ঢাকা ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
শাহজালালের কার্গো শেডে আগুন শূন্যরেখায় মানবেতর জীবন শিকলবাহায় হত‍্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে মরদেহ নিয়ে মহাসড়কে বিক্ষোভ অ্যালামনাই প্ল্যাটফর্ম ০২০৪ ব্যাচের বন্ধুদের ঈদ পরবর্তী পুনর্মিলনী মায়ানমারে পাচারকালে দেড় হাজার বস্তা সিমেন্ট আটক ৫২ মরুভূমিতে বিকল ট্রাক, পানির অভাবে ৪৯ জনের মৃত্যু মেধা ও ক্রীড়াবান্ধব জাতি গঠনে সরকার বহুমুখী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী নোয়াখালীতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল ভক্তদের শোডাউন সরকারকে ৭ দিনের আলটিমেটাম ইনকিলাব মঞ্চের প্রথমবার এআই তৈরি করল ‘সুপার-ভ্যাকসিন’ হাদি হত্যা মামলার বাদীকে নিয়ে বোনের প্রশ্ন? জয়পুরহাট সীমান্তে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবির টহল জোরদার রাজনীতি এক ভয়ংকর পরিস্থিতির দিকে ধাবিত হচ্ছে: মির্জা ফখরুল হজ শেষে দেশে ফিরলেন ২৯,৬৯৪ হাজি নারায়ণগঞ্জে ১৭ বন্যপাখি উদ্ধার ও অবমুক্ত হান্নানের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির তথ্য ফাঁস, ছাত্রদল নেতার বাড়িতে হামলার অভিযোগ নায়িকা মিমির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট, শেষ দেখে নেওয়ার হুমকি! দোয়া গুরুত্বপূর্ণ এক ইবাদত সংসদ ভবন এলাকায় আগ্নেয়াস্ত্র বহনসহ মিছিল-সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা কটাক্ষের শিকার আনুশকা কলকাতার মেয়র পদ ছাড়লেন ফিরহাদ হাকিম চট্টগ্রামে কাফনের কাপড় পরে যুবলীগের বিক্ষোভ মিছিল হরোস্কোপের গোলকধাঁধায় ভবিষ্যৎ ভাবনা বিয়ে করলেন উপস্থাপিকা দীপ্তি চৌধুরী উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের মানসিকতা সরকারের নেই: তথ্য প্রতিমন্ত্রী দিনে দিনেই ঘুরে আসুন মৈনট ঘাট থেকে পাবনায় ২০০ একর জমির ওপর বিসিক শিল্পনগরী গড়ে তোলা হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী সবার সহযোগিতায় বাসডুবিতে কোনো প্রাণহানি ঘটেনি: নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী
Nagad desktop

গণ-অভ্যুত্থানের উত্তাল দিনগুলো সিরাজগঞ্জে একদিনে প্রাণ যায় ২৯ জনের

প্রকাশ: ০৪ আগস্ট ২০২৫, ০৬:০৮ পিএম
আপডেট: ০৪ আগস্ট ২০২৫, ০৬:০৯ পিএম
সিরাজগঞ্জে একদিনে প্রাণ যায় ২৯ জনের
জুলাই অভ্যুত্থানে গত বছরের ৪ আগস্ট আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে ছাত্র-জনতার সংঘর্ষে রণক্ষেত্র পরিণিত হয় সিরাজগঞ্জ শহরের এস এস রোড। ছবি: খবরের কাগজ

শেখ হাসিনা পদত্যাগের একদফা দাবিতে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে গত বছরের ৪ আগস্ট উত্তাল হয়ে ওঠে সমগ্র সিরাজগঞ্জ জেলা। সেই দিন সকাল থেকে সিরাজগঞ্জ শহরের মধ্যে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে জড়ো হতে থাকে আন্দোলনকারীরা। অন্যদিকে এস এস রোডে অবস্থিত জেলা কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেয় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা কর্মীরা। এক পযায়ে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ শুরু হয় বিক্ষোভকারীদের, ঘণ্টা খানিক পর পিছু হাটতে থাকে পুলিশ। সেই দিন সকাল সাড়ে ১১টার দিকে এস এস রোড ও বড়পুল এলাকায় ছাত্র-জনতার ওপর হামলায় চালায় তৎকালীন সরকার দলীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা। নির্বিচারে গুলি চালায় তারা। এসময় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের গুলিতে প্রথম মৃত্যুবরণ করেন যুবদল নেতা সোহানুর রহমান রঞ্জু খান। এর কিছুক্ষণের মধ্যে ছাত্রদলকর্মী সুমন সেখ ও বিএনপিকর্মী চা বিক্রেতা আব্দুল লতিফের মৃত্যু হয়। এ খবর মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে সমগ্র জেলা আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। রাজপথ দখলে নেয় ছাত্র-জনতা।

