ঢাকা ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
খরা, বন্যা ও খাদ্যসংকটের ঝুঁকিতে ভারত, চীন ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া সুই-সুতো আর কি-বোর্ডে নির্যাতিত নারীদের নতুন স্বপ্ন পুতিনকে আলোচনায় বসতে জেলেনস্কির খোলাচিঠি রাজশাহী অঞ্চলে তাপপ্রবাহে হাঁসফাঁস দিল্লিতে ‘ককরোচ জনতাপার্টির’ বিক্ষোভ আজ ইসলামী ব্যাংকের কারণেই আরেকটি ৫ আগস্ট ঘটে যেতে পারে বায়ুদূষণে বদলে যাচ্ছে ভ্রূণের জিন জলাবদ্ধতা ও দুর্গন্ধে নাকাল ঘিওর বাজার ছায়ানটে শুরু হলো দুই দিনের নজরুল উৎসব রাজধানীবাসীকে ফেরাতে সিটি বাসও গেছে ঢাকার বাইরে ৬ জুন: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ৬ জুন: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল মে মাসে মব হামলায় নিহত ৩২: এমএসএফ ‘নতুন পুরাতন মিলিয়ে ভালোই বোর্ড হবে’ শাহজালালের কার্গো শেডে আগুন শূন্যরেখায় মানবেতর জীবন শিকলবাহায় হত‍্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে মরদেহ নিয়ে মহাসড়কে বিক্ষোভ অ্যালামনাই প্ল্যাটফর্ম ০২০৪ ব্যাচের বন্ধুদের ঈদ পরবর্তী পুনর্মিলনী মায়ানমারে পাচারকালে দেড় হাজার বস্তা সিমেন্ট আটক ৫২ মরুভূমিতে বিকল ট্রাক, পানির অভাবে ৪৯ জনের মৃত্যু মেধা ও ক্রীড়াবান্ধব জাতি গঠনে সরকার বহুমুখী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী নোয়াখালীতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল ভক্তদের শোডাউন সরকারকে ৭ দিনের আলটিমেটাম ইনকিলাব মঞ্চের প্রথমবার এআই তৈরি করল ‘সুপার-ভ্যাকসিন’ হাদি হত্যা মামলার বাদীকে নিয়ে বোনের প্রশ্ন? জয়পুরহাট সীমান্তে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবির টহল জোরদার রাজনীতি এক ভয়ংকর পরিস্থিতির দিকে ধাবিত হচ্ছে: মির্জা ফখরুল হজ শেষে দেশে ফিরলেন ২৯৬৯৪ হাজি নারায়ণগঞ্জে ১৭ বন্যপাখি উদ্ধার ও অবমুক্ত
Nagad desktop

ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে চার বাসের সংঘর্ষে আহত ১০

প্রকাশ: ৩০ আগস্ট ২০২৫, ১২:২৯ পিএম
আপডেট: ৩০ আগস্ট ২০২৫, ১২:৪৩ পিএম
ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে চার বাসের সংঘর্ষে আহত ১০
ছবি: খবরের কাগজ

ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের মাদারীপুরের শিবচরে ৪টি যাত্রীবাহী বাসের সংঘর্ষে আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন। সংঘর্ষের পর ঢাকামুখী লেনে প্রায় এক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে।

শনিবার (৩০ আগস্ট) সকাল পৌনে ৯টার দিকে মাদারীপুরের শিবচরের পাঁচ্চর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে ফরিদপুর  থেকে রাজধানী ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসে গোল্ডেন লাইন পরিবহনের যাত্রীবাহী একটি বাস ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের মাদারীপুরের শিবচরের পাঁচ্চরে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের ডিভাইডারে ওপরে উঠে যায়। একই সময় গোল্ডেন লাইন পরিবহনের অন্তত ২০ হাত দুরে টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেসের একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়ক ডিভাইডারের ওপরে উঠে যায়। প্রায় একই সময় দুর্ঘটনার শিকার টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেস বাসটির কিছুটা পিছনে নড়াইল এক্সপ্রেসের একটি বাস রাস্তার পাশে ডিভাইডারে ধাক্কা লাগে, এ সময় সাকুরা পরিবহনের একটি বাস নড়াইল এক্সপ্রেসের বাসটির পিছনে ধাক্কা দেয়। এই চারটি বাস দুর্ঘটনায় অন্তত ১০ জন আহত হন। খবর পেয়ে আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করেছে ফায়ার সার্ভিস ও হাইওয়ে পুলিশ। চারটি বাসের সংঘর্ষের পর এক্সপ্রেসওয়ের ঢাকামুখী লেনে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এরপর প্রায় এক ঘণ্টা পর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

