‘১১ বছর আগে আমার ছেলেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে (র্যাব) তুলে নিয়ে যায়। এর পেছনে আওয়ামী লীগের ফেনীর এক প্রভাবশালী নেতা জড়িত। আপনারা আমার ছেলের খোঁজ এনে দেন।’ কথাগুলো রওশন আরা নামে এক মায়ের। গতকাল দুপুরে ফেনী প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক মানববন্ধন ও মতবিনিময় সভায় তিনি এভাবে আহাজারি করেন। তার ছেলে মাহবুবুর রহমান রিপন ছিলেন যুবদল নেতা।
২০১৪ সালে তিনি গুমের শিকার হন। গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে আন্তর্জাতিক গুম দিবসে মানববন্ধন, র্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করে মানবাধিকার সংগঠন অধিকারের ফেনী ইউনিট।
এই ইউনিটের ফোকাল পার্সন সাংবাদিক নাজমুল হক শামীমের সঞ্চালনায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইউনিটটির সদস্য সাংবাদিক শাহজালাল ভূঁইয়া। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন গুমের শিকার মাহবুবুর রহমান রিপনের মা রওশন আরা বেগম। ফেনী প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মুহাম্মদ আবু তাহের ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, সাপ্তাহিক আনন্দ তারকার সম্পাদক এম মামুনুর রশিদ, ফেনী সরকারি কলেজের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আহমদ আলী, বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় মহাসচিব মহিউদ্দিন খন্দকার, দৈনিক সুপ্রভাত ফেনীর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ফিরোজ আলম, জাসাস ফেনী জেলা কমিটির সভাপতি কাজী ইকবাল আহমেদ পরান।
স্বাগত বক্তব্য রাখেন অধিকার প্রতিনিধি তন্বী সোম। বক্তব্য রাখেন গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী নসু, গুমের স্বীকার মাহবুবুর রহমান রিপনের বড় ভাই মাহফুজুর রহমান সোহাগ প্রমুখ।
সভায় মাবুবুর রহমান রিপনের মা রৌশন আরা পরিবারের কাছে তার ছেলেকে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়ে বলেন, ‘আমার ছেলে বিএনপি নেতা গাজী মানিকের অনুসারী ছিল। কিন্তু সেই গাজী মানিক আজ আমাদের খবর নেয় না। রিপন গুম হওয়ার পর পুলিশ মামলা নেয়নি। আজও তার হদিস পাইনি। আমার মতো অভাগা মা বিচার চেয়ে গত ১১ বছর ধরে দ্বারে দ্বারে ঘুরছি। কিন্তু এখনো বিচার পাইনি। আমার প্রত্যাশা, অন্তর্বর্তী সরকার বিচার করবে। রিপনের মতো আর কোনো ব্যক্তি যেন গুমের শিকার না হয় সে জন্য রাষ্ট্রকে জোরালো ভূমিকা রাখতে হবে।’
মানববন্ধন, র্যালি ও আলোচনা সভায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।