এরপর সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে রায়গঞ্জ উপজেলাতেও। দুপুর ২টার পর উপজেলার ধানগড়ায় আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে সামনে আওয়ামী লীগ ও ছাত্র-জনতা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পাল্টাপাল্টি হামলা শুরু হয়। এ সময় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা পাশেই অবস্থিত রায়গঞ্জ প্রেসক্লাবে আশ্রয় নিলে সেখানে হামলার ঘটনা ঘটে। সেখানে মারধরে এক সাংবাদিক ও ৫ জন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী মিলে ৬ জনের মৃত্যু হয়। এ ছাড়া সদর আসানের এমপি হেনরীর বাসা থেকে ২ ছাত্রলীগকর্মী গয়লা মহল্লার আসিফ ও জানপুরের শাহিনের পোড়া কঙ্কাল উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। 

অন্যদিকে এনায়েতপুরে গুলিতে দুই ছাত্র শিহাব আহম্মেদ ও ছাত্র সিয়াম হোসেন এবং তাঁত শ্রমিক ইয়াহিয়া আলী প্রামানিক-সহ ৩ জনের মৃত্যু হয়। এরপরই এনায়েতপুর থানায় হামলা, অগ্নিসংযোগ ও অস্ত্র লুটের ঘটনা ঘটে। এসময় হামলাকারীদের মারধরে ১৫ পুলিশ সদস্যের মৃত্যু হয়। পরে সন্ধ্যার দিকে সেনাবাহিনী এনায়েতপুর থানায় পৌঁছে আহত পুলিশ সদস্যেদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।  

হামলা-ভাঙচুর
হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানায় হামলা ও অস্ত্র লুটসহ জেলা ও উপজেলাজুড়ে আওয়ামী লীগের কার্যালয়, কয়েকটি পৌরসভা, দুইটি রেলওয়ে স্টেশন, বসতবাড়ি, সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন স্থাপনা ও প্রতিষ্ঠান এবং বেশকিছু বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এ ছাড়াও সিরাজগঞ্জ শহরের মুজিব সড়কে অবস্থিত সিরাজগঞ্জ-২ আসনের অপসারিত এমপি ড. জান্নাত আরা হেনরী ও স্টেশন রোডে অবস্থিত একই আসনের সাবেক এমপি অধ্যাপক হাবিবে মিল্লাত মুন্নার বাসায় হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।

লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার হয়নি
এদিকে, এনায়েতপুর ও হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্রের মধ্যে এখনো ১৪টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়নি। এ দুইটি মামলায় এ পর্যন্ত ২২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হাঁটিকুমরুল হাইওয়ে থানার কার্যক্রম বর্তমানে ভাড়া করা ভবনে চলছে।

মামলা
থানা ও কোর্ট পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জেলায় মোট ৯টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে সিরাজগঞ্জ সদর থানায় ৪টি, এনায়েতপুর থানায় আন্দোলনে নিহতের ঘটনায় ৩টি এবং ১৫ পুলিশ হত্যা ও থানায় হামলা এবং অস্ত্র লুটের ঘটনায় ১টি এবং উল্লাপাড়া থানায় ১টি মামলা হয়েছে। এর বাইরে অতীতের ঘটনার জেরে এবং গত এক বছরে নানা সময়ের ঘটনা মিলে জেলায় মোট ২৯টি রাজনৈতিক মামলা হয়েছে। এ মামলাগুলোতে অধিকাংশ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের আসামি করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার
এসব মামলায় এ পর্যন্ত সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ বিশ্বাস, সাবেক এমপি ড. জান্নাত আরা হেনরী, সাবেক এমপি তানভীর ইমাম, সাবেক এমপি চয়ন ইসলাম, সাবেক এমপি ডা. আব্দুল আজিজ, জেলা পরিষদের অপসারিত চেয়ারম্যান শামীম তালুকদার লাবু ও উল্লাপাড়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সেলিনা মির্জা মুক্তি ও সিরাজগঞ্জ বারের সাবেক পিপি অ্যাডভোকেট আব্দুর রহমানসহ ১৬৩ জন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী গ্রেপ্তার হয়েছেন। 