শিবচর হাইওয়ে পুলিশের সার্জেন্ট মো. সবুজ বলেন, 'খবর পেয়ে আমরা চারজন আহতদের উদ্ধার করি। এ সময় যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে দুর্ঘটনা কবলিত পরিবহনগুলো সরিয়ে যানবাহন চলাচল উপযোগী করা হয়।' 

রফিকুল/রিফাত/ 

সুই-সুতো আর কি-বোর্ডে নির্যাতিত নারীদের নতুন স্বপ্ন

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৮:৫১ এএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ০৮:৫৫ এএম
সুই-সুতো আর কি-বোর্ডে নির্যাতিত নারীদের নতুন স্বপ্ন
নারী ও শিশু সংশ্লিষ্ট পারিবারিক বিভিন্ন ঘটনার সালিশ-মিমাংসা করে দেয় পল্লীশ্রী। নারীদের আত্মনির্ভরশীল হিসেবে গড়ে তুলছে সংগঠনটি। ছবি: খবরের কাগজ

স্বপ্না ও রোকসানা, দুটিই ছদ্মনাম। তাদের জীবনের গল্প আলাদা হলেও যন্ত্রণার পথ প্রায় একই। বিয়ের পর যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন, শারীরিক ও মানসিক সহিংসতা, সংসার ভেঙে যাওয়ার বেদনা ও সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা–সবকিছুর বিরুদ্ধে লড়াই করে তারা আজ স্বাবলম্বী হওয়ার পথে হাঁটছেন।

দিনাজপুরের সদর উপজেলার এক গ্রামের বাসিন্দা স্বপ্নার বিয়ে হয় ২০২২ সালে। বিয়ের সময় তার পরিবার ৬ লাখ টাকা যৌতুক দিলেও কিছুদিন পর আবারও টাকার দাবি করেন স্বামী। দাবি পূরণ করতে না পারায় শুরু হয় নির্যাতন। একপর্যায়ে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়ে হাসপাতালে ভর্তি পর্যন্ত হতে হয় তাকে। সালিশ-বৈঠক ও মামলা-মোকদ্দমা হলেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। অবশেষে ২০২৪ সালে ছোট সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে ফিরে আসেন তিনি। বর্তমানে মামলা চলমান থাকলেও স্বামী কোনো ভরণপোষণ দেন না। নিজের ও সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়তে এখন তিনি কম্পিউটার গ্রাফিক্সের প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন।

একইভাবে রোকসানার সংসারও ভেঙে যায় নির্যাতনের কারণে। বিয়ের এক বছর পর কন্যাসন্তানের জন্ম হলে তাকে নানা অজুহাতে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। পরে জানতে পারেন, তার স্বামী অন্য এক নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছেন। ২০২২ সালে তালাকের নোটিশ পাঠানো হয় তাকে। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেনমোহরের টাকা পেলেও সন্তান ও নিজের ভরণপোষণ পাননি। বর্তমানে সেলাই প্রশিক্ষণ নিয়ে অন্যের কাপড় সেলাই করে নিজের ও সন্তানের খরচ চালাচ্ছেন।

স্বপ্না ও রোকসানার মতো অসংখ্য নারী প্রতিদিন যৌতুক, পারিবারিক সহিংসতা, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে সালিশ বা মামলা হলেও কাঙ্ক্ষিত প্রতিকার মিলছে না। ফলে আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি জীবিকা অর্জনের সক্ষমতা তৈরি করাও তাদের জন্য জরুরি হয়ে উঠেছে।

মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা, আইনের দুর্বল প্রয়োগ ও বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে নির্যাতনের প্রবণতা পুরোপুরি কমছে না।

