কুষ্টিয়ার খোকসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে হয়রানি ও হুমকির অভিযোগ তুলে জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেছেন মাহফুজুর রহমান বর্ষণ নামের একজন ইলেকট্রনিকস ব্যবসায়ী।
গত শুক্রবার বিকেলে তিনি সশরীরে হাজির হয়ে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক ইকবাল হোসেনের কাছে এই আবেদন করেন।
বিষয়টি শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) জানাজানি হলে এ নিয়ে আলোচনার সৃষ্টি হয়। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে খোকসা থানার ওসি মোতালেব হোসেন বলেছেন এটা তার বিরুদ্ধে একটি ষড়যন্ত্র।
ভুক্তভোগী মাহফুজুর রহমান বর্ষণ কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার জানিপুরের মাঠপাড়া গ্রামের গোলাম সরোয়ারের ছেলে। এ ছাড়া খোকসা বাজারের প্রধান সড়কে তার বর্ষণ ইলেকট্রনিকস নামে একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে।
বর্ষণের অভিযোগ, বর্তমান খোকসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোতালেব হোসেন খোকসা উপজেলার এক আওয়ামী লীগ নেতার কাছ থেকে এক লাখ টাকা অথবা তার মেয়ের জন্য একটি ল্যাপটপ এনে দিতে বলেন। আর এই কাজটি না করায় এখন তিনি জীবনের ঝুঁকিতে রয়েছেন।
লিখিত আবেদনে মাহফুজুর রহমান বর্ষণ উল্লেখ করেন, থানার কাছে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কারণে বর্তমান ওসি মোতালেব হোসেনের সঙ্গে তার সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। সেই সম্পর্কের সূত্র ধরে গত ১ জানুয়ারি ওসি তাকে শিমুলিয়া ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ নেতা নাসির মেম্বারের কাছ থেকে এক লাখ টাকা অথবা তার মেয়ের জন্য একটি ল্যাপটপ এনে দিতে বলেন। তিনি এতে রাজি না হওয়ায় বিভিন্ন সময় তাকে হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ৭ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ৯টার দিকে ওসি তার দোকানে এসে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে যান। পরে ১৫ ফেব্রুয়ারি খোকসার চিহ্নিত সন্ত্রাসী রাজন তার অনুপস্থিতিতে বাড়িতে গিয়ে খোঁজখবর নেন এবং হোয়াটসঅ্যাপে ‘HP Core i7 12th Gen’ মডেলের একটি ল্যাপটপের তথ্য পাঠিয়ে কিনে দেওয়ার জন্য চাপ দেন। এতে অস্বীকৃতি জানালে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে দাবি করেন বর্ষণ।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী বর্ষণ জানান, তিনি বর্তমানে খুব কঠিন সময় পার করছেন। প্রথমে ভালো সম্পর্ক তৈরি করে পরে বিভিন্ন অজুহাতে টাকা দাবি করা হয়। থানার মসজিদে বিভিন্ন কাজ করিয়ে বিল আদায়ের জন্যও তার দোকানে পাওনাদার পাঠানো হয়েছে। তিনি এখন ব্যবসা পরিচালনা ও বাড়ির বাইরে যাওয়া নিয়ে শঙ্কায় আছেন। তিনি অভিযুক্ত ওসির বদলি ও বিচার দাবি করেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে খোকসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোতালেব হোসেন জানান, তিনি সন্ত্রাসী রাজনকে গ্রেপ্তারের জন্য তৎপর। অভিযোগকারী ও রাজনের বাড়ি একই এলাকায়। রাজন তাকে বিতর্কিত করার জন্য চক্রান্ত করতে পারেন। নাসির মেম্বার নামে কাউকে তিনি চেনেন না বলে জানান।
এ ব্যাপারে কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক ইকবাল হোসেন জানান, অভিযোগ পেয়েছেন এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জানতে চাইলে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দীন বলেন, ‘বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। ভুক্তভোগীর অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যদি ওসির এমন কোনো কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়া যায় অবশ্য তার বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।’