চার্জশিট
এ পর্যন্ত কাজিপুর ও সলঙ্গা থানায় দায়ের হওয়া মারামারির দুইটি মামলার তদন্ত শেষে আদালতে চার্জশিট দিয়েছে পুলিশ। এদিকে, এনায়েতপুরে গুলিতে নিহত ৩ জনের পরিবারের আপত্তির কারণে তাদের ময়নাতদন্ত হয়নি।

জুলাই যোদ্ধা তালিকাভুক্ত
জেলায় জুলাই যোদ্ধা হিসেবে শহিদদের তালিকাভুক্ত হয়েছেন ১৩ জন। তাদের মধ্যে ৬ জনের ঢাকায় এবং সিরাজগঞ্জে ৭ জনের মৃত্যু হয়। আর জেলায় আহতদের মধ্যে জুলাই যোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছেন ৫২৪ জন।

জেলায় ১৩ জন জুলাই যোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্তরা হলেন- সিরাজগঞ্জের আন্দোলনে নিহত যুবদল নেতা ও ডেন্টিস্ট সোহানুর রহমান রঞ্জু খান, ছাত্র সুমন সেখ, চা বিক্রেতা আব্দুল লতিফ, ভ্যানচালক শিহাব উদ্দিন, ছাত্র শিহাব আহম্মেদ, ছাত্র সিয়াম হোসেন ও তাঁত শ্রমিক ইয়াহিয়া আলী প্রামানিক। এ ছাড়াও সিরাজগঞ্জ জেলায় বসবাসকারীদের ঢাকায় আন্দোলনে শহিদরা হলেন- ব্যবসায়ী সুজন মাহমুদ, ছাত্র অন্তর ইসলাম, স্যানিটারি মিস্ত্রি জাহাঙ্গীর হোসেন, রিকশাচালক মো. লেবু, নৌ বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান ও পোশাককর্মী নজরুল ইসলাম।

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ সিভিল সার্জন ও জুলাই অভ্যুত্থান ২০২৪ হতাহতদের তালিকা যাচাই-বাছাই জেলা কমিটির সদস্য সচিব ডা. মো. নুরুল আমিন বলেন, ‘এ পর্যন্ত জেলায় বসবাসকারী ১৩ জন জুলাই শহিদ ও ৫২৪ জন জুলাই যোদ্ধার নাম তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৩ জন শহিদ ও ৪৪৮ জন জুলাই যোদ্ধার নাম ইতোমধ্যে সরকারি গেজেটভুক্ত হয়েছে। বাকিরা অপেক্ষমাণ রয়েছেন।’

সিরাজগঞ্জ পুলিশ সুপার ফারুক হোসেন জানান, ‘জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তীতে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর মধ্যে ইতোমধ্যে কাজিপুর ও সলঙ্গা থানায় দায়ের হওয়া দুইটি মারামারি মামলার চার্জশিট হয়েছে। বাকিগুলোর তদন্ত চলছে। সেগুলোর দ্রুত চার্জশিট দেওয়া হবে। এছাড়া চাকরিতে কর্মরত অবস্থায় মারা গেলে সরকারি বিধান মতে প্রাপ্ত অনুদান ১৪ পুলিশ সদস্যকে প্রদান করা হয়েছে। বাকি একজনের অনুদান ওয়ারিশ সংক্রান্ত জটিলতার কারণে এখনো দেওয়া হয়নি। খুব দ্রুত তাকে অনুদান দিয়ে দেওয়া হবে।’  

সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থানে লুট হওয়া অস্ত্র বেশিভাগই উদ্ধার করা হয়েছে। বাকিগুলো উদ্ধারের কাযক্রম চলছে। জুলাই শহিদরা ইতোমধ্যে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ১০ লাখ টাকা করে সঞ্চয়পত্র পেয়েছেন। এ ছাড়াও জেলা পরিষদের মাধ্যমে প্রতিজন শহিদ পরিবারকে দুই লাখ ও আহতদের ৫ হাজার টাকা করে সহায়তা দেওয়া হয়েছে। শহিদ পরিবারগুলোকে সামনে আরও কিছু অনুদান দেওয়া হবে এবং বাকি আহতদেরকে সহায়তা করার জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে।  

