চা বাগানে পানির চাহিদার কথা জানাবে রোবট। প্রয়োজন মাফিক পানিও সেচ করবে সে। অন্যদিকে কোন শিশু পানিতে খেলা করলে সে বিপদজ্জনক অবস্থায় আছে কিনা তা জানিয়ে দেবে রোবট। খেত খামারে পোকার আক্রমণ নিয়েও সিগনালের মাধ্যমে চাষিকে জানিয়ে দেবে রোবট। এমন কিছু প্রযুক্তি তৈরী করেছেন পঞ্চগড়ের স্কুল পড়ুয়া প্রান্তিক ক্ষুদে বিজ্ঞানীরা। বিজ্ঞানভিত্তিক ৬ দিনের কর্মশালায় অংশ নিয়ে এমন আবিস্কারের কথা জানিয়েছে তারা।
পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে গড়ে উঠেছে Leadership the programmable logic control and artificial intelligent World (এল পি এ) নামে একটি বিজ্ঞান ক্লাব। এই ক্লাবের আয়োজনে জেলার পাঁচ উপজেলায় আয়োজন করে রোবোটিক্স ও হোম অটোমেশন কর্মশালা। উপজেলা ভিত্তিক কর্মশালায় অংশ নেয়া দেড় শতাধিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৩০ জনকে বেছে নেয়া হয় জেলা ভিত্তিক কর্মশালায় অংশ নেয়ার জন্য।
বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) সদর উপজেলা মিলনায়তনে দিনব্যাপী এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। কর্মশালায় ক্ষুদে বিজ্ঞানীরা জেলার সমস্যা ও সমাধান ভিত্তিক ৩টি দলে বিভক্ত হয়ে এককভাবে ৩টি এবং দলীয়ভাবে প্রায় ৩০টি প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেন। এর মধ্যে তিনজনকে সেরা হিসেবে বিবেচনা করে তাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন জেলা প্রশাসক মো: সাবেত আলী।
শিক্ষার্থীরা বলছেন, তারা কৃষক, চা চাষি, চা শ্রমিক, শিশু এবং অগ্নি নির্বাপনের জন্য বিভিন্ন যন্ত্র নির্মাণ করেছে। পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এগুলো বাজারে আনা সম্ভব। তারা আরও জানায়, প্রান্তিক এলাকায় বসবাসের কারণে বিজ্ঞান চর্চা থেকে তারা বঞ্চিত। সরকারি উদ্যোগে জেলা ও উপজেলা ভিত্তিক ল্যাব এবং রোবটিক্স গবেষণা কেন্দ্র স্থাপনের দাবি জানান তারা।
শিক্ষার্থীরা যাতে বিজ্ঞান চর্চায় আত্মনিয়োগ করে এমন আহ্বান জানিয়ে সব ধরণের সহযোগিতার আশ্বাস দেন জেলা প্রশাসক মো: সাবেত আলী। পরে অংশ নেয়া সকল শিক্ষার্থীর হাতে গাছ এবং সার্টিফিকেট তুলে দেয়া হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাকির হোসেন। এসময় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ প্রতিদিনের জেলা প্রতিনিধি সরকার হায়দার, এল পি এ’র প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী পরিচালক মো: রাফি, পরিচালক সোলাইমান আলী প্রমুখ।
মো: রনি মিয়াজী/এসএন