চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় নিষিদ্ধ ঘোষিত আগ্রাসী প্রজাতির ইউক্যালিপটাস ও আকাশমণি গাছের ১ লাখ ৯৪ হাজার ৯৪০টি চারা ধ্বংস করেছে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। ধ্বংস করা এসব চারার জন্য নার্সারি মালিকদের মোট ৭ লাখ ৭৯ হাজার ৭৬০ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামানের নেতৃত্বে গত কয়েক দিনে এসব চারা ধ্বংস করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে ১ লাখ ৯ হাজার ৯০০টি ইউক্যালিপটাস ও ৮৫ হাজার ৪০টি আকাশমণি গাছের চারা। প্রতিটি চারার বিপরীতে ৪ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ১০টি নার্সারির মালিক।
কাঞ্চনা ইউনিয়নের জকরিয়া নার্সারির মালিক মো. জকরিয়া ৫৫ হাজার চারার বিপরীতে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন। ছদাহা ইউনিয়নের বসুন্ধরা নার্সারির মালিক মো. মোস্তাফিজ ১ হাজার চারার বিপরীতে পেয়েছেন ৪ হাজার টাকা। একই ইউনিয়নের হারুন নার্সারির মালিক মো. হারুন ১৩ হাজার চারার বিপরীতে ৫২ হাজার টাকা পেয়েছেন। শাহ মজিদিয়া নার্সারির মালিক আবুল মকছুম পেয়েছেন ৩ হাজার চারার বিপরীতে ১২ হাজার টাকা। বাজালিয়া ইউনিয়নের ইসমাইল নার্সারির মালিক মো. ইসমাইল পেয়েছেন ৯০ হাজার চারার বিপরীতে ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা।
সাতকানিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ইউক্যালিপটাস ও আকাশমণি গাছ মাটি থেকে অতিমাত্রায় পানি শোষণ করে মাটিকে শুষ্ক করে ফেলে। এতে মাটির আর্দ্রতা কমে যায়। সরকার এ দুই প্রজাতির গাছ নিষিদ্ধ করেছে। সরকারের এ কার্যক্রমকে সফল করতে সাতকানিয়ায় প্রায় ১ লাখ ৯৫ হাজার ইউক্যালিপটাস ও আকাশমণি গাছের চারা ধ্বংস করা হয়েছে। নার্সারি মালিকদের প্রতিটি চারার জন্য ৪ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে।
সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিল্টন বিশ্বাস জানান, চারা ধ্বংসের পর সংশ্লিষ্ট নার্সারি মালিকদের কাছ থেকে লিখিত অঙ্গীকারনামা নেওয়া হয়েছে। তারা ভবিষ্যতে ইউক্যালিপটাস ও আকাশমণি গাছের চারা উৎপাদন, মজুত ও বিক্রি করতে পারবে না। কেউ অঙ্গীকার ভঙ্গ করলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।