনা ক্যানসার চিকিৎসায় নতুন যুগের সূচনা পুঁজিবাজারে লেনদেন বেড়েছে ৪৫ শতাংশ সাভারে তিন কারখানা থেকে ১৮৬৮ শ্রমিক অব্যাহতি এখনো উৎপাদনে আসেনি বন্ধ চিনিকল ৭ জুন: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল সিরাজগঞ্জে ৪০০ একর জমির ওপর শিল্প পার্ক ৭ জুন: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল ‘বরফ চিবিয়ে’ দিন পার, হামাগুড়ি দিয়ে বেস ক্যাম্পে ফেরা, বেঁচে ফেরা পর্বতারোহীর রোমহর্ষক বর্ণনা বন্ধ কারখানা চালু হলে গতি ফিরবে অর্থনীতিতে ময়মনসিংহে বাড়তি ভাড়া আদায়ে যাত্রীদের ভোগান্তি দিল্লিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র সমাবেশ যত আক্রোশ মুক্তিযুদ্ধে ৭ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি বাজেট অধিবেশন বসছে আজ দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ জনগণের একমাত্র আকাঙ্ক্ষা: সারোয়ার ওয়াদুদ চৌধুরী দৌলতদিয়া ফেরিতে বাস দুর্ঘটনায় গ্রেপ্তার ৩ শরীয়তপুরে আওয়ামী লীগের বিক্ষোভ মিছিল
Nagad desktop

গোপালগঞ্জে আওয়ামী লীগ-পুলিশ সংঘর্ষ: গ্রেপ্তার ১৬৪

প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৫, ১১:২০ পিএম
গোপালগঞ্জে আওয়ামী লীগ-পুলিশ সংঘর্ষ: গ্রেপ্তার ১৬৪
ছবি: খবরের কাগজ

গোপালগঞ্জে এনসিপির পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া আওয়ামী লীগের সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনায় নতুন করে আরও ১১৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ নিয়ে জেলায় মোট গ্রেপ্তারের সংখ্যা দাঁড়ালো ১৬৪ জনে।

জেলার ৫ থানার অফিসার ইনচার্জগণ (ওসি) শুক্রবার (১৮ জুলাই) সন্ধ্যায় এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তারা জানান, গোপালগঞ্জে এনসিপির পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়। এসময় জেলার ৫ উপজেলায় অভিযান চালিয়ে নতুন করে আরও ১১৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ নিয়ে জেলায় মোট গ্রেপ্তারের সংখ্যা দাঁড়ালো ১৬৪ জনে। এর মধ্যে সদর থানায় ৪৫ জন, মুকসুদপুর থানায় ৬৬ জন, কাশিয়ানী থানায় ২৪ জন, টুঙ্গিপাড়া থানায় ১৭ জন এবং কোটালীপাড়া থানায় ১২ জন রয়েছে। তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে বলে বিভিন্ন থানার ওসিগণ জানিয়েছেন।

গত বুধবার গোপালগঞ্জে এনসিপির পদযাত্রা ও পথসভা ভণ্ডুল করতে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের শত-শত নেতাকর্মী হামলা চালায়। পরে তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। দিনভর চলা সংঘর্ষে ৫ যুবক নিহত ও পুলিশ সাংবাদিক-সহ শতাধিক মানুষ আহত হয়। এ ঘটনার দুই দিন পর আজ শুক্রবার পুলিশ বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করল।

বাদল সাহা/মাহফুজ

 

টেকনাফ দিয়ে মাছ ধরা নৌকায় মানবপাচার

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০৯:২৫ এএম
আপডেট: ০৭ জুন ২০২৬, ০৯:৩৭ এএম
টেকনাফ দিয়ে মাছ ধরা নৌকায় মানবপাচার
ছবি: খবরের কাগজ

কক্সবাজারের টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের একটি স্কুলে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে আল শাহারিয়া। কয়েক দিন আগে বলীখেলা দেখতে যাওয়ার পথে সে অপহরণের শিকার হয়। দুই অজ্ঞাত ব্যক্তি তাকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে নেয়। এরপর তার খোঁজ মিলছিল না। গত শুক্রবার রাতে তাকে উদ্ধার করে কোস্টগার্ড। বাহারছড়ার মারিচবনিয়া উপকূল দিয়ে সাগরপথে তাকে ট্রলারে করে মালয়েশিয়া পাচার করা হচ্ছিল। ওই ট্রলারে অভিযান চালিয়ে আল শাহারিয়াসহ ৫০ জনকে উদ্ধার করে কোস্টকার্ড। এ সময় আটক করা হয় মানব পাচারে জড়িত ৯ জনকে।

