জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত সাবেক শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার পরও সন্তোষ প্রকাশ করেছেন কুমিল্লার শহিদ হামিদুর রহমান সাদমানের মা কাজী শারমিন আক্তারের কান্না। তবে মৃত্যুদণ্ডের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করলেও তার চোখেমুখে দেখা গেছে সন্তান হারানোর হাকাকার।
সোমবার (১৭ নভেম্বর) শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডাদেশ ঘোষণার পর বিকেলে কুমিল্লা নগরীর রাজগঞ্জের দেশওয়ালীপট্টির বাড়িতে ছেলের ছবি বুকে জড়িয়ে অঝোরে কাঁদতে দেখা যায় তাকে। রায় শুনে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সাদমানের মা কাজী শারমিন আক্তার বলেন, হাসিনাকে দেশে ফিরেয়ে এনে রায় কার্যকর করা না পর্যন্ত খুশি হতে পারব না।
গেল বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পলায়নের পর ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে মিছিলে যোগ দিতে গেলে বংশাল থানার সামনে পুলিশের গুলিতে সাদমান মারা যায়। সাদমানের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লা সদর দক্ষিণের দীঘলগাঁওয়ে। তার বাবার ইকবাল মজুমদার বাহরাইন প্রবাস। দুই ভাইয়ের মধ্যে সাদমান ছিলেন বড়। পড়াশোনা করতেন কুমিল্লা সিসিএন পলিটেকনিকের প্রকৌশল বিভাগে।
রায় ঘোষণার পর প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে সাদমানের মা শারমিন আক্তার কাঁদতে কাঁদতে বলেন, হাসিনা বাংলাদেশে অনেক মায়ের বুক খালি করেছে। সে আমার বুক খালি করছে, তাকে একবার ফাঁসি দিলেও তার বিচার হবে না। তাকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকর করতে হবে। তা না হলে আমার ছেলের আত্মা শান্তি পাবে না। আমি তখনই পুরোপুরি খুশি হবো যখন শুনব হাসিনাসহ তার পলাতক দোসরদের দেশে ফিরিয়ে এনে মৃত্যুদণ্ডের রায় কার্যকর করা হবে।
শহিদ সাদমানের স্মৃতিচারণ করে কাজী শারমিন আক্তার বলেন, ‘‘ছেলের বন্ধু রাফি আমাকে বলেছে, আমার ছেলের বুকে গুলি লাগার পর তিন বার মা মা বলে ডাক দিয়েছে, এটাই ছিল আমার ছেলের শেষ ডাক। সাদমান যখন শহিদ হয় তার বাবা প্রবাসে ছিলেন, আমি তো আমার ছেলের রক্তমাখা দেহ ধরতে পেরেছি মুখ দেখতে পেরেছি; কিন্তু তার বাবা তাও পারেনি।’’
কাজী শারমিন জানান, কুমিল্লা মডার্ন স্কুল থেকে এসএসসি পাস করেই প্রকৌশলী হওয়ার ইচ্ছা নিয়ে কুমিল্লা সিসিএন কলেজে ভর্তি হয়। পরে জুলাই আন্দেলন চলাকালে ইন্টার্নি করার জন্য ঢাকায় চলে যায়। কিন্তু কে জানতো- এ যাওয়াই হবে তার শেষ যাওয়া।
তিনি বলেন, গত ৪ আগস্ট আন্দোলন চলাকালে মাগরিবের পর সাদমান আমাকে কল করে বলেছিল ‘‘আম্মু আমাগো দেশের মানুষ ভালো না, আমি আইইএলটিএস করে বিদেশ চলে যাব। আমি জানতাম না এ দেশের মানুষ আমার সন্তানের জীবন কাইড়া নিবে, ছেলে হারিয়ে বুঝতে পারলাম আসলেই দেশের মানুষ ভালো না।’’
জহির/মাহফুজ