প্রায় চার বছর আগে চাঁদপুর আধুনিক লঞ্চঘাট নির্মাণকাজ শুরু হলেও এখন পর্যন্ত শেষ হয়নি। ঘাটের পন্টুনের সঙ্গে সিঁড়িগুলো অনেক উঁচু। নেই কোনো বিশ্রামাগার। পরিবহনে ব্যবস্থাপনাও বিশৃঙ্খল। ফলে ঈদকে সামনে রেখে রাজধানীসহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে লঞ্চে আসা যাত্রীরা ঘাটে এসে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সরেজমনি গিয়ে যাত্রীদের দুর্ভোগের চিত্র দেখা গেছে। বিশেষ করে লঞ্চ থেকে নামার পরই বিড়ম্বনায় পড়ছেন যাত্রীরা। ঘাটে থাকা সিএনজি চালিত অটোরিকশা, অটোবাইক চালকদের মালপত্র নিয়ে টানাটানি বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। অস্বস্তিতে পড়ছেন যাত্রীরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নির্মাণকাজ বন্ধ রাখায় অনেক দিন থেকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ঈদ উপলক্ষে বিআইডব্লিউটিএ কিছুটা মেরামত কাজ করলেও তাতে দুর্ভোগ কমছে না। প্রতিদিন হাজারও যাত্রী এই দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।
ঘাটে লঞ্চের জন্য অপেক্ষমাণ যাত্রী রোকসানা বেগম বলেন, ঢাকায় যাব। লঞ্চের জন্য অপেক্ষা করছি। কিন্তু বিশ্রামাগার না থাকায় খোলা আকাশের নিচে থাকতে হচ্ছে। স্যানিটেশন ব্যবস্থা না থাকায় শিশুদের নিয়ে বিড়ম্বনা পোহাতে হচ্ছে। দূর থেকে আসা সব যাত্রীই একই পরিস্থিতির শিকার।
আরেক যাত্রী আব্দুর রউফ বলেন, ঈদে বাড়িতে আসা আনন্দ করার জন্য। কিন্তু লঞ্চ থেকে নামলে কুলিরা মালপত্র নিয়ে টানাটানি করে। এরপর অটোচালকদের টানাটানি। এসব নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি।
ঢাকাগামী আরেক যাত্রী জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, মানুষ লঞ্চে যাতায়াত করে নিরাপদ ভ্রমণ হিসেবে। কিন্তু এই লঞ্চঘাটে অব্যবস্থাপনার কারণে যাত্রীরা সমস্যায় পড়ছেন। বিশেষ করে গাড়ি চালকরা বেশি হয়রানি করে। কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি তারা যেন বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে দেখেন।
এ বিষয়ে চাঁদপুর নৌ থানার ওসি এএসএম ইকবাল হোসেন বলেন, ‘ঈদ উপলক্ষে নৌ পুলিশ ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করছে। ঈদের পরও এই কার্যক্রম চলবে।
চাঁদপুর নৌ বন্দরের উপ-পরিচালক মো. কামরুজ্জামান বলেন, বন্দরের নির্মাণকাজ চলমান থাকায় অস্থায়ী ঘাট ব্যবহার করা হচ্ছে। আমরা চেষ্টা করছি, যাত্রীরা যেন নিরাপদে বাড়ি যেতে পারে।’
চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. নাজমুল ইসলাম সরকার বলেন, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে লঞ্চঘাটে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছেন। তদারকি বাড়ানো হয়েছে। আশা করছি- যারা ঘাটে দায়িত্ব পালন করছেন তাদের তত্ত্বাবধান এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনায় যাত্রী সেবা নিশ্চিত হবে।