শাহারিয়ার দাবি, ফারুক নামে এক ব্যক্তি তাকে মানবপাচারকারী দালাল চক্রের কাছে বিক্রি করে দিয়েছিল।

অভিযানে উদ্ধার ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, বিদেশে উন্নত জীবন ও উচ্চ বেতনে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গাদের সংঘবদ্ধ মানব পাচারকারী চক্র টেকনাফে নিয়ে আসে। পরে তাদের গোপন আস্তানায় আটকে রেখে পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায় করা হয়। এরপর সুযোগ বুঝে তাদের সাগরপথে মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে পাচারের পরিকল্পনা করে। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে অনেককে অপহরণ করে এনেও পাচারের চেষ্টা ও মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনা রয়েছে। 

অভিযোগ রয়েছে, টেকনাফের বিভিন্ন উপকূলীয় নৌঘাট ও সংলগ্ন এলাকা দীর্ঘদিন ধরে মানবপাচারকারীদের রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। স্থানীয়দের দাবি, এসব এলাকা থেকে নৌপথে বিভিন্ন ধরনের অবৈধ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। চিহ্নিত ঘাটগুলোর মধ্যে রয়েছে বাহারছড়া ইউনিয়নের নোয়াখালীপাড়া, শীলখালী, বড় ডেইল, কচ্ছপিয়া, মাথাভাঙ্গা ও মারিচবনিয়া নৌঘাট।

গতকাল শনিবার কেরুনতলি টেকনাফ কোস্টগার্ড স্টেশনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাহিনীটির স্টেশন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মুত্তাকীন সিদ্দিকী বলেন, বিপুলসংখ্যক মানুষকে সাগরপথে মালয়েশিয়ায় পাচারের প্রস্তুতি চলছে—এমন গোপন তথ্যে গত শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত অভিযান চালানো হয়। এ সময় একটি সন্দেহভাজন ট্রলারকে থামার সংকেত দিলে সেটি পালানোর চেষ্টা করে। পরে ধাওয়া করে টেকনাফের বাহারছড়াসংলগ্ন সমুদ্র এলাকায় এটিকে থামানো হয়। এ সময় ৫০ ভুক্তভোগীকে উদ্ধার ও ৯ পাচারকারীকে আটক করা হয়। 

মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আটক ট্রলারের স্টাফরা অবশ্য নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন। বলেছেন, মাছ ধরার কথা বলে তাদের সমুদ্রে নামানো হয়। পরে ট্রলারমালিক তাদের মানুষ টানতে বাধ্য করেন। স্টাফদের একজন সিরাজুল ইসলাম। তিনি জানান, তাকে মাছ ধরতে যাওয়ার কথা বলে ট্রলারে আনা হয়েছিল। তারা দুই দিন সাগরে মাছ শিকার করেন। পরে হঠাৎ জাল তুলে ট্রলারটি টেকনাফের বাহারছড়া মরিশবুনিয়াসংলগ্ন সাগরে নোঙর করা হয়। 

তিনি বলেন, ‘ট্রলারে মোট ১৪ জন মাঝি-মাল্লা ছিলেন। একপর্যায়ে একটি ছোট মাছ ধরার ডিঙি নৌকায় করে কয়েকজন লোককে এনে ট্রলারে তোলা হয়। বিষয়টি মাঝির কাছে জানতে চাইলে তিনি তখন জানান, এটি মালিকের নির্দেশে করা হয়েছে। পরে ওই লোকজন রাতেই ট্রলারে অবস্থান নেন।’ 
সিরাজুল জানান, পরে কোস্টগার্ড ট্রলারটি ঘিরে ফেলে। এ সময় মাঝি শাহীনসহ কয়েকজন সাগরে লাফ দিয়ে পালিয়ে যান। তিনি দাবি করেন, ট্রলারের মালিক জসিম এবং মাঝি শাহীন হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে যোগাযোগ করে এসব অপকর্ম করতেন। তাদের মাছ ধরার কাজের কথা বলে ট্রলারে আনা হলেও প্রকৃতপক্ষে অন্য উদ্দেশ্যে ট্রলারটি ব্যবহার করা হচ্ছিল।

