ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে প্রশাসনের (রিটানিং কর্মকর্তা) পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ ও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড না থাকার অভিযোগে ‘প্রতিবাদী অনশনে’ বসেছেন সিলেট-১ (মহানগর-সদর) আসনের বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) প্রার্থী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন সুমন।
রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে সিলেট কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে তিনি অনশনে বসেন।
এর আগে সিপিবি প্রার্থী গত ৫ ফেব্রুয়ারি জরুরি সংবাদ সম্মেলন করে আনোয়ার হোসেন সুমন ঘোষণা দিয়েছিলেন, ২৪ ঘন্টার মধ্যে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড না পেলে তিনি ভোটের আগে অনশনে বসবেন।
তিনি জানান, ২৪ ঘন্টা পেরিয়ে ৪৮ ঘন্টা পর তিনি অনশনে বসেছেন।
আনোয়ার হোসেন সুমন অভিযোগ করেন, আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে তার প্রচারণার বিলবোর্ড অপসারণ করা হলেও অন্য প্রার্থীদের ক্ষেত্রে একই বিধি প্রয়োগ করা হচ্ছে না। সিলেট মহানগরে দুজন প্রার্থী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে প্রতিটি ওয়ার্ডে দুই থেকে তিনশ বিলবোর্ড স্থাপন করেছেন। পাশাপাশি বৈদ্যুতিক খুঁটি ও গাছে ফেস্টুন লাগানো, নির্ধারিত সাইজ অমান্য করা এবং সিএনজিচালিত অটোরিকশায় পোস্টার লাগানোর মতো একাধিক অনিয়ম করেছেন। তারপরও প্রশাসন বা রিটার্নিং কর্মকর্তার পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। প্রশাসনের আশ্বাস না পাওয়া পর্যন্ত এই প্রতিবাদী অনশন চলবে বলে জানান কমিউনিস্ট পার্টির মনোনীত এই প্রার্থী।
নির্বাচনে প্রচারণার ক্ষেত্রে সমান সুযোগ সুবিধা ও সুষ্ঠু পরিবেশ লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বিঘ্নিত হচ্ছে অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলনে আনোয়ার হোসেন সুমন জানিয়েছিলেন তার স্থাপন করা বিলবোর্ড প্রশাসন সরিয়ে নিয়েছে।
তিনি বলেন, সিলেট মহানগরের প্রতিটি ওয়ার্ডে সর্বোচ্চ ১টি করে বিলবোর্ড লাগানোর বিধান থাকলেও অন্তত দুইজন প্রার্থী প্রায় প্রতিটি ওয়ার্ডে গড়ে ২০ থেকে ২৫টি করে বাঁশের স্ট্রাকচারে তৈরি প্রায় তিন শতাধিক বিলবোর্ড লাগিয়ে আচরণবিধি লঙ্ঘন করছেন।
সিলেট-১ আসনে চলমান প্রায় ১৯ হাজার সিএনজি এর মধ্যে অধিকাংশ সিএনজি অটোরিকশার পেছনে ২ জন প্রার্থীর রঙিন পোস্টার লাগানো রয়েছে যা আচরণ বিধির চরম লঙ্ঘন। সিলেট শহরের বৈদ্যুতিক খুঁটিতে ও গাছে প্রায় ৪ থেকে ৫ হাজার ফেস্টুন লাগানো রয়েছে যা আচরণ বিধির লঙ্ঘন।
একটি রাজনৈতিক দলের নির্বাচনি জনসভা শেষ হওয়ার পরও প্রার্থীর নাম ও ছবি এবং দলের নাম সংযুক্ত প্রায় ২ থেকে ৩ হাজার অপচনশীল দ্রব্যের তৈরি রঙিন ব্যানার ও বিলবোর্ড লাগানো রয়েছে, যার ফলে ঐ প্রার্থী ও দল প্রচারণায় সুবিধা পাচ্ছেন এবং অন্য আরেকটি দলের প্রার্থী একই তৎপরতায় লিপ্ত রয়েছেন। দুইজন প্রার্থী বিভিন্ন বাসায় বাসায় রঙিন লিফলেট বিলি করে নির্বাচনি আচরণ বিধি লঙ্ঘন করলেও সিলেটের রিটার্নিং অফিসার ও অন্যান্যদের কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি।
তিনি আরও বলেছিলেন, সিলেটের জেলা প্রশাসক ও প্রশাসনের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগণ নির্বাচনে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে ক্যাম্পেইন করে ইতোমধ্যে নিজেদের নিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ন করেছেন। সিলেটের শ্রমজীবী মেহনতি মানুষ তথা আপামর জনসাধারণের নিকট জনপ্রিয় প্রার্থী হিসেবে আমার প্রতি বিরাগভাজন জেলা প্রশাসক ও পুলিশ কমিশনার উদ্দেশ্যমূলকভাবে আমার নির্বাচনি প্রচারণাকে বাধাগ্রস্ত করার পক্ষপাতিত্বমূলক উদ্দেশ্যে বিধি সম্মতভাবে লাগানো আমার বিলবোর্ড খুলে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু যে সব প্রার্থী উপরোল্লিখিত মতে আচরণ বিধি লঙ্ঘন করেছেন তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, যা ন্যায় সঙ্গত নয়। এ অবস্থায় লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত না করলে নির্বাচন পক্ষপাত দুষ্ট হবে। এর প্রতিবাদে আমরণ অনশনে যেতে বাধ্য হব।’
এদিকে, সিপিবি প্রার্থীর অনশনের বিষয়ে সিলেট জেলা প্রশাসনের পক্ষে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে এর আগে সিলেটের রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘একজন প্রার্থী এমন অভিযোগ করেছেন। যা সত্য নয়।’
এসএন/