নারী নির্যাতন প্রতিরোধ ও নারীর ক্ষমতায়নে কাজ করে আসছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘পল্লীশ্রী’। সংস্থাটি ২০২১ থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত মোট ৮৪৭ জন নির্যাতনের শিকার নারীর পাশে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে ৭৩৫টি অভিযোগ সালিশ ও মধ্যস্থতার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হয়েছে। শুধু সমস্যা সমাধানই নয়, নির্যাতিত নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতেও কাজ করছে সংস্থাটি। সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় তাদের কম্পিউটার, সেলাই, বুটিকস, ব্যাগ তৈরি, সুতা দিয়ে হস্তশিল্প, ক্ষুদ্র ব্যবসা ব্যবস্থাপনা ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। প্রশিক্ষণ শেষে অনেককে প্রাথমিক মূলধন সহায়তাও দেওয়া হচ্ছে।

পল্লীশ্রীর তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে ৯৭ জন নির্যাতিত নারীর সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করা হয়েছে। এর মধ্যে পারিবারিক সহিংসতার শিকার ৩৩ জন, যৌতুকজনিত নির্যাতনের শিকার ১৫ জন ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার ২৯ জন নারী রয়েছেন। এ ছাড়া জমিজমা বিরোধ, মানসিক নির্যাতন, বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া, যৌন হয়রানি ও পরকীয়াজনিত নির্যাতনের শিকার আরও ২০ জন নারী সহায়তা পেয়েছেন।

একই সময়ে ১১৫ জন নারীকে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৪৭ জন সেলাই পেশায় যুক্ত হয়েছেন, ২০ জন মুদি দোকান পরিচালনা করছেন, ১৪ জন হোটেল ও চায়ের দোকান চালাচ্ছেন। এ ছাড়া কেউ প্রসাধনীর দোকান, কেউ ব্যাগ তৈরির কাজ, কেউ অনলাইন ব্যবসা কিংবা দুগ্ধ ব্যবসার মাধ্যমে আয় করছেন।

পল্লীশ্রীর নির্বাহী পরিচালক শামীম আরা বেগম বলেন, ‘নারী নির্যাতনের ঘটনা কমাতে হলে বিচারপ্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত ও কার্যকর করতে হবে। একই সঙ্গে নির্যাতনের শিকার নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলতে হবে। আমরা বিভিন্ন প্রশিক্ষণ, প্রাথমিক মূলধন সহায়তা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির মাধ্যমে নারীদের নিজেদের পায়ে দাঁড়াতে সহায়তা করছি।’

তিনি বলেন, ‘একজন নারী যখন নিজের আয়ের উৎস তৈরি করতে পারেন, তখন তিনি শুধু নির্যাতনের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর শক্তিই পান না, নিজের সন্তানদের ভবিষ্যৎও নিরাপদ করতে পারেন।’

রাজশাহী অঞ্চলে তাপপ্রবাহে হাঁসফাঁস

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৮:৪৪ এএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ০৯:০৬ এএম
রাজশাহী অঞ্চলে তাপপ্রবাহে  হাঁসফাঁস
রাজশাহীতে তীব্র দাবদাহে স্বস্তির খোঁজে রাস্তার পাশের কলের পানি দিয়ে মুখ ধুচ্ছেন এক যুবক/ খবরের কাগজ রোদ-গরমে হাঁসফাঁস, স্বস্তির খোঁজে মানুষ

সকাল ৮টা পেরোতেই রাজশাহীর আকাশে সূর্যের তীব্রতা জানান দিতে শুরু করে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই তাপ যেন রূপ নেয় আগুনঝরা দাবদাহে।

দুপুরে নগরীর রাস্তাঘাট, ফুটপাত ও খোলা জায়গাগুলো প্রায় ফাঁকা হয়ে যায়। বাতাসে নেই কোনো স্বস্তি, বরং গরম হাওয়ার ঝাপটা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে অস্বস্তি। কয়েকদিন ধরে চলা তাপপ্রবাহে রাজশাহীর জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি কষ্টে আছেন শ্রমজীবী, নিম্নআয়ের ও ছিন্নমূল মানুষ।

রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েকদিন ধরে জেলার তাপমাত্রা ৩৭ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। শুক্রবার (৫ জুন)  বিকেল ৩টায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৬ দশমিক ০ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় তাপমাত্রা ছিল ৩৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বুধবার তাপমাত্রা ছিল ৩৭ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে কম আর্দ্রতা ও গরম বাতাসের কারণে অনুভূত তাপমাত্রা আরও বেশি মনে হচ্ছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, উত্তরাঞ্চলের শুষ্ক আবহাওয়া এবং দীর্ঘ সময় ধরে বৃষ্টির অনুপস্থিতি এ পরিস্থিতিকে আরও তীব্র করে তুলেছে।

সরেজমিনে নগরীর সাহেববাজার, লক্ষ্মীপুর, শিরোইল বাস টার্মিনাল ও রেলস্টেশন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, দুপুরের পর মানুষের চলাচল কমে গেছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া অনেকেই ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না। যারা বের হচ্ছেন, তারা ছাতা, টুপি, গামছা বা কাপড় দিয়ে মাথা ও মুখ ঢেকে চলাফেরা করছেন।

তবে জীবিকার তাগিদে থেমে থাকার সুযোগ নেই দিন আনা দিন খাওয়া মানুষের। নগরীর শিরোইল বাস টার্মিনালে রিকশাচালক মফিজুল ইসলামের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, এই রোদে শরীর পুড়ে যাচ্ছে। হাত-পা ঝলসে যাওয়ার মতো অবস্থা। কিন্তু কাজ না করলে সংসার চলবে না। তাই কষ্ট হলেও রাস্তায় বের হতে হচ্ছে।

একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানান দিনমজুর আশিক ও রায়হান। তারা বলেন, সকালে কাজের সন্ধানে বের হলেও দুপুরের দিকে কাজ করা কঠিন হয়ে যায়। রোদে বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলে মাথা ঘোরে। তারপরও পরিবারের কথা ভেবে কাজ করতে হচ্ছে।

প্রচণ্ড গরমে নগরীর বিভিন্ন মোড়ে ডাব, আখের রস, তালের শাঁস ও শরবতের দোকানে মানুষের ভিড় বেড়েছে। তৃষ্ণা মেটাতে অনেকে এসব পানীয় পান করছেন। বিক্রেতারা বলছেন, গত কয়েকদিনে তাদের বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

নগরীর লক্ষ্মীপুর মোড়ে একটি শরবতের দোকানে কথা হয় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি এক রোগীর স্বজন মো. আমজাদ হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘রোগীর জন্য ওষুধ ও খাবার কিনতে বারবার বাইরে আসতে হচ্ছে। তীব্র গরমে হাঁটাহাঁটি করা খুবই কষ্টকর। একটু স্বস্তির আশায় শরবত খেতে এসেছি'।

তাপপ্রবাহের প্রভাব পড়েছে শিক্ষার্থী, পথচারী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জীবনেও। অনেক দোকানদার জানিয়েছেন, দুপুরের পর ক্রেতার সংখ্যা কমে যাচ্ছে। এতে ব্যবসায়ও প্রভাব পড়ছে। অন্যদিকে, খোলা আকাশের নিচে কাজ করা নির্মাণশ্রমিক ও পরিবহন শ্রমিকদের কষ্ট বেড়েছে।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্মকর্তা ও মুখপাত্র শংকর কে বিশ্বাস বলেন, ‘এই সময়ে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়াই ভালো। বাইরে বের হলে ছাতা ব্যবহার করতে হবে, পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে এবং তরল খাবার গ্রহণ করতে হবে। কেউ যদি অতিরিক্ত ঘাম, মাথা ঘোরা বা অস্বাভাবিক দুর্বলতা অনুভব করেন, তাহলে দ্রুত ছায়াযুক্ত স্থানে গিয়ে বিশ্রাম নিতে হবে এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।’

রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আগামী কয়েকদিন বৃষ্টির সম্ভাবনা খুবই কম। ফলে দাবদাহ অব্যাহত থাকতে পারে। মাটির আর্দ্রতা কমে যাওয়ায় এবং গরম বাতাসের প্রভাবে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি অনুভূত হচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘বৃষ্টি না হলে উত্তরাঞ্চলে তাপপ্রবাহের বিস্তৃতি আরও বাড়তে পারে। এতে জনদুর্ভোগও বাড়বে।’