টেকনাফের নোয়াখালীপাড়া এলাকার বাসিন্দা ও চলচ্চিত্র অভিনেতা ইলিয়াস কোবরা বলেন, ‘নোয়াখালীপাড়া থেকে বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের দূরত্ব প্রায় ২৫ কিলোমিটার। এই দীর্ঘ দূরত্বের সুযোগ নিয়ে পাহাড়ি সন্ত্রাসীরা ডাকাতি, অপহরণসহ বিভিন্ন অপরাধ সংঘটিত করে দ্রুত পাহাড়ে পালিয়ে যায়। এলাকাবাসীর নিরাপত্তার স্বার্থে নোয়াখালীপাড়ায় একটি পুলিশ চৌকি স্থাপন করা জরুরি।’

বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক আবু সাঈদ জানান, মানবপাচার, অপহরণ ও অন্যান্য অপরাধ প্রতিরোধে উপকূলীয় ও পাহাড়ি এলাকায় টহল কার্যক্রম এবং চেকপোস্টের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে ১০০ সদস্যের একটি গ্রাম প্রতিরোধ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা শিগগিরই বাস্তবায়ন করা হবে।

নিশ্চিহ্নের পথে শেরেবাংলার জন্মভিটা

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০৯:১২ এএম
আপডেট: ০৭ জুন ২০২৬, ০৯:১৪ এএম
নিশ্চিহ্নের পথে শেরেবাংলার জন্মভিটা
ঝালকাঠির রাজাপুরের সাতুরিয়া গ্রামে অযেত্ন পড়ে থাকা শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের জন্মভিটা। ছবি: খবরের কাগজ

ঝালকাঠির রাজাপুরের সাতুরিয়া গ্রামে দাঁড়িয়ে আছে এক নীরব ইতিহাস। ভাঙাচোরা দেয়াল, খসে পড়া পলেস্তারা আর আগাছায় ঢেকে যাওয়া প্রাঙ্গণ-এ সবকিছুর মাঝেই যেন হারিয়ে যেতে বসেছে বাংলার কিংবদন্তি নেতা শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের জন্মভিটা।

একসময় যে জমিদারবাড়ির আঙিনায় ছিল মানুষের পদচাণ ও প্রাণচাঞ্চল্য, সেখানে এখন নেমে এসেছে গভীর নীরবতা। অবিভক্ত বাংলার এই প্রখ্যাত রাষ্ট্রনায়ক, কৃষক-প্রজার অধিকার আন্দোলনের অগ্রদূত ও ‘শেরেবাংলা’ খ্যাত এ কে ফজলুল হক ১৮৭৩ সালের ২৬ অক্টোবর এই বাড়িতেই জন্মগ্রহণ করেন। অথচ শতবর্ষ পেরিয়ে সেই ঐতিহাসিক স্থাপনাই আজ অবহেলা ও অযত্নে ধুঁকছে।

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার সাতুরিয়া ইউনিয়নের মিয়া বংশের পুরোনো জমিদারবাড়িতে পা রাখলেই চোখে পড়ে শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের স্মৃতিবিজড়িত জন্মভিটা। একসময় ঐতিহ্যবাহী এই ভবনটি এখন জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। ভাঙাচোরা দেয়াল, খসে পড়া পলেস্তারা আর আগাছায় ঢেকে যাওয়া আঙিনা যেন দীর্ঘদিনের অবহেলা আর অযত্নের সাক্ষ্য বহন করছে। কোথাও কোথাও উন্মুক্ত হয়ে আছে শতবর্ষী ইটের গাঁথুনি, আবার বিভিন্ন দেয়ালে দেখা দিয়েছে ফাটল। চারপাশজুড়ে ঝোপঝাড়ের বিস্তার ভবনটিকে আরও নিঃসঙ্গ করে তুলেছে। দীর্ঘদিন ধরে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে স্থাপনাটির ঐতিহ্য ও সৌন্দর্য অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, দিনের বেলাতেও নির্জন ও অযত্নে পড়ে থাকা ভবনটি অনেকটা পরিত্যক্ত বাড়ির মতো। অথচ এই জন্মভিটা বহন করছে বাংলার ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের স্মৃতি। প্রতিবছর দেশ-বিদেশের গবেষক, শিক্ষার্থী ও ইতিহাস-অনুরাগীরা শেরেবাংলার স্মৃতিবিজড়িত এই স্থান দেখতে আসেন। তবে জরাজীর্ণ ভবন ও অব্যবস্থাপনা দেখে অনেকেই হতাশ হয়ে ফিরে যান।