সিরাজুল ইসলাম শিশির/মাহফুজ

 

 

শিকলবাহায় হত‍্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে মরদেহ নিয়ে মহাসড়কে বিক্ষোভ

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ১১:২৭ পিএম
শিকলবাহায় হত‍্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে মরদেহ নিয়ে মহাসড়কে বিক্ষোভ
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার শিকলবাহা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. ইব্রাহিম বুলু (৬০) হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসির দাবিতে নিহতের মরদেহ নিয়ে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন স্বজন ও এলাকাবাসী।

শুক্রবার (৫ জুন) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শত শত মানুষ নিহতের মরদেহ নিয়ে মহাসড়কে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতা হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ মে পারিবারিক জায়গা-জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় মো. ইব্রাহিম বুলু (৬০) গুরুতরভাবে মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত হন। আঘাতের ফলে তার মাথার খুলি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

পরে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ)-তে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দীর্ঘদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার পর শুক্রবার (৫ জুন) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

তার মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্বজন, প্রতিবেশী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে শোকের পাশাপাশি ক্ষোভেরও সৃষ্টি হয়। পরে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে নিহতের মরদেহ নিয়ে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবে সংঘটিত এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের এখনো আইনের আওতায় আনা হয়নি। তারা দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান এবং অন্যথায় আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য ও কর্ণফুলী উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম বলেন, “মো. ইব্রাহিম বুলু অত্যন্ত সহজ-সরল ও নিরীহ একজন মানুষ ছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে এলাকায় শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। আমরা আশা করি, প্রকৃত খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।”

প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন কর্ণফুলী উপজেলা বিএনপির নেতা আবু তৈয়ব কন্ট্রাক্টর, মো. ইদ্রিস আমেরীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। এ সময় বক্তারা বলেন, আমরা এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ বিচার চাই। প্রকৃত অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত কাউকে যেন কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া না হয়।

বিক্ষোভের কারণে মহাসড়কে কিছু সময় যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আশ্বাসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহিনুর আলম জানান, গত ২৫ মে কর্ণফুলী থানায় একটি মামলা রুজু করা হয়। মামলাটিতে মোট ৭ জনকে আসামি ও ৫-৬জন অজ্ঞাতনামা আসামিকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, কর্ণফুলী থানা পুলিশ দায়িত্বশীলতার সঙ্গে অভিযান পরিচালনা করে ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৬ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। 

গ্রেপ্তারকৃত সকল আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। "বর্তমানে তারা জেলহাজতে রয়েছেন।"  অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। নিহতের পরিবার ও স্থানীয়রা দ্রুত বিচার কার্যক্রম শুরু এবং দোষীদের শাস্তির আওতায় আনতে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ওসমান হোসাইন/এসএন

মায়ানমারে পাচারকালে দেড় হাজার বস্তা সিমেন্ট আটক ৫২

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ১০:৪৩ পিএম
মায়ানমারে পাচারকালে দেড় হাজার বস্তা সিমেন্ট আটক ৫২
ছবি: সংগৃহীত

সাগরপথে মায়ানমারে এবার ১৪৫০ বস্তা সিমেন্ট পাচারের চেষ্টার সময় পাঁচটি ইঞ্জিনচালিত নৌকাসহ (বোট) ৫২ জনকে আটক করেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। 

গত বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাতে বঙ্গোপসাগরে ওই অভিযান চালানো হয়।

শুক্রবার (৫ জুন) রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, সমুদ্রসীমার নিরাপত্তা, সামুদ্রিক সম্পদ সংরক্ষণ এবং সমুদ্রে আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখার লক্ষ্যে বাংলাদেশ নৌবাহিনী নিয়মিতভাবে বিভিন্ন টহল ও অভিযান পরিচালনা করে আসছ। এরই অংশ হিসেবে গত বৃহস্পতিবার রাতে বঙ্গোপসাগরে টহলের সময় পাঁচটি ইঞ্জিন চালিত কাঠের ফিশিং বোটে অভিযান চালিয়ে ১৪৫০ বস্তা সিমেন্ট উদ্ধার করেছে নৌবাহিনী। এসময় সিমেন্ট পাচারের চেষ্টায় জড়িত অভিযোগে ওই চক্রের ৫২ সদস্যকে আটক করা হয়। 