জলাবদ্ধতা ও দুর্গন্ধে নাকাল ঘিওর বাজার

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৮:৩৪ এএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ০৮:৫৬ এএম
জলাবদ্ধতা ও দুর্গন্ধে নাকাল ঘিওর বাজার
বৃষ্টির পানি জমে সড়কে তৈরি হয়েছে কাদা। এই সড়ক দিয়েই চলাচল করে মালামাল বহনকারী যানবাহন ও ক্রেতা-বিক্রেতারা। ছবিটি সম্প্রতি মানিকগঞ্জের ঘিওর বাজার থেকে তোলা। ছবি: খবরের কাগজ

ইছামতী নদীর তীর ঘেঁষে গড়ে ওঠা প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী মানিকগঞ্জের ঘিওর বাজার ও হাট আজ নানা সমস্যায় জর্জরিত। পয়োনিষ্কাশন ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাব, ভাঙাচোরা সড়ক, জলাবদ্ধতা এবং ময়লা-আবর্জনার দুর্গন্ধে প্রতিদিন হাজারো ব্যবসায়ী ও ক্রেতাকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। অথচ এই বাজারে প্রতিদিন প্রায় অর্ধকোটি টাকার লেনদেন হয়। বাজারে রয়েছে ছোট-বড় প্রায় ১২০০টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং পুরো বাজার ও হাট প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত।

সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে বাজারের ধানহাট, কাঠপট্টি, মাছবাজার, গুড়পট্টি ও সবজিবাজারের বিভিন্ন অংশ হাঁটুপানিতে তলিয়ে যায়। এতে ব্যবসা-বাণিজ্য ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ। জলাবদ্ধতার পানি শুকিয়ে গেলে সৃষ্টি হয় তীব্র দুর্গন্ধ। নোংরা পরিবেশের কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে।

প্রতি বুধবার বসা ঐতিহ্যবাহী ঘিওর হাটে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ক্রেতা-বিক্রেতারা আসেন। একসময় এই হাট ছিল আশপাশের অঞ্চলের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র। কিন্তু অবকাঠামোগত সংকটের কারণে এখন অনেক ক্রেতাই বাজারমুখী হচ্ছেন না বলে অভিযোগ ব্যবসায়ীদের।

মাছবাজারের ব্যবসায়ী প্রকাশ রাজবংশী জানান, একটু বৃষ্টি হলেই মাছবাজারে পানি জমে যায়। ড্রেনে ময়লা জমে যায়। আর এসব কাদা-পানি মাড়িয়ে ক্রেতারা আসতে চান না। এতে আমাদের বিক্রি কমে যাচ্ছে। বছরের পর বছর ধরে এই সমস্যার কোনো সমাধান হচ্ছে না।

কাঠপট্টির ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম জানান, এ বাজারের কোনো উন্নতি নেই। বৃষ্টির দিনে আমাদের এই পট্টি দিয়ে হাঁটাচলা করাই কষ্ট, সেখানে মালামাল নেওয়া তো আরও কষ্টের ব্যাপার।

মেসার্স অনন্যা ট্রেডার্সের মো. রফিকুল বলেন, ‘আমার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান কাঠপট্টিতে। আমি স্যানিটারি সামগ্রী বিক্রি করি। এই পট্টিতে প্রায় ৩০-৩৫ জন কাঠ ব্যবসায়ী আছেন। বৃষ্টির দিনে তাদের সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়তে হয়। বেচাকেনা অর্ধেকে নেমে আসে। বৃষ্টির পর এমন পরিবেশ হয় যে, তখন আর ক্রেতারা আসতে চায় না।’

আরেক ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন বলেন, ‘আমরা হাটে ইজারা দিই। কিন্তু বাজারের অবস্থা দেখলে মনে হয় কোনো কর্তৃপক্ষের নজর নেই। বৃষ্টির সময় হাটে ব্যবসা করার কোনো পরিবেশ থাকে না।’

সবজিবাজারের ব্যবসায়ী আলমাস ইসলাম বলেন, ‘নোংরা পানি জমে থাকার কারণে বাজারে দুর্গন্ধ ছড়ায়। এতে ক্রেতারা দ্রুত বাজার ছেড়ে চলে যান। ব্যবসার ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।’