স্থানীয়রা জানান, ২০১০ সালের ১৮ মার্চ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর শেরেবাংলার জন্মভিটাকে সংরক্ষিত পুরাকীর্তি হিসেবে গেজেটভুক্ত করে। একই বছর একটি নামফলক স্থাপন ও সীমিত পরিসরে সংস্কারকাজ করা হয়। পরে ২০১৭ সালে ভবনের ছাদের কিছু অংশ মেরামত করা হলেও এরপর আর কোনো উল্লেখযোগ্য কাজ হয়নি।

স্থানীয় বাসিন্দা মাহবুবুর রহমান বলেন, সংরক্ষিত পুরাকীর্তি হিসেবে ঘোষণার পর এলাকাবাসী আশা করেছিলেন জন্মভিটাটি একটি আকর্ষণীয় ঐতিহাসিক স্থানে পরিণত হবে। কিন্তু বাস্তবে তেমন কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। দ্রুত সংস্কার না হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম হয়তো বইয়ের পাতাতেই শেরেবাংলার জন্মভিটার কথা পড়বে।

শেরেবাংলার নিকটাত্মীয় হোসনেয়ারা বেগম বুলু দীর্ঘদিন ধরে ভবনটির একটি অংশে বসবাস করছেন। তিনি বলেন, কয়েক বছর আগে ছাদের কিছু অংশ মেরামত করা হয়েছিল। এরপর আর কেউ খোঁজ নিতে আসেনি। বৃষ্টি, রোদ ও সময়ের ক্ষয়ে ভবনটির অবস্থা ক্রমেই খারাপ হচ্ছে।

ইতিহাসবিদ সিরাজ উদ্দিন আহমদের মতে, সাতুরিয়ার এই জমিদারবাড়ি শুধু একটি পুরোনো স্থাপনা নয়, এটি বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ স্মারক। শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের শৈশব ও কৈশোরের একটি বড় অংশ কেটেছে এই গ্রামে। বরিশাল জিলা স্কুলে ভর্তি হওয়ার আগে এখানেই তার প্রাথমিক শিক্ষার হাতে খড়ি।

বরিশালের গবেষক ও লেখক কবি হেনরী স্বপন বলেন, সাতুরিয়া গ্রামের পুরোনো জমিদারবাড়ির ভাঙা দেয়ালে হাত রাখলে যেন ইতিহাসের স্পন্দন অনুভব করা যায়। এই বাড়িতেই ১৮৭৩ সালের ২৬ অক্টোবর জন্ম নিয়েছিলেন অবিভক্ত বাংলার কিংবদন্তি নেতা শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক। 

তিনি আরও বলেন, শেরেবাংলার জন্মভিটাকে কেন্দ্র করে একটি পূর্ণাঙ্গ জাদুঘর, গবেষণা কেন্দ্র এবং পর্যটনবান্ধব অবকাঠামো গড়ে তোলা হোক। এতে নতুন প্রজন্ম দেশের ইতিহাস জানার সুযোগ পাবে এবং এলাকাটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত হবে।

রাজাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত আরা মৌরি বলেন, শেরেবাংলার জন্মভিটা সংরক্ষণের বিষয়ে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি দর্শনার্থীদের যাতায়াত সহজ করতে যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নেও পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

জয়পুরহাটে দিনমজুরকে পিটিয়ে হত্যা

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০৮:৫৮ এএম
আপডেট: ০৭ জুন ২০২৬, ০৮:৫৮ এএম
জয়পুরহাটে দিনমজুরকে পিটিয়ে হত্যা
ছবি: খবরের কাগজ

জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলায় শ্যামল চন্দ্র মালী নামে এক দিনমজুরকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। 

শনিবার (৬ জুন) বিকেলে উপজেলার কাশিড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত হাসান আলীকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে গ্রামবাসী।

