মানিকগঞ্জ শহরজুড়ে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের বাজারে প্রায় এক সপ্তাহ ধরেই চরম অস্থিরতা বিরাজ করছিল। সরকার নির্ধারিত মূল্যের কোনো তোয়াক্কা না করে ডিলার ও খুচরা বিক্রেতারা নিজেদের মতো করে বিক্রি করছিলেন। কোথাও কোথাও সরকারি দামের চেয়ে প্রায় দেড় গুণ বেশি দামে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছিল। ভোক্তাদের অভিযোগ ছিল-চাহিদা স্বাভাবিক থাকলেও সরবরাহ কৃত্রিমভাবে কমিয়ে রেখে একটি সিন্ডিকেট বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে।
এই পরিস্থিতিতে গত ৪ জানুয়ারি খবরের কাগজ পত্রিকায় ‘মানিকগঞ্জে এলপিজি গ্যাসের তীব্র সংকট’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদে এলপিজির কৃত্রিম সংকট, অতিরিক্ত মূল্য আদায়, রশিদ না দেওয়া এবং প্রশাসনিক তদারকির ঘাটতির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়।
ঠিক এর একদিন পরই বিষয়টি আমলে নিয়ে মাঠে নামে জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। সংবাদ প্রকাশের পর প্রশাসনের এমন দ্রুত তৎপরতা ভোক্তাদের মাঝে স্বস্তি ফিরিয়েছে বলে মনে করছেন অনেকেই।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) সকাল ১১টা থেকে শুরু করে দুপুর ২টা পর্যন্ত মানিকগঞ্জ শহরের বেউথা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। অভিযানের নেতৃত্ব দেন সংস্থাটির সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেল।
অভিযানে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত দামে এলপিজি গ্যাস বিক্রি এবং ক্রেতাদের বিক্রয় রশিদ না দেওয়ার অভিযোগে দুইটি এলপিজি ডিলারকে মোট এক লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযান চলাকালে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ক্রয়-বিক্রয় রশিদ ও মজুত পরিস্থিতি যাচাই করা হয়। অনিয়মের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে অর্থদণ্ড আরোপ করা হয়। এ সময় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯-এর ৪০ ও ৪৫ ধারায় মেসার্স মিলেনিয়াম ট্রেডার্সের মো. সেলিমকে ১ লাখ টাকা ও মেসার্স র্যাইয়ান ট্রেডার্সের শিবলুকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
মেসার্স মিলেনিয়াম ট্রেডার্সের মালিক মো. সেলিম বলেন, ‘আমাদের চাহিদার তুলনায় ডিপো থেকে এলপিজি গ্যাসের সরবরাহ কম দেওয়া হচ্ছে। ডিসেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহ থেকেই আমরা স্বাভাবিক পরিমাণে গ্যাস পাচ্ছি না। ফলে ডিপো থেকেই আমাদের বেশি দামে গ্যাস কিনতে হচ্ছে।’
তিনি আরও দাবি করেন, উচ্চ দামে কেনার কারণে বাধ্য হয়েই আমাদের বেশি দামে বিক্রি করতে হয়েছে।
তবে অভিযানের সময় বেশি দামে গ্যাস কেনার পক্ষে কোনো বৈধ ক্রয় রশিদ বা দলিলপত্র দেখাতে পারেননি তিনি।
অভিযান শেষে জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেল বলেন, ‘সরকার নির্ধারিত মূল্যের বাইরে অতিরিক্ত দামে এলপিজি গ্যাস বিক্রি এবং ক্রেতাদের বিক্রয় রশিদ না দেওয়া আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে সাধারণ ভোক্তাদের জিম্মি করার চেষ্টা করছে। ডিলার পয়েন্ট থেকেই ১২ কেজির এলপিজি একেকজন ১৫০০ থেকে ১৬০০ টাকা করে বিক্রি করে আসছিল। আর সেগুলোই খুচরা বাজারে ১৭০০ থেকে ১৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল। এই পরিস্থিতিতে দুই ডিলারকে দেড়লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বাজারে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আমাদের এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে চলমান থাকবে।
অভিযানের খবরে শহরের অনেক ভোক্তা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, শুধু একদিনের অভিযান নয়; এলপিজি গ্যাসের বাজারে নিয়মিত তদারকি না থাকলে আবারও সংকট ও অতিরিক্ত দামের প্রবণতা ফিরে আসবে।
জামান/মাহফুজ