বাজারে কেনাকাটা করতে আসা মো. কামাল হোসেন বলেন, ‘বৃষ্টির দিনে বাজারে প্রবেশ করাই কঠিন হয়ে পড়ে। হাঁটুপানি মাড়িয়ে বাজার করতে হয়। পরিবার নিয়ে আসা সম্ভব হয় না। এই বাজারের পরিবেশ ভালো করা প্রয়োজন।’

রেহানা বেগম নামে এক নারী বলেন, ‘ময়লা পানির গন্ধে বাজারে বেশিক্ষণ থাকা যায় না। আমার স্বামী বিদেশ থাকেন। আমাকেই প্রয়োজনীয় বাজার-সদাই করতে হয়। বিশেষ করে আমাদের মতো নারী ও শিশুদের জন্য পরিস্থিতি খুবই অস্বস্তিকর। এত বড় একটি বাজারের এই অবস্থা হওয়া দুঃখজনক।’

ঘিওর বাজার ব্যবসায়ী ব্যবস্থাপনা পরিষদের সদস্য মোহাম্মদ লতা বলেন, ‘ঘিওর বাজার জেলার অন্যতম বড় বাজার। প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ কেনাবেচা হয়ে থাকে। কিন্তু ব্যবসায়ীরা সেই তুলনায় কোনো সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন না। জলাবদ্ধতা ও ভাঙাচোরা সড়কের কারণে ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রতি বুধবার হাটে হাজার হাজার মানুষ আসে। অথচ মৌলিক অবকাঠামোর অভাবে সবাইকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। আমরা চাই দ্রুত বাজারের সমস্যা সমাধান করা হোক।’

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় চার বছর আগে বেপারীপাড়া এলাকায় প্রায় ৯ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি সরু ড্রেন নির্মাণ করা হয়। তবে ড্রেনটির কোনো ঢাকনা নেই। ফলে এটি যেমন পানি নিষ্কাশনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেনি, তেমনি পথচারীদের জন্য ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অন্ধকারে অনেকেই ড্রেনে পড়ে আহত হন। জমে থাকা পানিতে মশার বংশবিস্তারও বাড়ছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাশিতা-তুল ইসলাম বলেন, ‘ঘিওর বাজারের সমস্যা সম্পর্কে আমরা অবগত আছি। বাজারের ড্রেনেজ ও অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। গরু হাট থেকে মাছবাজার পর্যন্ত আরসিসি সড়ক করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে আরও কাজ করা হবে।’

শিকলবাহায় হত‍্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে মরদেহ নিয়ে মহাসড়কে বিক্ষোভ

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ১১:২৭ পিএম
শিকলবাহায় হত‍্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে মরদেহ নিয়ে মহাসড়কে বিক্ষোভ
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার শিকলবাহা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. ইব্রাহিম বুলু (৬০) হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসির দাবিতে নিহতের মরদেহ নিয়ে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন স্বজন ও এলাকাবাসী।

শুক্রবার (৫ জুন) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শত শত মানুষ নিহতের মরদেহ নিয়ে মহাসড়কে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতা হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ মে পারিবারিক জায়গা-জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় মো. ইব্রাহিম বুলু (৬০) গুরুতরভাবে মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত হন। আঘাতের ফলে তার মাথার খুলি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

পরে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ)-তে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দীর্ঘদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার পর শুক্রবার (৫ জুন) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

তার মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্বজন, প্রতিবেশী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে শোকের পাশাপাশি ক্ষোভেরও সৃষ্টি হয়। পরে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে নিহতের মরদেহ নিয়ে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবে সংঘটিত এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের এখনো আইনের আওতায় আনা হয়নি। তারা দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান এবং অন্যথায় আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য ও কর্ণফুলী উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম বলেন, “মো. ইব্রাহিম বুলু অত্যন্ত সহজ-সরল ও নিরীহ একজন মানুষ ছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে এলাকায় শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। আমরা আশা করি, প্রকৃত খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।”