নিহত শ্যামল চন্দ্র মালী আক্কেলপুর উপজেলার কাশিড়া শীলপাড়া গ্রামের বীরেন চন্দ্রের ছেলে। আর আটক হাসান আলী একই উপজেলার ঢেকুঞ্চা বাউস্ত গ্রামের রেজাউল দেওয়ানের ছেলে।

আক্কেলপুর থানার অফিসার ইনচার্জ শাহীন রেজা জানান, শনিবার (৬ জুন)বিকেলে শ্যামল চন্দ্র মালী কাশিড়া হাটে যাওয়ার পথে সড়কের মাঝে হাসান আলীর সঙ্গে দেখা হয়। সেখানে একটি জমির ধান কাটার বিষয়ে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। এক পর্যায়ে হাসান পেছন থেকে একটি গাছের ডাল দিয়ে তার মাথার পেছনে আঘাত করেন। 

এতে গুরুতর আহত হয়ে তিনি সড়কে লুটিয়ে পড়েন। এ সময় স্থানীয়রা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে আক্কেলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর অভিযুক্তকে স্থানীয়রা আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। 

এ ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান ওসি।

সাগর কুমার/অন্তরা

ময়মনসিংহে বাড়তি ভাড়া আদায়ে যাত্রীদের ভোগান্তি

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০৮:২৬ এএম
আপডেট: ০৭ জুন ২০২৬, ০৯:০৪ এএম
ময়মনসিংহে বাড়তি ভাড়া আদায়ে যাত্রীদের ভোগান্তি
মাসকান্দা বাসস্ট্যান্ড

ঈদুল আজহার ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরতে চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন ময়মনসিংহ অঞ্চলের হাজারো যাত্রী। নির্ধারিত ভাড়ার চার থেকে পাঁচ গুণ পর্যন্ত অতিরিক্ত ভাড়া আদায় এবং যাত্রী হয়রানির অভিযোগ উঠেছে বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালকদের বিরুদ্ধে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান ও জরিমানা কার্যক্রম চললেও পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি বলে দাবি ভুক্তভোগীদের।

শনিবার (৬ জুন) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত নগরীর পাটগুদাম ব্রিজ মোড়, মাসকান্দা বাসস্ট্যান্ড ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে নগরীর বাইপাস মোড় ঘুরে দেখা যায়, কর্মস্থলে ফেরা যাত্রীদের দীর্ঘ সারি। অনেকেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও গন্তব্যে যেতে নির্ধারিত ভাড়ায় যানবাহন পাননি। ফলে বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়েই তারা রওনা হচ্ছেন।

নগরীর বাইপাস মোড়ে ফরিদ আহমেদ নামে এক যাত্রী বলেন, ‘ইউনাইটেড ছাড়া অন্যান্য বাসে সাধারণ সময়ে ময়মনসিংহ থেকে ঢাকায় যেতে যে ভাড়া ২০০ থেকে ২৫০ টাকা, সেখানে গাজীপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত যেতেই ৫০০ টাকা ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। আমাদের বাধ্য হয়েই যেতে হচ্ছে।’
গাজীপুরে গার্মেন্টে কাজ করেন আরিফা খাতুন। তিনি বলেন, ‘ছুটি শেষে কাজে যোগ না দিলে চাকরি নিয়ে সমস্যা হতে পারে। তাই বাধ্য হয়ে বেশি ভাড়া দিয়ে যেতে হচ্ছে।’

জুয়েল রানা নামে এক বাসচালক বলেন, ‘অনেকেই বাড়তি ভাড়া নিচ্ছে। তাই আমিও নিচ্ছি। তবে আগের চেয়ে মাত্র ৫০ টাকা বেশি নিচ্ছি। অন্যরা আরও বেশি টাকা নিচ্ছে।’

মটর মালিক সমিতির সভাপতি আলমগীর মাহমুদ আলম বলেন, ‘কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটতে পারে। তবে সব পরিবহনকে দায়ী করা ঠিক হবে না। আমরাও চাই ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান নিয়মিত চলুক।’

এ বিষয়ে বিআরটিএ ময়মনসিংহের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইফফাত হাশেম বলেন, ‘অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও যাত্রী হয়রানির বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অভিযোগ পাওয়া মাত্রই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। যাত্রীদের স্বার্থ রক্ষায় নিয়মিত মনিটরিং ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।’

