মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের শমশেরনগর গলফ মাঠ খনন করে চা ও রাবারগাছ রোপণের উদ্যোগ নিয়েছে চা-বাগান কর্তৃপক্ষ। এতে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে এলাকাটির দৃষ্টিনন্দন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও ঐতিহ্যবাহী পর্যটন পরিবেশ। এ ছাড়া পর্যটন খাতের ক্ষতির শঙ্কা দেখা দিয়েছে, যা স্থানীয় অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এমন অবস্থায় স্থানীয়রা খনন কাজ বন্ধের দাবি জানিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে চা-বাগান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও শেষ পর্যন্ত তা সম্ভব হয়নি। তবে জেলা প্রশাসক বলছেন, জায়গার মালিকানা নিয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।
জানা গেছে, সবুজে ঘেরা এই গলফ মাঠটি দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়দের পাশাপাশি দূর-দূরান্ত থেকে আসা পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্র ছিল। তবে মাঠ খনন করে বাণিজ্যিক চা ও রাবারগাছ রোপণের ফলে এর স্বাভাবিক গঠন ও সৌন্দর্য ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
শমশেরনগর চা-বাগান কর্তৃপক্ষ গত বুধবার সকাল থেকে জেলার অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র শমশেরনগর গলফ মাঠ খুঁড়ে চাগাছ ও রাবারগাছ লাগানোর পরিকল্পনা করছে। ইতোমধ্যে মাঠের একটি অংশ খুঁড়ে ফেলা হয়েছে। এতে করে একদিকে পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে অন্যদিকে পর্যটন খাত ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়বে।
স্থানীয়রা জানান, গলফ মাঠটি শুধু একটি খেলার স্থান নয়, বরং শমশেরনগরের পরিচিত একটি পর্যটন স্পট। এটি নষ্ট হলে আগের তুলনায় পর্যটক কমে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে, যা স্থানীয় পর্যটন ও অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। চা-বাগান কর্তৃপক্ষের এমন সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই কাম্য নয়। এখানে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে শত শত পর্যটক আসে। বাগান কর্তৃপক্ষ কোনো অবস্থায় একটি পর্যটন কেন্দ্র নষ্ট করতে পারে না। দ্রুত সময়ে এ কাজ বন্ধ করার দাবি তারা জানান।
স্থানীয় পরিবেশকর্মী সালাউদ্দীন শুভ বলেন, ‘এই গলফ মাঠ শুধু একটি খেলার জায়গা নয়, এটি একটি পর্যটন স্পট। বাণিজ্যিক গাছ লাগানোর আগে এর পর্যটনের গুরুত্ব বিবেচনা করা উচিত ছিল। সবুজ খোলা মাঠই ছিল শমশেরনগরের পরিচয়। সেটি নষ্ট হলে পর্যটক কমবে, এতে সন্দেহ নেই।’
পর্যটক আবদুর রব বলেন, ‘শমশেরনগর গলফ মাঠের খোলা সবুজ পরিবেশটাই আমাদের এখানে টেনে আনত। এখন মাঠ খুঁড়ে চা ও রাবারগাছ লাগানো হলে এই জায়গার স্বাভাবিক সৌন্দর্য আর আগের মতো থাকবে না। এতে পর্যটকদের আগ্রহ কমে যাবে।’
বিষয়টি জানার জন্য শমশেরনগর চা-বাগানের ব্যবস্থাপক ও সহকারী ব্যবস্থাপকের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি। মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে বাগান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করব। এই জায়গাটা কার দখলে সেটা দেখতে হবে। তাদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।’