শীত শুরু হতে না হতেই ব্যস্ত সময় পার করছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের লেপ-তোশকের কারিগররা। সুঁই, সুতা, তুলা ও ধনুক নিয়ে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত তারা ব্যস্ত সময় পার করছেন। শহরের বিভিন্ন বাজারে লেপ-তোশক কিনতে বা বানাতে ক্রেতাদের ভিড় বেড়েছে। অনেকে পুরোনো লেপ-তোশক মেরামত করছেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, শহরের নিউমার্কেট-সংলগ্ন এলাকা, পুরোনো বাজার ও শিবগঞ্জ বাজারজুড়ে এখন লাল কাপড়ে সুঁই-সুতা বুননের কর্মব্যস্ততা। কারিগরদের ব্যস্ত হাতে তৈরি হচ্ছে নতুন লেপ, তোশক ও জাজিম। দোকানিরা পর্যায়ক্রমে অর্ডার নিচ্ছেন, আবার সময়মতো ডেলিভারি দিতে রাত পর্যন্ত কাজ করছেন।
শিবগঞ্জ পৌর এলাকার ছোটচক মহল্লার বাসিন্দা ওমর ফারুক বলেন, ‘কিছুদিন ধরে দিনের বেলায় বাতাস থাকলেও গরম অনুভূত হচ্ছে। কিন্তু সন্ধ্যার পর থেকে ভোর পর্যন্ত ঠাণ্ডা পড়ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘শীতের আগেই লেপ বানাতে দিয়েছি। তবে গতবার যারা বানিয়েছিল তাদের থেকে শুনেছি, এবার খরচ কিছুটা বেড়েছে।’
পৌর এলাকার আলিনগরের বাসিন্দা নেকবর আলী জানান, ‘সাধারণত নভেম্বরের শেষ দিকে শীত শুরু হয়। কিন্তু এবার সময়ের আগেই ঠাণ্ডা পড়ছে। তাই মৌসুমের শুরুতেই লেপ তৈরির অর্ডার দিয়েছি। কারিগররা জানিয়েছেন, খুব অল্প সময়েই তারা লেপ তৈরি করে দেবেন।’
ব্যবসায়ীরা বলছেন, গত বছরের তুলনায় এবারে লেপ-তোশক তৈরির খরচ কিছুটা বেড়েছে। পাকিস্তান ও মিসর থেকে আমদানি হওয়া বাঙ্গা তুলা, চীন থেকে আনা থাইবার তুলা, আর দেশীয় কার্পাস তুলার দামও বেড়েছে। এর সঙ্গে শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি পাওয়ায় সামগ্রিক উৎপাদন ব্যয় বেড়ে গেছে।
তারা জানান, বর্তমানে প্রতি কেজি শিমুল তুলা ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকা, পোশাকপণ্য থেকে তৈরি কার্পাস তুলা ১৪০ থেকে ১৮০ টাকা, কালো তুলা ৩০ থেকে ৪০ টাকা এবং সাদা তুলা ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
পৌর এলাকার লেপ-তোশকের কারিগর অহেদুর রহমান বাবু বলেন, ‘শীতের শুরুতেই ক্রেতার ভিড় বেড়েছে। গত বছরের তুলনায় এবার ক্রেতা বেশি।’
তিনি জানান, ‘একটি লেপ তৈরিতে এখন ১৫০০ থেকে ১৬০০ টাকা পর্যন্ত খরচ হয়, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ২০০ টাকা বেশি। লেপ তৈরির মজুরি ২০০ থেকে ৩০০ টাকা, বালিশের ৫০ টাকা আর তোশক ও জাজিম তৈরিতে ৩০০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত মজুরি নেওয়া হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘মজুরির হারও এখন কিছুটা বেশি। তবু কাজের চাপ সামলাতে গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করতে হচ্ছে।’
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, আগাম শীতের আভাস পাওয়ায় এবার বাজারে চাহিদা বেড়েছে। ফলে প্রতিদিনই বাড়ছে অর্ডারের সংখ্যা। অনেকে নিজের পছন্দমতো কাপড় ও তুলা বেছে নিয়ে লেপ বানাচ্ছেন। আবার কেউ পুরোনো লেপে নতুন কভার লাগিয়ে নিচ্ছেন।
পুরোনো বাজারের দোকানদার মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘এবার শীতের আগেই বিক্রি শুরু হয়েছে। সাধারণত ডিসেম্বর মাসে ক্রেতারা ভিড় করেন, কিন্তু এবার নভেম্বরের শুরু থেকেই কাজের চাপ বেড়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘লেপ বানানোর খরচ বেড়েছে, কিন্তু বিক্রিও ভালো হচ্ছে। শীত যত বাড়বে, বিক্রিও তত বাড়বে।’