সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার রামপাশা ইউনিয়নের ইব্রাহিম শাহ-এর মাজারের ওরস চলাকালে মাজারের পাশের একটি বাউল গানের আসরে হামলা চালায় স্থানীয় একদল লোক। গত রবিবার রাতে উপজেলার শ্রীপুর গ্রামে ইবরাই শাহ মাজারের পাশে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
এর পরদিন সোমবার (২৩ মার্চ) সকালে স্থানীর একটি মসজিদে ইটপাটকেল ছুঁড়ে জানালা ভেঙে দেয় কিছু মানুষ। কিন্তু কে বা কারা এটা করেছে তা স্পষ্ট না হলেও অভিযোগের তীর মাজার কর্তৃপক্ষের ওপর।
অপরদিকে মাজার কর্তৃপক্ষ বলছে, মাজারে হামলার ঘটনা ভিন্ন দিকে নিতে পরদিন ভোরে পাশের মসজিদের জানালার গ্লাস ভাঙচুর করে মাজারের ভক্তদের দোষারোপ করছেন হামলাকারীরা।
জানা যায়, উপজেলার রামপাশা ইউনিয়নের ইব্রাহিম শাহ-এর মাজারে দীর্ঘ বছর ধরে ওরস ও বাউল গানের আসর অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। প্রতিবছরই সারাদেশ থেকে আসা ভক্তদের অংশগ্রহণে এই আয়োজন হয়। এর ধারাবাহিকতায় এবারও তিন দিনব্যাপী বাউল গানের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। রবিবার রাতে অনুষ্ঠান চলাকালে হঠাৎ করে শতাধিক লোক সেখানে হামলা চালায়।
হামলার কিছু ভিডিওচিত্র অনলাইনের ছড়িয়ে পড়ে। তাতে দেখা যায়, হামলাকারীরা ‘নারায়ে তকবির, আল্লাহু আকবর’, ‘ইসলামের শত্রুরা, হুঁশিয়ার সাবধান’ স্লোগান দিয়ে হামলা চালায়। তাদের কয়েকজনের হাতে লাঠিসোটা ছিল। তারা অনুষ্ঠানস্থলে ঢুকে বাদ্যযন্ত্র ও সাউন্ড সিস্টেমসহ অন্যান্য জিনিষ ভেঙে ফেলে।
আচমকা আক্রমণে ভয়ে অনুষ্ঠান থেকে পালিয়ে যান আয়োজক ও মাজারের ভক্তরা। এতে অনুষ্ঠান সম্পূর্ণভাবে পণ্ড হয়ে যায়।
ভাঙচুরের পর হামলাকারীরা মিছিল করে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করে বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা।
এদিকে মাজারের অনুষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা এবং মসজিদে ঢিল ছুঁড়ার ঘটনায় কোনো পক্ষই মামলা করেনি।
পুলিশ বলছে মাজারে পাশের গানের প্যান্ডেলে হামলার ঘটনায় কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। মসজিদে ঢিল কারা ছুঁড়েছে এটাও স্পষ্ট না।
তবে স্থানীয়রা জানান, ইব্রাহিম শাহ-এর মাজারের প্রায় ১০০ বছর ধরে নির্দিষ্ট সময়ে ওরস ও বাউলগানের আসর অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এতে সিলেট বিভাগসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ভক্ত, দর্শনার্থীরা অংশ নেন। এরই ধারাবাহিকতায় এবারও তিন দিনব্যাপী বাউলগানের আসরের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় দিন রবিবার রাতে হঠাৎ শতাধিক লোক সংঘবদ্ধ হয়ে সেখানে হামলা চালিয়ে বাউলগানের আসর পণ্ড করে দেয়। কিন্তু বিগত কোনো সময় এভাবে গানের আসরে হামলা হয়নি।
স্থানীয়রা বলছেন, ওরস হয়েছে প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে। তাহলে হামলা কেন হলো। হামলা হয়েছে কারণ এখানে একপক্ষ চাঁদাবাজি করতে পারেনি। সেজন্য তারা ধর্মের নামে হামলা করেছে।
ঘটনার পর মাজারের খাদেম দুদু মিয়া সংবাদকর্মীদের কাছে অভিযোগ করেন, প্রায় ১০০ বছর ধরে মাজারকে ঘিরে ওরস অনুষ্ঠান হয়ে আসছে। এতে প্রতিবছরই সিলেটের বিভিন্ন এলাকার ভক্তরা আসেন। রবিবার রাতে হঠাৎ এক ব্যক্তি তার সাঙ্গোপাঙ্গ ও আত্মীয়স্বজন নিয়ে এসে গানের আসরে হামলা চালান। হামলাকারীরা ঘটনার আগে কোনো অভিযোগ মাজার কর্তৃপক্ষকে করেননি। পরে হামলাকারীরা ঘটনাটি ভিন্ন দিকে নিয়ে যেতে পরদিন ভোরে পাশের মসজিদের জানালার গ্লাস ভাঙচুর করে মাজারের ভক্তদের এ ঘটনায় দোষারোপ করেন।
বিশ্বনাথ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মাহবুবুর রহমান খবরের কাগজকে বলেন, ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত আছে। ঘটনা মাজারের ভেতরে নয়, মাজারের মূল ভেন্যুর বাইরে গ্রামের পাশে তৈরি করা একটি মঞ্চে গান-বাজনা হচ্ছিল। এতে স্থানীয় মানুষের ঘুমে ব্যাঘাত হচ্ছিল, তারা এসে গান বন্ধ করে দিয়েছে। তবে কোনপক্ষই আমাদের কাছে অভিযোগ করেনি।
তিনি বলেন, স্থানীয়ভাবে উভয় পক্ষই বিষয়টি সমাধান করে নেবেন বলে জানিয়েছেন। এ ছাড়া মসজিদে কে বা কার ঢিল ছুঁড়েছে সেটাও স্পষ্ট নয়। কারণ যেদিন মসজিদে ঢিল ছোঁড়া হয় সেদিন ওই এলাকায় দুই ব্যক্তির মাঝে মারামারির ঘটনাও ঘটে। তাই এটা এখনো স্পষ্ট নয়, কারা মসজিদে ভাঙচুর করেছে।
অমিয়/