সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার পুণ্যলগ্ন শুভ মহালয়া অনুষ্ঠিত হয়েছে গত রবিবার (২১ সেপ্টেম্বর)। এ দিন থেকেই শুরু হয়েছে দেবীপক্ষ।
আগামী রবিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ষষ্ঠীপূজার মাধ্যমে দুর্গাপূজা শুরু হবে। ২ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে দেবীর বিদায়ের মধ্য দিয়ে উৎসব শেষ হবে।
শ্যামনগর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদ জানিয়েছে, এ বছর উপজেলায় স্থায়ী ও অস্থায়ী ৭০টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে, যা গত বছরের তুলনায় ৬টি বেশি। বর্তমানে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। মণ্ডপগুলোর মধ্যে শ্যামনগর পৌরসভায় ১৫টি, কাশিমাড়ি ইউনিয়নে ২টি, নূরনগর ইউনিয়নে ৩টি, কৈখালী ইউনিয়নে ৫টি, রমজাননগর ইউনিয়নে ৭টি, মুন্সীগঞ্জ ইউনিয়নে ১০টি, ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নে ৪টি, বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নে ৯টি, আটুলিয়া ইউনিয়নে ১১টি, পদ্মপুকুর ইউনিয়নে ২টি এবং গাবুরা ইউনিয়নে ২টি পূজামণ্ডপ রয়েছে।
প্রতিমা নির্মাণে ব্যস্ত সময় পার করছেন শিল্পীরা। মণ্ডপগুলোতে দিনরাত কাজ চলছে। পাশাপাশি মণ্ডপ নির্মাণ, তোরণ তৈরি ও আলোকসজ্জার কাজেও ব্যস্ত কারিগররা।
প্রতিমা শিল্পীরা জানান, সময় খুবই কম। দিন-রাত কাজ চলছে। মাটির কাজ শেষে এখন রং ও তুলির কাজ চলমান। তবে গত বছরের তুলনায় এবার প্রতিমা তৈরির সরঞ্জামের দাম কিছুটা বেশি। মণ্ডপের আকারভেদে শিল্পীরা মজুরি নিচ্ছেন ২০ থেকে ৬০ হাজার টাকা।
নূরনগর বাজার সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরের প্রতিমা শিল্পী বাবু পাল জানান, তিনি ও তার সহযোগীরা উপজেলার ৩টি পূজামণ্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজ করছেন। সব মণ্ডপে মাটির কাজ শেষ হয়েছে, এখন পোশাক পরিধান ও রং দেওয়ার কাজ চলছে। তবে সরঞ্জামের দাম বৃদ্ধির কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
অপর প্রতিমা শিল্পী মনোরঞ্জন পাল বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে রাত জেগে পরিশ্রম করছি। প্রতিমা তৈরি শেষ হলে মন তৃপ্তিতে ভরে ওঠে। দেবী বোধনের আগেই মণ্ডপ কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিমা হস্তান্তর করতে পারব।
আয়োজকরা জানান, গত বছরের তুলনায় এবার মজুরি বেশি হওয়ায় পূজার খরচ দ্বিগুণ বেড়েছে। পৌরসভার ডি.কে.বি সার্বজনীন দুর্গা পূজা মণ্ডপের সদস্য সুশান্ত কুমার মন্ডল বলেন, শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে আমরা ব্যস্ত। আশা করছি, এবারও জাঁকজমকপূর্ণভাবে দুর্গোৎসব পালিত হবে।
বাংলাদেশ হিন্দু পরিষদের শ্যামনগর উপজেলা শাখার সদস্যসচিব উৎপল মণ্ডল জানান, দুর্গাপূজা হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় উৎসব। আমরা এই সময়ের জন্য অপেক্ষা করি। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পরিবার ও আত্মীয়রা এসেছেন। আশা করি, এবারের পূজা আনন্দময় হবে।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কৃষ্ণপদ মণ্ডল বলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীরা উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ নিরাপত্তার আশ্বাস দিয়েছেন।
শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হুমায়ুন কবির মোল্লা জানান, দুর্গাপূজা নির্বিঘ্ন ও উৎসবমুখর করতে সব মণ্ডপে বহুস্তরীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। পুলিশ, র্যাব এবং সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি থাকবে।
শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. রনী খাতুন জানান, পূজার আনন্দ নির্বিঘ্ন করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পূজা চলাকালীন বিদ্যুৎ ও যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখা হবে।
শাহাজান সিরাজ/সুমন/