সিলেটের প্রাণ-প্রকৃতি রক্ষার দাবিতে ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) সিলেট শাখা, পরিবেশ ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ ট্রাস্ট, সিলেট এবং সুরমা রিভার ওয়াটার কিপার আয়োজিত সংক্ষুব্ধ নাগরিকবন্ধন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে সাদা পাথরসহ সিলেটের প্রকৃতিবিনাশী কর্মকাণ্ডে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পরিবেশ ও মানবাধিকার কর্মীরা।
বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) বিকাল সাড়ে ৩টায় সুরমা নদী তীরে কিন ব্রিজ সংলগ্ন আলী আমজাদের ঘড়ি ঘরের বিপরীতে সাদা পাথরসহ ভোলাগঞ্জ, বিছনাকান্দী, উৎমাছড়া, জাফলং, লোভাছড়াসহ সিলেট অঞ্চলে পাথর লুটেরা চক্রের শাস্তির দাবিতে এ নাগরিকবন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এই আয়োজনে সাংগঠনিকভাবে অংশগ্রহণ করেন খবরের কাগজ ‘বন্ধুজন’ সিলেট, উন্নয়ন সংগঠন একসেস বাংলাদেশ ও কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকার বিষয়ক সংগঠন ও প্রাধিকার।
নাগরিকবন্ধনে বক্তারা বলেন, সিলেটের পাথর হচ্ছে লুটের কাঁচা টাকা। এর সঙ্গে অনেক রকম স্বার্থের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। প্রশাসনের প্রচ্ছন্ন ছত্রছায়ায় সাদাপাথর নিঃশেষ হয়ে গেছে। সিলেটের প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় সকলের সম্মিলিত প্রতিবাদ-প্রতিরোধ প্রয়োজন। তা না হলে পাথর লুটপাটে কেবল পরিবেশ নয়, মানবিক বিপর্যয় অনিবার্য।
এসময় ধরা’র কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব শরীফ জামিল বলেন, যে হারে উজান থেকে পাথর নামে, সেই হারে বারকি নৌকার পাথর আহরণ যখন বোমা মেশিন আর এক্সেভেটর দিয়ে দ্রুত উত্তোলন শুরু হলো, আমরা তখন থেকে এর অভিঘাত, বিপর্যয় এবং প্রতিবাদের কথা বলে আসছি। এক পর্যায়ে সরকারের পরিবেশ মন্ত্রণালয় বিজ্ঞানভিত্তিক সমীক্ষার মাধ্যমে কী পদ্ধতিতে কী পরিমাণ পাথর আহরণ করা যাবে, তা জানার আগ পর্যন্ত সকল প্রকার মেশিন দিয়ে পাথর উত্তোলন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু এই সিদ্ধান্তের যথাযথভাবে বাস্তবায়ন না হওয়ায় নাগরিক উদ্বেগ উচ্চ আদালতে গড়ায়।
তিনি আরও বলেন, সরকারের সদিচ্ছা আর সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ছাড়া মাথার উপর মেঘালয়কে মরণফাঁদ বানিয়ে আত্মহত্যার এই প্রচেষ্টাকে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। সাম্প্রতিক পাথর লুট একটি অপূরনীয় ক্ষতি। তাই অবিলম্বে যারা পাথরলুটের সঙ্গে জড়িত তাদের চিহ্নিত করে শাস্তি প্রদান করতে হবে।
ধরা সিলেট এর সদস্য সচিব সুরমা রিভার ওয়াটার কিপার আব্দুল করিম কিম বলেন, প্রশাসনের প্রচ্ছন্ন ছত্রছায়ায় সাদাপাথর নিঃশেষ হয়ে গেছে। বিগত দুই দশক ধরে পরিবেশকর্মীরা সিলেটের পাথরের স্বার্থে যেভাবে কথা বলেছে, গত এক বছরেও একই ভাবে পাথর লুটের বিরুদ্ধে কথা বলেছে। এই সম্পদ লুন্ঠনের জন্য দায়ী কে? শুধু পাথরখেকোরা? পাথর লুন্ঠনের পেছনে কোনো কোনো রাজনৈতিক দলের কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মধ্যে গড়ে ওঠা ঐক্যের কথা আলোচিত হচ্ছে বিভিন্ন মহলে। সরকারের উচিৎ তাদের মুখোশ উন্মোচন করা। পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনকে পাথর লুটেরাদের দমনে কেবল ব্যর্থ হতে দেখেনি; দেখেছে নতজানু হতে। তাই সহস্র কোটি টাকার পাথর ও বালু লুণ্ঠনের ভাগবাটোয়ারাতে প্রশাসনের অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্নের অবকাশ রয়েছে। এ অবস্থায় নিশ্চুপ থাকার অবকাশ নেই। সিলেটের প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় সকলের সম্মিলিত প্রতিবাদ-প্রতিরোধ প্রয়োজন।
ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) সিলেট শাখার আহ্বায়ক ডা. মোস্তফা শাহজামান চৌধুরী বাহারের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব সুরমা রিভার ওয়াটার কিপার আব্দুল করিম কিমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত নাগরিক বন্ধনে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ধরা’র কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব শরীফ জামিল। নাগরিকবন্ধনের শুরুতে ধারণা বক্তব্য দেন ধরা’র আজীবন সদস্য সিলেট মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক।
অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন পরিবেশ ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ ট্রাস্ট, সিলেটের ট্রাস্টি স্থপতি জেরিনা হোসেন, সিলেট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সরওয়ার আহমেদ চৌধুরী আবদাল, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. নাজিয়া চোধুরী, জাসদের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক এমরান আল আমিন, বাংলাদেশ জাসদ সিলেটের সভাপতি জাকির আহমেদ, শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক স্থপতি কৌশিক সাহা, সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. এমদাদুল হক, শিল্পকলা একাডেমির সদস্য শামসুল বাসিত শেরো, সচেতন নাগরিক কমিটি সিলেটের সভাপতি অ্যাডভোকেট শিরিন আক্তার, ধরা’র কেন্দ্রীয় আহবায়ক পরিষদের সদস্য ফাদার যোশেফ গোমেজ, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল বাসদ জেলা সংগঠক কমরেড উজ্জ্বল রায়, জালালাবাদ প্রবাসী কল্যাণ পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুর রহমান চৌধুরী, সিলেট বিভাগ গণদাবি পরিষদের সভাপতি চৌধুরী আতাউর রহমান আজাদ, গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের তানজীনা বেগম, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সুদীপ্ত অর্জুন, হবিগঞ্জ ধরার সদস্য সচিব তোফাজ্জল সোহেল, ক্যাটারাস গ্রুপ সিলেট এর সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন বাবলু, একসেস বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্ঠা ডা. মো. এনামুল হক এনাম, ধরা সিলেটের অন্যতম সদস্য প্রকৌশলী মাহমুদুর রহমান চৌধুরী, অ্যাডভোকেট অরুপ সেন বাপ্পী, রেজাউল কিবরিয়া, অ্যাডভোকেট জাকিয়া জালাল ও রুমেনা রুজি, ব্যবসায়ী ও সমাজকর্মী ফারমিস আক্তার, ভাসানী ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক তাহমিদ আহমেদ, চারণ সংস্কৃতিক কেন্দ্র সিলেটের নাজিকুল ইসলাম রানা প্রমুখ।
শাকিলা ববি/