সীমান্ত দিয়ে সম্ভাব্য অবৈধ অনুপ্রবেশ ও কথিত পুশইন প্রতিরোধে দিনাজপুর সীমান্তজুড়ে কঠোর নজরদারি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি)। সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গোয়েন্দা তৎপরতা, টহল কার্যক্রম এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে সচেতনতামূলক কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে।
শুক্রবার (৫ জুন) বিজিবির এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
সাম্প্রতিক সময়ে ভারতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ এবং দেশের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় কথিত অবৈধ নাগরিকদের বাংলাদেশে পুশইনের অভিযোগ সামনে আসার পর সীমান্ত পরিস্থিতি নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে। বিশেষ করে দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের দিনাজপুর জেলার দীর্ঘ সীমান্ত এলাকা সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় সীমান্ত সুরক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, সম্ভাব্য পুশইন ও অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি এবং নিয়মিত টহল কার্যক্রম উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ সীমান্ত পয়েন্ট, ফাঁকা এলাকা এবং নদীপথ চিহ্নিত করে সেখানে দিন ও রাতের টহল জোরদার করা হয়েছে। সীমান্ত এলাকায় বিজিবির উপস্থিতি আরও কার্যকর ও দৃশ্যমান করতে অতিরিক্ত টহল দল মোতায়েন করা হয়েছে।
এ ছাড়া সীমান্তের সম্ভাব্য অরক্ষিত ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে অস্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে নাইট ভিশন গগলস, ড্রোন ও বাইনোকুলারের মাধ্যমে নজরদারি পরিচালনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সীমান্তকেন্দ্রিক অপরাধ, দালাল চক্র এবং অবৈধ কার্যক্রমে জড়িত ব্যক্তিদের ওপর বিশেষ নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।
বিজিবি জানিয়েছে, যেকোনো ধরনের পরিস্থিতি দ্রুত মোকাবিলার লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ এবং মাঠপর্যায়ের সমন্বয় কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে।
সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করছে বিজিবি। এ লক্ষ্যে সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক জনসচেতনতামূলক সভা, মাইকিং এবং গণসংযোগ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। রাত্রিকালীন টহল দল বাঁশি ও টর্চলাইটের মাধ্যমে সীমান্তসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক করছে এবং অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম না করার আহ্বান জানাচ্ছে।
এ ছাড়া স্থানীয় বাসিন্দাদের নিয়ে ছোট ছোট সতর্কতামূলক দল গঠন করা হয়েছে, যাতে সন্দেহজনক ব্যক্তি বা কার্যক্রম সম্পর্কে দ্রুত তথ্য আদান-প্রদান সম্ভব হয়।
বিজিবির মতে, সীমান্ত সুরক্ষায় জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি পেলে অবৈধ অনুপ্রবেশ, পুশইন এবং সীমান্তকেন্দ্রিক অপরাধ প্রতিরোধ আরও কার্যকর হবে।
দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান বলেন, ‘অবৈধ পুশইন প্রতিরোধে বিজিবি সবসময় আপসহীন। সীমান্তবর্তী জনসাধারণকে সচেতন করতে আমি ব্যক্তিগতভাবে জনসচেতনতামূলক সভায় অংশগ্রহণ করেছি। কোম্পানি ও বিওপি কমান্ডারগণও নিয়মিতভাবে স্থানীয় জনগণের সঙ্গে মতবিনিময় ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমাদের সদস্যরা সর্বদা সতর্ক ও প্রস্তুত রয়েছেন।’
তিনি সীমান্ত এলাকায় বসবাসরত জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘পুশইন, অবৈধ অনুপ্রবেশ কিংবা যেকোনো সন্দেহজনক তৎপরতা সম্পর্কে তথ্য পাওয়া মাত্রই বিজিবিকে অবহিত করতে হবে। সীমান্ত সুরক্ষায় জনগণ ও বিজিবির সমন্বিত উদ্যোগই সবচেয়ে বড় শক্তি।’
বিজিবি জানিয়েছে, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, চোরাচালান, মাদক ও অস্ত্র পাচার প্রতিরোধ এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধে বাহিনী সর্বদা সজাগ রয়েছে। পরিস্থিতির প্রয়োজন অনুযায়ী সীমান্ত এলাকায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত থাকবে।
সুলতান/রিফাত/