আইএসপিআর জানায়, বাংলাদেশ নৌবাহিনী জাহাজ টহলের সময় সেন্টমার্টিনের দ্বীপের অদূরে সন্দেহজনক দুইটি ইঞ্জিনচালিত কাঠের ফিশিং বোট দেখতে পায়। ফিশিং বোট দুইটির গতিবিধি সন্দেহ হলে নৌবাহিনী জাহাজ ওই ফিশিং বোট দুটিকে আটক করে। আটককৃত বোট ‘এফবি মা নুর জাহান’ এবং ‘এফবি হোমাইয়ারা’য় তল্লাশি করে ১৪৫০ বস্তা সিমেন্ট উদ্ধার করা হয়। এ সময় সিমেন্ট পাচারকারী দলের ২২ জন সদস্যকেও আটক করা হয়। 

আটক ব্যক্তিরা জানান, অধিক মুনাফার আশায় সিমেন্টগুলো মায়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাচ্ছিলেন। পরে তাদের দেওয়া তথ্য অনুসারে একই কাজে যুক্ত অন্য তিনটি ফিশিং বোটসহ চক্রের ৩০ জনকে আটক করে নৌবাহিনী।

এর আগে ২ জুন মায়ানমারে পাচারকালে ১৭০০ বস্তা সিমেন্টসহ দুইটি ইঞ্জিন চালিত বোট আটক করে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। ওই ঘটনায় জড়িত অভিযোগে ২০ জনকে আটক করা হয়েছিল।

আলমগীর হোসেন/রিফাত/

জয়পুরহাট সীমান্তে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবির টহল জোরদার

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ০৮:৫৪ পিএম
আপডেট: ০৫ জুন ২০২৬, ০৮:৫৪ পিএম
জয়পুরহাট সীমান্তে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবির টহল জোরদার
ছবি: খবরের কাগজ

জয়পুরহাটে বিএসএফের সহায়তায় পুশইনের দুটি পৃথক চেষ্টা রুখে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বর্তমানে সীমান্ত এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্কতাবস্থা জারির পাশাপাশি অতিরিক্ত জনবল মোতায়েন করে টহল জোরদার করা হয়েছে।

শুক্রবার (৫ জুন) বিকেল সাড়ে ৩টায় এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন জয়পুরহাট ব্যাটালিয়ন (২০ বিজিবি) অধিনায়ক লে. কর্নেল মোহাম্মদ লতিফুল বারী।

তিনি জানান, গত বুধবার বিএসএফের পক্ষ থেকে পুশইনের একটি অঅনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেওয়া হলে বিজিবি তা প্রত্যাখ্যান করে। এরপরের রাতেই সীমান্তে পুশ-ইনের একটি প্রত্যক্ষ চেষ্টা চালানো হয়, যা বিজিবির অবস্থানের কারণে ব্যর্থ হয়। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার রাতেও সীমান্তের জিরো লাইনের বরাবর কিছু সন্দেহভাজন চলাচল লক্ষ্য করে বিজিবি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিজিবির টহল দল স্থানীয় গ্রামবাসীদের সঙ্গে নিয়ে সারারাত সীমান্তে সজাগ ডিউটি পালন করে। ফলে অনুপ্রবেশের সব ধরনের চেষ্টা ব্যর্থ করে দেওয়া সম্ভব হয়েছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

লে. কর্নেল লতিফুল বারী বলেন, সাধারণত বিএসএফ প্রথমে কাটাতারের বেড়া নির্মাণের রুটিন কার্যক্রম শুরু করে এবং তা সফল হলে পরবর্তীতে পুশ-ইনের চেষ্টা চালায়। তবে আমরা কাটাতারের বেড়া নির্মাণ এবং পুশ-ইন কোনোটিই মেনে নিইনি। জয়পুরহাট সীমান্তের হিলি ও কয়া সংলগ্ন কাটাতারবিহীন স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে বিজিবির সর্বাধিক জনবল মোতায়েন করা হয়েছে। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সেখানে টহল ব্যবস্থা জোরদার রয়েছে।

সাগর কুমার/রিফাত/

উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ০৬:৫০ পিএম
আপডেট: ০৫ জুন ২০২৬, ০৬:৫০ পিএম
উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। ছবি: খবরের কাগজ

তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে বাংলাদেশে আসা তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান কক্সবাজারের উখিয়ার বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন।

