মাগুরা শহরের বড়বাজার। এই বাজারে থাকা কসাইখানাটি গড়ে উঠেছে নবগঙ্গা নদীর একেবারে পাড়ঘেঁষে। প্রতিদিন গরু-ছাগল জবাই শেষে রক্ত, চর্বি ও অন্যান্য বর্জ্য সরাসরি সেখানে ফেলা হচ্ছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে শহরের ড্রেনের নোংরা পানি। ফলে নদীর পানি কালচে হয়ে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এ ছাড়া এই কসাইখানার পাশেই রয়েছে বড় কাঁচাবাজার। সেই বাজারের নানা বর্জ্য এই নদীতে ফেলা হয়। একসময় এ নদী ছিল শহরবাসীর জীবন-জীবিকার অন্যতম ভরসা। কিন্তু বর্তমানে নদীটি দখলদারদের করাল গ্রাস ও অব্যবস্থাপনায় মৃতপ্রায় হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়রা বলছেন, মাগুরার মানুষের জীবনে নবগঙ্গা শুধু নদী নয়, ইতিহাস-ঐতিহ্যেরও অংশ। অথচ আজ অব্যবস্থাপনা, দখল ও দূষণের কারণে নদীটি মৃত্যুর দিকে ধাবিত হচ্ছে। প্রশাসন যদি দ্রুত পদক্ষেপ না নেয় তবে নবগঙ্গা হয়তো মানচিত্রে টিকবে, কিন্তু জীবন থেকে হারিয়ে যাবে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, নদীর দুই তীর দখল করে কেউ বানিয়েছেন দোকানপাট, কেউবা তুলেছেন বহুতল ভবন। এমনকি পুরোনো সেতুর পাড়ে নদী রক্ষার ব্লক উঠিয়ে কিছুটা দখলে নেওয়া হয়েছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, প্রভাবশালী দখলদারদের কারণে প্রশাসনের হাতও কার্যত বাঁধা।
ওই বাজারে মাংস কিনতে আসা মো. সালাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এভাবে নদীতে বর্জ্য ফেলা হলে পানি তো দূষিত হবেই। মাছও খাওয়ার উপযোগী থাকে না। অথচ এসব বর্জ্য আলাদাভাবে ব্যবস্থাপনা করা যেত।’
মাছ শিকারি কামরুল ইসলাম বলেন, ‘শখের বসে নৌকায় মাছ ধরি। কিন্তু কসাইখানার বর্জ্য ভেসে থাকতে দেখে আর মন চায় না। অথচ প্রশাসনের কোনো পদক্ষেপ নেই।’
মাগুরা পৌর ভূমি কার্যালয়ের তথ্যমতে, শহরের অংশে নবগঙ্গা নদীর পাড় দখল করে একাধিক স্থাপনা গড়ে উঠেছে। দখলদারদের তালিকাও প্রশাসনের হাতে আছে। সুপারিশও গেছে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে। কিন্তু এখনো কার্যকর কোনো উচ্ছেদ অভিযান হয়নি।
এদিকে নদীপাড়ের জমি বিভিন্ন সংগঠনের নামে ইজারা দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। শহরের পুরোনো বাজার এলাকা থেকে শুরু করে শীবরামপুর পর্যন্ত প্রায় সব অংশেই দখলদারির চিত্র দেখা যায়।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) মাগুরা জেলা শাখার সভাপতি এটিএম আনিসুর রহমান বলেন, ‘হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী নদীকে জীবন্ত সত্তা হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে। নবগঙ্গার দখল-দূষণ বন্ধ না করলে শহরের অস্তিত্বই হুমকির মুখে পড়বে। টেকসই উন্নয়নের জন্য নদী রক্ষা অপরিহার্য।’