পঞ্চগড়ে শুক্রবার রাতে আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে জনজীবনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় গাছ ভেঙে চাকাতি বালা নামে এক বৃদ্ধা নিহত হয়েছেন। এছাড়াও ঘরের চাল ভেঙে দুইজন আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাত সাড়ে ১০টার দিকে প্রথম পর্যায়ে জেলার বিভিন্ন এলাকায় বিচ্ছিন্নভাবে বজ্রসহ ভারী বৃষ্টি এবং বড় বড় শিলা পড়তে শুরু করে। এরপর রাত ১২টার পর কালবৈশাখী ঝড়ের প্রভাব দেখা দেয়।
নিহত চাকাতি বালা পঞ্চগড় সদর উপজেলার সদর ইউনিয়নের চানপাড়া এলাকার বাসিন্দা।
আহতরা হলেন- ধাক্কামারা ইউনিয়নের স্টেশন এলাকার ময়নুল ইসলাম ও তার স্ত্রী খুকুমনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাত ১২টার দিকে বৃষ্টি শুরু হলেও সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঝড়ের তীব্রতা বৃদ্ধি পায়। একই সঙ্গে চলতে থাকে প্রচণ্ড মেঘের গর্জন। ঝড়ের সময় চাকাতি বালা নিজ ঘরে একাই অবস্থান করছিলেন। প্রচণ্ড বাতাসে বসতঘরের পাশে থাকা একটি বড় গাছ উপড়ে সরাসরি ঘরের ওপর পড়ে। এতে ঘরটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং তিনি গাছের নিচে চাপা পড়েন। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
এদিকে ময়নুল ইসলাম ও তার স্ত্রী খুকুমনি সন্তানদের নিয়ে নিজ ঘরে ঘুমাচ্ছিলেন। ঝড়ের কারণে পাশের একটি তিনতলা বাড়ির ছাদের ইটের দেয়াল ভেঙে তাদের ঘরের চালের ওপর পড়ে। এতে টিনের চাল ভেঙে তারা মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত পান। পরে প্রতিবেশীরা তাদের উদ্ধার করে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।
শনিবার সকাল থেকে জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ঝড়ের তীব্রতা ও শিলার আঘাতে অনেক জায়গায় টিনের চাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাত ১২টার পর ঝড়ের বেগ আরও বৃদ্ধি পায় এবং মেঘের প্রচণ্ড গর্জনে জনমনে ভীতি সৃষ্টি হয়।
চৈত্র মাসের এই সময়ে মাঠে থাকা বিভিন্ন রবি শস্য ও লিচু-আমের মুকুলের ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে ভুট্টা, গম ও শাকসবজির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় বলেন, মৌসুমি বায়ু হঠাৎ সক্রিয় হয়ে ওঠায় এই বৃষ্টিপাত ও শিলাবৃষ্টি হয়েছে। চলমান সময়ের পাশাপাশি আগামী ১ এপ্রিল জেলাজুড়ে বিচ্ছিন্নভাবে আরও প্রবল বেগে ঝড়ো হাওয়া, বজ্রসহ বৃষ্টি এবং শিলাবৃষ্টির উচ্চ আশঙ্কা রয়েছে।
সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
রনি/রিফাত/