শুক্রবার (৫ জুন) বিকেলে তিনি উখিয়া উপজেলার বালুখালী ও এর সংলগ্ন বিভিন্ন ক্যাম্পে তুরস্কের অর্থায়নে পরিচালিত মানবিক ও চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।

তিনি শুক্রবার দুপুরে ঢাকা থেকে বিমানযোগে কক্সবাজার বিমানবন্দরে পৌঁছান। সেখান থেকে সড়কপথে রওনা হয়ে বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটে উখিয়ার বালুখালীস্থ ৯ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যান। ক্যাম্পে অবস্থানকালে তিনি তুরস্কের সহায়তায় স্থাপিত ফিল্ড হাসপাতাল পরিদর্শন করেন এবং চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোহিঙ্গা রোগীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের খোঁজখবর নেন।

এরপর বিকেল ৪টায় তিনি ৯ নম্বর ক্যাম্প থেকে রওনা হয়ে ১৭ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পৌঁছান। সেখানে ‘তুরস্ক রেড ক্রিসেন্ট’ এবং ‘তুরস্ক দিয়ানাত ফাউন্ডেশন’-এর কার্যালয় ও তাদের মানবিক কার্যক্রম ঘুরে দেখেন।

পরবর্তীতে বিকেল সাড়ে ৪টায় তিনি ১৬ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যান এবং সেখানে তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সহযোগিতা সংস্থা ‘টিকা’ (TIKA) কর্তৃক পরিচালিত বহুমুখী শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।

পরে বিকেল ৫টায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পের কর্মসূচি শেষ করে তিনি কক্সবাজার বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হন। সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে বিমানযোগে তার ঢাকার উদ্দেশে কক্সবাজার ত্যাগ করার কথা রয়েছে।

সফরের শেষ দিন শনিবার (৬ জুন) দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার এক সৌজন্য সাক্ষাৎ ও দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এ বিশেষ পরিদর্শনের সময় প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত আসমা, উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মুজিবুর রহমানসহ ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন), র‍্যাব-১৫ এবং বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

রিদুয়ানুল হক/রিফাত/

লক্ষ্মীপুরে হাসপাতালে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী কিশোরকে বলাৎকার, ওয়ার্ডবয় আটক

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ০৫:৫৬ পিএম
লক্ষ্মীপুরে হাসপাতালে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী কিশোরকে বলাৎকার, ওয়ার্ডবয় আটক
ছবি: খবরের কাগজ

লক্ষ্মীপুরে একটি হাসপাতালের কক্ষে ডেকে নিয়ে এক বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী কিশোরকে (১১) বলাৎকারের অভিযোগে রিমন হোসেন নামে এক ওয়ার্ডবয়কে আটক করেছে পুলিশ। 

শুক্রবার (৫ জুন) সকালে সদর মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ঝলক মোহন্ত বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘আল-মানার হাসপাতালের তৃতীয় তলার একটি কক্ষে ঘটনাটি ঘটে। অভিযুক্ত রিমনকে আটক রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে এবং শিগগিরই মামলা দায়ের করা হবে।’

এর আগে বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুরে আল-মানার হাসপাতালে ঘটনাটি ঘটে। পরে রাতে খবর পেয়ে অভিযুক্তকে আটক করে পুলিশ।

রিমন লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের মজুপুর এলাকার মো. সেলিমের ছেলে এবং তিনি জেলা শহরের আল-মানার হাসপাতালের ওয়ার্ডবয় হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

ভুক্তভোগী কিশোরের মা বলেন, ‘আমার ছেলে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ও সহজ-সরল। সে নামাজ পড়তে বের হয়। কিছুটা আগে বের হওয়ায় আল-মানার হাসপাতালে গিয়ে টেলিভিশন দেখছিল। সেখান থেকে ওয়ার্ডবয় রিমন তাকে একটি কক্ষে ডেকে নিয়ে বলাৎকার করে। এ সময় আমার ছেলে চিৎকার-চেঁচামেচিও করেছে। পরে হাসপাতাল থেকে বের হয়ে সে ঘটনাটি তার বন্ধুদের জানায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি এ ঘটনায় মামলা করব।  এ ঘটনায় রিমনের বিচার চাই। ভবিষ্যতে কেউ যেন এমন ঘটনা ঘটাতে না পারে, সেজন্য তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া প্রয়োজন।’

রফিকুল ইসলাম/রিফাত/