বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের ভূগর্ভস্থ পানির স্তর প্রতিবছর গড়ে ১ দশমিক ৫ থেকে ২ মিটার কমছে। আগামী ১০ বছরের মধ্যে নিরাপদ পানির জন্য মানুষের হাহাকার করতে হবে। উপকূলের প্রায় ৪৫ শতাংশ গ্রাম লবণাক্ত পানির ঝুঁকিতে। এটি কৃষি, মৎস্যচাষ, এমনকি নারীর স্বাস্থ্যকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করছে। বরিশালে পানিসংকট শুধু প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়, বরং মানবসৃষ্ট ব্যবস্থাপনাগত ব্যর্থতাও বড় কারণ। তাই জলাধার, খাল খনন ও বৃষ্টির পানি সংরক্ষণে সরকারি প্রকল্প হাতে নেওয়ার মত দিয়েছেন বক্তারা। ‘উপকূল বাঁচাতে পানি বাঁচান’ এ স্লোগানে বিশ্ব পানি সপ্তাহ-২০২৫ উপলক্ষ্যে বরিশালে অনুষ্ঠিত পথসভায় বক্তারা এ মত দেন।
মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) বেলা ১১টায় নগরীর অশ্বিনী কুমার হলের সামনে প্রান্তজন ও পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যাকশন নেটওয়ার্ক (প্রাণ) এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত পথসভায় অংশগ্রহণ করেন বিভিন্ন স্কুলকলেজের শিক্ষার্থী, উন্নয়নকর্মী, নারী সংগঠনের সদস্য, কৃষক, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ অংশ নেয় । পথ সভার পূর্বে অনুষ্ঠিত র্যালিতে ‘পানি নেই, জীবন নেই’ ‘ উপকূল বাঁচাতে পানি বাঁচান’ ‘ভূগর্ভস্থ পানি রক্ষা করুন’ বিভিন্ন স্লোগান দেয় সম্মিলিত প্লাকার্ড শোভা পায়।
বরিশাল পরিবেশ ও জনসুরক্ষা ফোরামের আহ্বায়ক শুভংকর চক্রবর্তী বলেন, ‘বরিশালে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর প্রতি বছর গড়ে ১ দশমিক ৫ থেকে ২ মিটার কমছে। এভাবে চলতে থাকলে ১০ বছরের মধ্যে মানুষকে নিরাপদ পানির জন্য হাহাকার করতে হবে।’
গবেষণায় দেখা গেছে, উপকূলের প্রায় ৪৫ শতাংশ গ্রাম লবণাক্ত পানির ঝুঁকিতে। এটি কৃষি, মৎস্যচাষ, এমনকি নারীর স্বাস্থ্যকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করছে।
পরিবেশ ও উন্নয়ন ফোরাম বরিশালের আহ্বায়ক সুভাষ দাস বলেন, ‘জলাধার, খাল খনন ও বৃষ্টির পানি সংরক্ষণে সরকারি প্রকল্প হাতে নিতে হবে। একইসঙ্গে জনগণকেও পরিবার ও মহল্লা পর্যায়ে পানি সাশ্রয়ে উদ্যোগী হতে হবে।’
উন্নয়ন সংগঠন আরোহির নির্বাহী পরিচালক খোরশেদ আলম বলেন, ‘বরিশালে পানিসংকট শুধু প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়, বরং মানবসৃষ্ট ব্যবস্থাপনাগত ব্যর্থতাও বড় কারণ। খাল-জলাশয় দখল ও ভরাট হওয়ায় পানি জমে না, আবার বর্ষায় হঠাৎ বন্যা আঘাত হানে। ফলে একদিকে খরায় পানি সংকট, অন্যদিকে বর্ষায় জলাবদ্ধতার দ্বৈত সংকটে ভুগছে মানুষ। পানি রক্ষা ছাড়া জলবায়ু অভিযোজন সম্ভব নয়। পানি বাঁচানো মানে জীবন বাঁচানো, আর জীবন বাঁচানো মানেই উপকূল রক্ষা।’
স্থানীয় কৃষক মো. মান্না নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, ‘আগে ফসল ফলত প্রচুর, এখন লবণাক্ততায় জমি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। পানির অভাবে সেচ দেওয়া যায় না। সরকার ও এনজিওরা যদি সাহায্য করে, তাহলে আমরা আবার চাষাবাদে টিকে থাকতে পারব।’
শিক্ষার্থী প্রতিনিধি বলেন, ‘আমাদের প্রজন্মকে পানি সংকটের ভেতর বড় হতে হবে না। বিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পানি সাশ্রয় আন্দোলন শুরু করা জরুরি।’
সেচ্ছাসেবী সংগঠন প্রান্তজনের নির্বাহী পরিচালক মো. তৌহিদুল ইসলাম শাহাজাদা বলেন, ‘সরকার ও জনগণ একসঙ্গে কাজ না করলে পানির নিরাপত্তা আসবে না।’
সবুজ/রিফাত/