প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন কর্ণফুলী উপজেলা বিএনপির নেতা আবু তৈয়ব কন্ট্রাক্টর, মো. ইদ্রিস আমেরীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। এ সময় বক্তারা বলেন, আমরা এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ বিচার চাই। প্রকৃত অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত কাউকে যেন কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া না হয়।

বিক্ষোভের কারণে মহাসড়কে কিছু সময় যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আশ্বাসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহিনুর আলম জানান, গত ২৫ মে কর্ণফুলী থানায় একটি মামলা রুজু করা হয়। মামলাটিতে মোট ৭ জনকে আসামি ও ৫-৬জন অজ্ঞাতনামা আসামিকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, কর্ণফুলী থানা পুলিশ দায়িত্বশীলতার সঙ্গে অভিযান পরিচালনা করে ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৬ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। 

গ্রেপ্তারকৃত সকল আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। "বর্তমানে তারা জেলহাজতে রয়েছেন।"  অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। নিহতের পরিবার ও স্থানীয়রা দ্রুত বিচার কার্যক্রম শুরু এবং দোষীদের শাস্তির আওতায় আনতে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ওসমান হোসাইন/এসএন

মায়ানমারে পাচারকালে দেড় হাজার বস্তা সিমেন্ট আটক ৫২

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ১০:৪৩ পিএম
মায়ানমারে পাচারকালে দেড় হাজার বস্তা সিমেন্ট আটক ৫২
ছবি: সংগৃহীত

সাগরপথে মায়ানমারে এবার ১৪৫০ বস্তা সিমেন্ট পাচারের চেষ্টার সময় পাঁচটি ইঞ্জিনচালিত নৌকাসহ (বোট) ৫২ জনকে আটক করেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। 

গত বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাতে বঙ্গোপসাগরে ওই অভিযান চালানো হয়।

শুক্রবার (৫ জুন) রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, সমুদ্রসীমার নিরাপত্তা, সামুদ্রিক সম্পদ সংরক্ষণ এবং সমুদ্রে আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখার লক্ষ্যে বাংলাদেশ নৌবাহিনী নিয়মিতভাবে বিভিন্ন টহল ও অভিযান পরিচালনা করে আসছ। এরই অংশ হিসেবে গত বৃহস্পতিবার রাতে বঙ্গোপসাগরে টহলের সময় পাঁচটি ইঞ্জিন চালিত কাঠের ফিশিং বোটে অভিযান চালিয়ে ১৪৫০ বস্তা সিমেন্ট উদ্ধার করেছে নৌবাহিনী। এসময় সিমেন্ট পাচারের চেষ্টায় জড়িত অভিযোগে ওই চক্রের ৫২ সদস্যকে আটক করা হয়। 

আইএসপিআর জানায়, বাংলাদেশ নৌবাহিনী জাহাজ টহলের সময় সেন্টমার্টিনের দ্বীপের অদূরে সন্দেহজনক দুইটি ইঞ্জিনচালিত কাঠের ফিশিং বোট দেখতে পায়। ফিশিং বোট দুইটির গতিবিধি সন্দেহ হলে নৌবাহিনী জাহাজ ওই ফিশিং বোট দুটিকে আটক করে। আটককৃত বোট ‘এফবি মা নুর জাহান’ এবং ‘এফবি হোমাইয়ারা’য় তল্লাশি করে ১৪৫০ বস্তা সিমেন্ট উদ্ধার করা হয়। এ সময় সিমেন্ট পাচারকারী দলের ২২ জন সদস্যকেও আটক করা হয়। 

আটক ব্যক্তিরা জানান, অধিক মুনাফার আশায় সিমেন্টগুলো মায়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাচ্ছিলেন। পরে তাদের দেওয়া তথ্য অনুসারে একই কাজে যুক্ত অন্য তিনটি ফিশিং বোটসহ চক্রের ৩০ জনকে আটক করে নৌবাহিনী।

এর আগে ২ জুন মায়ানমারে পাচারকালে ১৭০০ বস্তা সিমেন্টসহ দুইটি ইঞ্জিন চালিত বোট আটক করে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। ওই ঘটনায় জড়িত অভিযোগে ২০ জনকে আটক করা হয়েছিল।

আলমগীর হোসেন/রিফাত/