ঈদ মানেই নতুন পোশাক, ছোট ছোট স্বপ্নের রঙিন ডানা। কিন্তু সেই আনন্দ সবার কপালে সমানভাবে জোটে না। আখাউড়ায় কিছু পথশিশুর জন্য সেই অপূর্ণতাকে রাঙিয়ে দিলেন একদল সাংবাদিক। নিজেদের পছন্দে নয়, শিশুদের পছন্দেই কিনে দিলেন ঈদের নতুন পোশাক।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) দুপুরে পৌরশহরের সড়কবাজারের একটি তৈরি পোশাকের দোকানে দেখা যায় ব্যতিক্রমী এক দৃশ্য।
দোকানজুড়ে ছড়িয়ে আছে উচ্ছ্বাস আর আনন্দের কোলাহল। কেউ শার্ট পছন্দ করছে, কেউ পাঞ্জাবি কিংবা ফ্রক। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেদের নতুন পোশাক দেখে হাসিতে ভরে উঠছে তাদের মুখ।
একজন আরেকজনকে দেখিয়ে বলছে, ‘তোরটা ভালো, না আমারটা?’- তুলনা আছে, কিন্তু নেই কোনো হিংসা বা অভিমান; বরং আছে নিখাদ আনন্দের ঝিলিক। সেই হাসি যেন ছড়িয়ে পড়ছিল পুরো দোকানজুড়ে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া প্রেসক্লাবের উদ্যোগে অর্ধশতাধিক পথশিশুকে এভাবে তাদের পছন্দমতো ঈদের নতুন পোশাক কিনে দেওয়া হয়। নিজেদের পছন্দের পোশাক হাতে পেয়ে শিশুদের আনন্দ যেন ছাপিয়ে যায় সব অভাব-অভিযোগ।
প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নুরুন্নবী ভুঁইয়া বলেন, ‘প্রতিবছরের মতো এবারও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিশুরা নিজের পছন্দমতো পোশাক বেছে নিতে পারছে- এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।’
এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি এম এ জলিল, সাবেক সাধারণ সম্পাদক জুটন বনিক, প্রিন্ট ও টিভি জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক জুনাইদ হোসেন পলক, সাংবাদিক রাসেল মিয়া, মো. ইসমাইলসহ অন্যরা।
এক বিকেলের এই ছোট আয়োজন যেন বড় এক বার্তা দেয়- ঈদের আনন্দ তখনই পূর্ণ হয়, যখন তা সবার সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া যায়।
জুটন বনিক/অমিয়/