চাঁদপুর জেলার অধিকাংশ জ্বালানি বিক্রি হয় চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক সড়কের দুই পাশে গড়ে উঠা ফিলিং স্টেশনগুলোতে। তবে বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতির কারণে অধিকাংশ পাম্পে গত ১০ থেকে ১২ দিন থেকে অকটেন সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।
সোমবার (৩০ মার্চ) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত জেলা সদর থেকে কচুয়া উপজেলার খাজুরিয়া পর্যন্ত সরেজমিন ফিলিং স্টেশনগুলোর সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
চাঁদপুর সদরের আমির হোসেন কোং, শহরের ওয়াবদা গেট মেসার্স ফয়সাল পেট্রোল পাম্প, জেলা পরিষদ সংলগ্ন শারমিন পেট্রোল পাম্প, হাজীগঞ্জ বলাখাল এইচ.বি সিএনজি অ্যাণ্ড ফিলিং স্টেশন, আলীগঞ্জ মেসার্স মনিরা ফিলিং স্টেশন, শাহরাস্তি ওয়ারুক কাজী ফিলিং স্টেশন, সুয়াপাড়া হান্নান ফিলিং স্টেশন-খাজা ফিলিং স্টেশন ও কচুয়া-গৌরিপুর সড়কের কচুয়া বাজার সংলগ্ন সুলতানা ফিলিং স্টেশন, ফরিদগঞ্জ বাস স্ট্যান্ডে মেসার্স হাজী আব্দুল আলী ফিলিং স্টেশন, মতলব উত্তর ঠেটালিয়া হযরত শাহ্ সোলেমান লেংটা ফিলিং স্টেশনে গত ১০-১২ দিন অকেটন সরবরাহ বন্ধ।
এর মধ্যে পেট্রল-অকটেন বিক্রি হয় সদরের মাত্র তিনটি ফিলিং স্টেশনে।
হাজীগঞ্জ বলাখাল এইচ.বি সিএনজি অ্যান্ড ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি নিতে আসা মেহেদী হাসান মোল্লা বলেন, তিনি আধা ঘণ্টা পর্যন্ত তেলের জন্য অপেক্ষা করছেন। কিন্তু পেট্রল ও অকটেন কিছুই নেই, তাই তাকে ফিরে যেতে হচ্ছে।
মোশারফ নামে আরেক ব্যবসায়ী বলেন, সরকার প্রয়োজনে ২০০ টাকা দরে পেট্রল বিক্রি করুক। তারপরেও আমাদের জ্বালানি প্রয়োজন। গত ১০ দিন থেকে আমরা চরম ভোগান্তিতে আছি।
একই ফিলিং স্টেশনে আসেন ব্রাকের সিডে কাজ করা আবু আহমেদ ও রবিতে কাজ করা মো. ওয়াসি। এই দুই বিক্রয় কর্মী বলেন, পেশাগত কারণে আমাদের জ্বালানির বিকল্প কিছু নেই। প্রতিদিন দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে ফিরে যাওয়া আমাদের জন্য অনেক কষ্টকর।
ফরিদগঞ্জ মেসার্স হাজী আব্দুল আলী ফিলিং স্টেশনের পরিচালক মো. ইব্রাহীম জানান, তিনি গত ১০ দিন পেট্রোল-অকটেন কোনোটাই পাননি। সরবরাহ না থাকায় তিনি বিক্রি কার্যক্রম বন্ধ রেখেছেন।
মতলব উত্তর সুজাতপুর বাজার এলাকার বাসিন্দা আল-আমিন জানান, তাদের উপজেলায় মাত্র একটি পেট্রোল পাম্প রয়েছে। এটিতে জ্বালানি না থাকায় বাইরে খুচরা দোকান থেকে ১৮০-১৯০ টাকা দরে প্রতি লিটার পেট্রল ক্রয় করতে হচ্ছে।
বিকেলে সদরের আমির হোসেন এবং ফয়সাল ফিলিং স্টেশনে দেখা গেছে মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন। তারা জ্বালানি দিলেও ৩০০ টাকার বেশি জ্বালানি দিচ্ছেননা।
চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. নাজমুল ইসলাম সরকার বলেন, পাম্পগুলোতে মজুত থাকলেো জ্বালানি বিক্রি হচ্ছে। প্রত্যেকটি পাম্পে আমরা ট্যাগ অফিসারসহ কঠোর নজরদারি রেখেছি। যেন কোনো ব্যবসায়ী গোপনে জ্বালানি মজুত রাখতে না পারে।
এদিকে চাঁদপুরের পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা ডিপোয় জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। প্রতিদিন এই ডিপোগুলো থেকে লরি ও ব্যারেলের মাধ্যমে চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী, কুমিল্লা, ফেনী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিভিন্ন পাম্পে জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হচ্ছে।
ডিপো ইনচার্জরা জানান, বর্তমানে তিনটি ডিপোয় ডিজেল মজুত রয়েছে ৭৬ লাখ ৬৫ হাজার লিটার, অকটেন ১৫ লাখ ৩৩ হাজার লিটার, পেট্রল ১৭ লাখ ২০ হাজার লিটার এবং কেরোসিন ১৯ লাখ ৩২ হাজার লিটার। যা দিয়ে আগামী এক সপ্তাহের চাহিদা মিটবে।
ফয়েজ আহমেদ/নাঈম/