অতিবৃষ্টিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রায় এক কিলোমিটার রেললাইন পানিতে তলিয়ে গেছে। এর ফলে আন্তঃনগর ট্রেন বনলতা এক্সপ্রেস চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ২ ঘণ্টা ১৫ মিনিট দেরিতে ছাড়ে। এছাড়াও ঈশ্বরদী থেকে ছেড়ে আসা চাঁপাইনবাবগঞ্জ অভিমুখী ৫ আপ রাজশাহী কমিউটার ট্রেন অতিরিক্ত পানির কারণে বড় পুকুরিয়া এলাকায় চার ঘণ্টা আটকা পড়ে। এর ফলে শত শত যাত্রী দুর্ভোগে পড়েছেন।
জানা গেছে, লঘুচাপের প্রভাবে শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) সারাদিন মেঘলা ছিল। সন্ধ্যার পর গুড়িগুড়ি বৃষ্টি শুরু হয়। রাত ৮টার পর জেলাজুড়ে ভারি বৃষ্টিপাত শুরু হয়, যা গভীর রাত পর্যন্ত চলতে থাকে। এতে বড় পুকুরিয়া এলাকায় রেললাইন পানিতে তলিয়ে যায়। পানিতে রেললাইন দেখা না যাওয়ায় ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা হয়। রাত থেকে সকাল পর্যন্ত চাঁপাইনবাবগঞ্জে ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকে। রেললাইন থেকে পানি নামার পর পুনরায় ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ স্টেশন মাস্টার শহিদুল ইসলাম জানান, সারারাত বৃষ্টিতে আমনুরা থেকে সদর উপজেলার বড় পুকুরিয়ায় প্রায় এক কিলোমিটার রেললাইন পানির নিচে তলিয়ে যায়। এর ফলে পুকুরিয়া এলাকায় ট্রেন চলাচল করতে পারছিল না। সেখানে ৫ আপ কমিউটার ট্রেনটি সারারাত আটকা ছিল।
তিনি আরও জানান, বৃষ্টির পানি নামার পর সকাল ৮:১০ মিনিটে কমিউটার ট্রেনটি স্টেশনে প্রবেশ করে। শনিবার বনলতা এক্সপ্রেস ট্রেনটি নির্ধারিত শিডিউল থেকে প্রায় দুই ঘণ্টা দেরিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছাড়ে।
অন্যদিকে, চাঁপাইনবাবগঞ্জে অতিবৃষ্টিতে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যহত হয়েছে। জেলা শহরের নিউ মার্কেট, বালুবাগান, নিমতলা, অক্টোমোড়, ফুড অফিস, বাতেনখার মোড়, কোট চত্বরসহ বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল হাঁটু পানি জমে আছে। এছাড়াও ঘরে পানি ঢুকে আসপারপত্র পানির নিচে তলিয়ে গেছে।
জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের পাগলা নদীর উপর নির্মিত একটি সেতুর দুই ধার থেকে মাটি সরে গেছে, যা চলাচলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গেছে।
পৌর এলাকার আলমগীর হোসেন বলেন, সারারাত বৃষ্টিতে আমাদের বাড়িঘরে পানি ঢুকে গেছে। শহরে ড্রেন নির্মাণ কাজ চলায় দ্রুত পানি নিষ্কাশন সম্ভব হয়নি। এর ফলে রাস্তাগুলোতে হাঁটু পানি জমে এবং বাড়িঘরে পানি প্রবেশ করেছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরে ২৬০ মিমি, শিবগঞ্জে ১৭৫ মিমি, গোমস্তাপুরে ১৮০ মিমি, নাচোলে ১৭৫ মিমি ও ভোলাহাটে ১৬৫ মিমি বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। জেলায় গড়ে মোট বৃষ্টিপাত ১৯১ মিমি।অতিবৃষ্টিতে জেলার নিম্নাঞ্চলের কিছু ফসলি জমি তলিয়ে গেছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. মো. ইয়াছিন আলী বলেন, অতিরিক্ত বৃষ্টিতে কিছু ফসলের ক্ষতি হবে। পাকা ধান হেলে পড়েছে এবং কিছু শাক-সবজির ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। তিনি আরও জানান, জমি থেকে পানি দ্রুত নেমে গেলে বা বৃষ্টি না হলে ফসলের বেশি ক্ষতি হবে না। মাঠ পর্যায়ে কর্মকর্তারা ক্ষতির পরিমাণ যাচাই করছেন।
অতিবৃষ্টিতে সদর উপজেলায় অন্তত ৫০টি পুকুর পানিতে ভেসে গেছে, ফলে মৎস্য চাষিরাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। মৎস্য কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আসাদুল্লাহ/রিফাত/