বিগত সরকার আমলে সিলেটে উন্নয়নবৈষম্য দূর করতে সড়ক, রেল ও আকাশ পথে যাত্রী বিড়ম্বনার ঘোচাতে প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে ‘ডেডলক’ কর্মসূচি পালন করেছিলেন সিলেটের সাবেক মেয়র ও বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আরিফুল হক চৌধুরী। এবার তিনি ‘সিলেট আন্দোলন’ ঘোষণা করে উন্নয়নবৈষম্য ও বঞ্চনার চিরঅবসানে মশাল মিছিল ও গণঅবস্থান কর্মসূচি দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৩১ অক্টোবর) রাতে নগরীর কুমারপাড়ার বাসভবনে মতবিনিময় করে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন আরিফুল হক চৌধুরী।
আগামী রবিবার (২ নভেম্বর) সিলেট নগরীতে গণঅবস্থান কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়। ওইদিন বেলা ১১টায় সিটি পয়েন্ট থেকে সুরমা মার্কেট পয়েন্ট পর্যন্ত এ কর্মসূচি পালন করা হবে।
এ কর্মসূচিকে সফল করতে শনিবার সন্ধ্যায় হযরত শাহজালাল (রহ.) দরগাহ এলাকা থেকে নগরীতে মশাল মিছিল করা হবে।
সিলেটের ন্যায্য দাবি-দাওয়া আদায়ে ‘সিলেট আন্দোলন’ নামে একটি অরাজনৈতিক মোর্চাও গঠন করা হয়। মতবিনিময় সভায় বিএনপির নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যবসায়ী. সামাজিক, সাংস্কৃতিক, শিক্ষক, সাংবাদিক, ধর্মীয় ও পরিবহন মালিক-শ্রমিক সংগঠনের নেতারা অংশ নেন।
সভায় বলা হয়, উন্নয়নের ক্ষেত্রে সিলেট নানাভাবে বঞ্চনার শিকার। এ বিভাগের উন্নয়নবৈষম্য দূর করতে নগরীর কোর্ট পয়েন্টে ১২ অক্টোবরের সমাবেশ থেকে ১৫ দিনের আলটিমেটাম দেওয়া হয়েছিল। এই সময়সীমা শেষ হলেও দাবি বাস্তবায়নের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেই। এ অঞ্চলের উন্নয়ন বঞ্চনা ঘুচাতে ‘সিলেট আন্দোলন’ নামে একটি ফোরাম গঠন করা হয় এবং নবগঠিত ফোরামের উদ্যোগে রবিবার গণঅবস্থান কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়।
সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী কর্মসূচি ঘোষণা করে শুক্রবার জুমার বয়ানে বিষয়টি তুলে ধরতে সিলেট অঞ্চলের ইমামদের প্রতি আহ্বান জানান। পাশাপাশি মন্দির, গির্জা ও প্যাগোডার দায়িত্বশীলদেরকেও সিলেটের মানুষের ন্যায্য দাবিটি তুলে ধরার আহ্বান তার।
এ ছাড়া, শনিবার বাদ মাগরিব হযরত শাহজালাল (র.) দরগাহ চত্বর থেকে কর্মসূচির সমর্থনে একটি মশাল মিছিল বের করার সিদ্ধান্ত হয়।
সভায় আরিফুল হক চৌধুরী জানান, সড়ক ও রেল যোগাযোগের বিষয়ে বিদ্যমান সমস্যা নিয়ে তিনি সম্প্রতি সড়ক পরিবহন ও সেতু উপদেষ্টা এবং রেল উপদেষ্টা মোহাম্মদ ফাওজুল কবির খানের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন। সাক্ষাতকালে তিনি জানান, এ সমস্যা সম্পর্কে তারা ওয়াকিবহাল এবং তিনি নিজে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক পরিদর্শন করেছেন। বর্তমানে পরিস্থিতির অনেকটাই উন্নতি হয়েছে। গত সপ্তাহখানেক ধরে লোকজন ৬-৭ ঘণ্টায় ঢাকায় যাতায়াত করতে পারছেন। আরিফুল হক চৌধুরী সড়ক যোগাযোগ নিয়ে কিছুটা সন্তুষ্টি প্রকাশ করলেও রেলের টিকেটসহ অবকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে এখনো কাঙ্খিত উন্নয়ন হয়নি বলে অভিযোগ করেন। তবে, উপদেষ্টা সিলেটের জন্য ১০টি বগি বরাদ্দের আশ্বাস তাকে দিয়েছেন। বিমান ভাড়ার বিষয়টি এখনো উদ্বেগের।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে সিলেট সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে উল্লেখ করে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, সিলেটের জন্য ২০২১ সালে সিলেটের উপজেলা ও ইউনিয়নসমূহের রাস্তাঘাট সংস্কার ও উন্নয়নের জন্য ২ হাজার ৪০০ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু, স্থানীয় সরকার সচিব ফের প্রকল্পটির ডিপিপি (ডেভেলপম্যান্ট প্রজেক্ট প্রপোজাল) তৈরি করার নির্দেশনা দিয়েছেন। বিষয়টি আমাদের জন্য হতাশার। বাদাঘাটে ওয়াটার ট্রিটম্যান্ট প্ল্যান্ট স্থাপনেরও তেমন অগ্রগতি নেই।
এ অবস্থায় আগামী রোজার মাসে সিলেটে পানির জন্য হাহাকার তৈরি হতে পারে বলে সাবেক মেয়র আশঙ্কা প্রকাশ করেন। সামগ্রিক পরিস্থিতিতে সিলেটের মানুষের রাজপথে নামা ছাড়া সামনে কোনো উপায় নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।
আরিফুল হক চৌধুরীর ভাষ্য, দাবি আদায় না হওয়া ছাড়া আমরা রাজপথ ছাড়ব না। এতে মতবিনিময় সভায় উপস্থিত প্রতিনিধিত্বশীল ব্যক্তিরা একাত্মতা পোষন করেন।
অমিয়/