দৌলতদিয়া ফেরিতে বাস দুর্ঘটনায় গ্রেপ্তার ৩

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ১০:৪৭ পিএম
দৌলতদিয়া ফেরিতে বাস দুর্ঘটনায় গ্রেপ্তার ৩
গ্রেপ্তার হওয়া বাস চালক, হেলপার ও সুপার ভাইজার। ছবি: খবরের কাগজ

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরিঘাটে ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় বাসের চালক, সুপারভাইজার ও চালকের সহকারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে নৌ পুলিশ। এ দুর্ঘটনায় ফেরির অবকাঠামো ও যাত্রীদের মালামাল মিলিয়ে প্রায় ৩ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

শুক্রবার (৫ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরিঘাট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। রাতে দৌলতদিয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আবুজার গিফারী বাদী হয়ে গোয়ালন্দঘাট থানায় মামলাটি করেন।

গ্রেপ্তাররা হলেন, কুষ্টিয়া সদর উপজেলার আলামপুর এলাকার বাসচালক মো. ঝন্টু আলী (৪৮), কুষ্টিয়ার সুগ্রীবপুর এলাকার সুপারভাইজার মো. আজমল হোসেন (৩৮) এবং আলামপুর এলাকার চালকের সহকারী শাকিব হোসেন (২২)।

এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন সকালে দৌলতদিয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ৭ নম্বর ফেরিঘাট এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে ছিলেন। সকাল ৯টা ২৫ মিনিটের দিকে কুাষ্টিয়া থে‌কে আসা ঢাকাগামী এসবি সুপার ডিলাক্স পরিবহনের বাসটি ফেরিঘাটে পৌঁছায়। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ফেরিতে ওঠার আগে যাত্রীদের বাস থেকে নামিয়ে দেওয়ার জন্য চালককে নির্দেশ দেন নৌ পুলিশ ও বিআইডব্লিউটিসির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা। নির্দেশনা অনুসারে বাসের যাত্রীরা নেমে পায়ে হেঁটে ফেরির দিকে যেতে থাকেন। এর কিছুক্ষণ পরই ঘটে বিপত্তি। চালক ঝন্টু আলী বাসটি স্টার্ট দিয়ে বেপরোয়া ও অবহেলামূলকভাবে চালাতে শুরু করেন।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, নির্ধারিত ফেরি 'বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর'-এ না তুলে বাসটি দ্রুতগতিতে পন্টুন অতিক্রম করে সেখানে অবস্থানরত 'করবী অক্সফ্যাম' ফেরির ওপর উঠে যায়। এরপর ফেরিটির শেষ প্রান্তের র‌্যাম্পে সজোরে ধাক্কা দিলে র‌্যাম্পের শিকল ও ছিটকিনি ছিঁড়ে যায় এবং বাসটি সরাসরি পদ্মা নদীতে পড়ে যায়।

নৌ পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বাসটি নদীতে পড়ে যাওয়ার আগমুহূর্তে সুপারভাইজার ও হেলপার কৌশলে লাফ দিয়ে ফেরিতে নেমে যান। আর চালক সাঁতরে পন্টুনের কাছে এলে নৌ পুলিশ ও স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়। পরবর্তীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনজনকেই গ্রেপ্তার করা হয়।

এজাহারে আরও বলা হয়, দুর্ঘটনায় করবী অক্সফ্যাম ফেরির র‌্যাম্প, ক্যাবল ও শিকল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পাশাপাশি যাত্রীদের ব্যাগ ও মালামালের একটি বড় অংশ পানিতে ভিজে, ডুবে বা হারিয়ে যায়। এতে সব মিলিয়ে আনুমানিক ৩ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

গোয়ালন্দঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সফিকুল ইসলাম জানান, নৌ পুলিশের দায়ের করা এজাহারের ভিত্তিতে পেনাল কোডের ২৭৯, ৪২৭, ১০৯ ও ৩৪ ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগে গত ২৫ এপ্রিল একই নৌরুটে সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি বাস পদ্মা নদীতে ডুবে গেলে নারী ও শিশুসহ ২৬ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। সেই ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর এবারের ঘটনায় চালকের বেপরোয়া গাড়ি চালানোকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা। বারবার এই ঘাটে দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তিতে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

সুমন/নাঈম