নড়াইলের কালিয়া উপজেলায় নিখোঁজের এক মাস আট দিন পর সেপটিক ট্যাংক থেকে আলপনা (৩৫) নামে এক গৃহবধূর গলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে কালিয়া থানা পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আলপনার স্বামী আল-আমীন মন্ডল ওরফে ইরানুরকে আটক করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাত ১০টার দিকে উপজেলার শুক্তগ্রামের বাবরা-হাচলা ইউনিয়ন কমিউনিটি ক্লিনিকের একটি সেপটিক ট্যাংক থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কালিয়া উপজেলার শুক্তগ্রাম পূর্ব পাড়ার বাসিন্দা আল আমিন মণ্ডলের স্ত্রী সুমি ওরফে আলপনা গত ১৯ ডিসেম্বর রাত আনুমানিক ১০টার পর তার শ্বশুরবাড়ি থেকে নিখোঁজ হন। এরপর স্বজনরা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। এ ঘটনার পরদিন (২০ ডিসেম্বর) নিখোঁজ গৃহবধূর ভাই মো. সাকিব মোল্লা (১৯) কালিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। এ ঘটনার তদন্তে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে আলপনার নিখোঁজের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পেয়ে মঙ্গলবার বিকেলে কালিয়া থানা পুলিশ আলপনার স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয়।
পরে আলপনার স্বামী স্বীকার করেন যে, তিনি তার স্ত্রীকে হত্যার পর মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে বাড়ির পাশে বাবরা-হাচলা ইউনিয়ন কমিউনিটি ক্লিনিকের সেপটিক ট্যাংকে লুকিয়ে রেখেছেন। পরে তাকে সঙ্গে নিয়ে মঙ্গলবার রাতে পুলিশ আলপনার গলিত মরদেহ উদ্ধার করে।
কালিয়া থানার উপ-পরিদর্শক(এসআই) তারিকুল ইসলাম বলেন, নিখোঁজের জিডির পর তথ্য প্রযুক্তির সহযোগিতায় স্বামী আল আমীনের জড়িত থাকার বিষয়টি সামনে আসায় তাকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করে তার স্বিকারোক্তি মোতাবেক মরদেহ উদ্ধার করা হয় এবং আল আমীনকে আটক করা হয়। মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) কালিয়া সার্কেল রবিন হালদার বলেন, নিখোঁজের জিডি হওয়ার পর পুলিশ ছায়া তদন্ত শুরু করে। এরপর নিহতের স্বামীকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেন যে, তার স্ত্রীকে তিনি হত্যা করে মরদেহ গুমের চেষ্টা করেছেন। তার দেওয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী মরদেহটি বাড়ির পাশে একটি সেপটিক ট্যাংক থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
শরিফুল ইসলাম/নাঈম