বরিশালে এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) আমদানি বন্ধ ও জনগণের অর্থ রক্ষার দাবিতে র্যালি ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৮ ডিসেম্বর) সকালে নগরীর জিলা স্কুল মোড় থেকে র্যালিটি শুরু হয়ে প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে অশ্বিনী কুমার টাউন হলে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে প্রতিবাদী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
জাস্ট এনার্জি ট্রানজিশন নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ (জেট নেট বিডি)–এর সহায়তায় এবং পরিবেশবাদী সংগঠন প্রান্তজনের আয়োজনে র্যালি ও সমাবেশে পরিবেশ আন্দোলনের কর্মী, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
সমাবেশে বরিশাল বিভাগীয় পরিবেশ ও জনসুরক্ষা ফোরামের আহ্বায়ক শুভংকর চক্রবর্তী বলেন, এলএনজি অত্যন্ত ব্যয়বহুল। আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার কারণে এটি দেশের অর্থনীতির ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করছে। তিনি বলেন, গবেষণায় দেখা গেছে, এলএনজি খাতে ১ ডলার বিনিয়োগ করলে প্রায় ৮ ডলার লোকসান হয়। বিপরীতে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে ১ ডলার বিনিয়োগে প্রায় ৯ ডলার পর্যন্ত লাভের সম্ভাবনা রয়েছে।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সম্পাদক রঞ্জিত দত্ত বলেন, এলএনজি আমদানির মাধ্যমে সরকার দেশকে ঝুঁকিপূর্ণ আর্থিক ও পরিবেশগত পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তিনি বলেন, এলএনজি কোনো টেকসই সমাধান নয়; বরং এটি জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা বাড়িয়ে জলবায়ু সংকট আরও ঘনীভূত করছে।
বরিশাল পরিবেশ ও উন্নয়ন ফোরামের সদস্যসচিব সুবাস দাস বলেন, এলএনজি আমদানিতে যে বিপুল অর্থ ব্যয় হচ্ছে, তা যদি সৌর ও বায়ুশক্তির মতো নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ করা হতো, তাহলে দেশের জ্বালানি সংকট টেকসইভাবে সমাধান সম্ভব হতো এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতো। উপকূলীয় জেলা হিসেবে বরিশালের নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান তিনি।
সমাবেশ থেকে অবিলম্বে সব এলএনজি প্রকল্প বন্ধ করে পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী জ্বালানি নীতি গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। দাবি আদায় না হলে আন্দোলন আরও জোরদার করার ঘোষণাও দেন বক্তারা।
এ সময় বক্তারা চার দফা দাবি উত্থাপন করেন। দাবিগুলো হলো—এলএনজি আমদানি ও নতুন গ্যাসভিত্তিক প্রকল্প বন্ধ করা; আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিশেষ করে সৌর ও বায়ুশক্তিতে বিনিয়োগ বাড়ানো; জনগণের করের অর্থ বিদেশি করপোরেট প্রতিষ্ঠানের হাতে না দিয়ে টেকসই বিদ্যুৎ খাতে ব্যয় করা; এবং বিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান দাম কমাতে পরিবেশবান্ধব জ্বালানি নীতি বাস্তবায়ন করা।
সবুজ/মাহফুজ