কক্সবাজারের চকরিয়ায় পৃথক দুটি ঘটনায় কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পূর্ব শত্রুতার জের ও জমি সংক্রান্ত ঘটনায় দুজনকে হত্যার ঘটনা ঘটেছে।
শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) ভোর সাড়ে পাঁচটায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পৌরশহরে মাতামুহুরী ব্রিজে ও সকাল ১১টায় উপজেলার উপকূলীয় বদরখালী ইউনিয়নের ফুলতলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন, উপজেলার কাকারা ইউনিয়নের এক নম্বর ওয়ার্ডের দিঘির পাড়ের গোলাম কাদেরের ছেলে গিয়াস উদ্দিন (৪৩)। বদরখালী ইউনিয়নের ফুলতলা গ্রামে ছাবের আহমদের ছেলে হারুনুর রশীদ (৪৫)।
পুলিশ ও পরিবার সূত্র জানায়, শনিবার সকাল ১১টার দিকে উপজেলার উপকূলীয় বদরখালী ইউনিয়নের ফুলতলা গ্রামে সিএনজি অটোরিকশা চালক হারুনুর রশীদ ও বড় ভাই শেখ আহমদের মধ্যে জায়গার বিরোধ নিয়ে কথা-কাটাকাটি হয়। এ সময় শেখ আহমদের ছেলে খোকা চাচা হারুনুর রশীদকে উপর্যপুরি ছুরিকাঘাত করলে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তার।
এদিকে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে শুক্রবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে গিয়াস উদ্দিন (৪৩) নামের ইজিবাইক (টমটম) গ্যারেজের মালিককে অপহরণের পর পিটিয়ে হত্যা করে লাশ ফেলে দেওয়া হয় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চকরিয়ার মাতামুহুরী সেতুতে। শনিবার ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে ওই লাশ দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশের খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে লাশ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।
নিহত গিয়াস উদ্দিনের স্ত্রী জান্নাতুল নাঈম বলেন, শুক্রবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে স্থানীয় মিন্টুসহ মোটরসাইকেল যোগে চিরিঙ্গা পৌরশহরে যান গিয়াস উদ্দিন। সেখান থেকে বাড়ি ফেরার সময় আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা তৌহিদের নেতৃত্বে পাঁচজন মিলে প্রাইভেট কারগাড়ি নিয়ে মাতামুহুরী সেতু এলাকায় মোটরসাইকেলকে ব্যারিকেড দেয়। এ সময় কার গাড়ি থেকে তৌহিদেরা নেমে মোটরসাইকেল আরোহী মিন্টুকে বন্দুকের ভয় দেখিয়ে দূরে দাঁড় করিয়ে রেখে গিয়াস উদ্দিনকে কার গাড়িতে তুলে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। এর পর মিন্টু ঘটনাস্থল থেকে গিয়ে বিষয়টি পরিবারকে জানালে থানায় অবগত করা হয়। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শনও করে। পরে সকালে মাতামুহুরী সেতু এলাকা থেকে আমার স্বামীর লাশ উদ্ধার করেন চকরিয়া থানার পুলিশ।
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, 'পূর্বশত্রুতার ও জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে এই দুটি হত্যার ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ দুটি উদ্ধারের পর সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছে। পৃথক এই হত্যার ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেয়া হবে । এ ঘটনায় জড়িতদের ধরতে পুলিশের একাধিক দল মাঠে রয়েছে।
রাজু দাশ/মৌসুমী/