বাগেরহাটের হজরত খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজারের ঘাটলা থেকে একটি কুকুরকে কুমির টেনে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় দেশব্যাপী ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। এ-সংক্রান্ত ১৬ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, যখন কুমিরটি দিঘির ঘাটলার দিকে আসছিল তখন কুকুরটি পানি থেকে উঠতে প্রাণপণ চেষ্টা করছিল। কিন্তু সামনের দিকের দুটি পা ঠিকঠাক সক্রিয় না থাকায় কুকুরটি পানি থেকে উঠতে পারেনি। একেবারে শেষ মুহূর্তে কুমির কাছাকাছি চলে এলে কুকুরটি পেছন দিকে ফিরে ঘাটে ওঠার চেষ্টা করে। আর তখনই কুকুরটিকে মুখে নিয়ে কুমিরটি পানির নিচে চলে যায়। কুকুরটির সামনের দুটি পা সক্রিয় না থাকার পেছনে অনেকে বিভিন্ন মন্তব্য করেছেন। একজনের ধারণা, ‘কুকুরটির পা হয়তো বাঁধা ছিল’!
ভিডিওতে দেখা যায়, ঘাটলায় আগে থেকে দাঁড়িয়ে থাকা অনেক মানুষ কুকুরটিকে টেনে নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখছেন। ওই সময় ঘাটের দিকে কুমির আসছে জানিয়ে দর্শনার্থীদের পানিতে নামতে নিষেধ করা হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ওই পোস্টে শফিকুল আলম নামে একজন মন্তব্যের ঘরে খেলেন, ‘জীবিত কুকুরকে এভাবে কুমিরের খাবার বানানো মোটেও ঠিক হয়নি। বিষয়টি খুব খারাপ লাগল।’ হেনা আক্তার সুপ্তি নামে আরেকজন লেখেন, ‘কুকুরটার সামনের পা বাঁধা মনে হচ্ছে, তাই সে ওপরে উঠতে পারছে না।’
ভয়েস অব বাংলাদেশ নামের আইডি থেকে বলা হয়, ‘অন্য মানুষরা তো তামাশা দেখছে।’ সুলতানা নাজনীন লাভলী লেখেন, ‘ভিডিওতে সামনে যে লোকটাকে দেখা যাচ্ছে, তদন্ত করে তার বিচার হওয়া উচিত।’
মাজারের খাদেম ও নিরাপত্তা প্রহরীরা জানান, ঘটনাটি গত ৮ এপ্রিল বিকেলের। তবে তারা বলছেন, মাজারের দিঘির কাছে একটি অসুস্থ কুকুর শিশুসহ কয়েকজনকে কামড় দেয়। কয়েকজন তখন কুকুরটিকে তাড়াতে লাঠি নিয়ে তাড়া করেন। কুকুরটি নারীদের ঘাট থেকে তখন মূল ঘাটের দিকে দৌড় দেয়। সেখানে গিয়ে মাজারের নিরাপত্তা প্রহরী ফোরকানকে আঁচড় দেয়। তিনি পা ঝাড়া দিলে কুকুরটি পানিতে পড়ে যায়। এরপর কুমিরটি কুকুরটিকে ধরে টেনে পানির নিচে নিয়ে যায়। ওই অংশটুকুই ফেসবুকে ছড়িয়েছে।
ভিডিওতেও নীল শার্ট পরা এক ব্যক্তিকে দেখা গেছে। তিনি মাজারের নিরাপত্তা প্রহরী ফোরকান হাওলাদার। কুকুরে আঁচড় দেওয়ায় বৃহস্পতিবার বাগেরহাট জেলা হাসপাতাল থেকে তিনি টিকা নিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘পাগলা কুকুরটি দু-তিনজনকে কামড়ায়। দিঘির ঘাটের কাছে এলে আমি সবাইকে সতর্ক করছিলাম। তখন কুকুরটা আমার পায়েও কামড় দেয়। তারপর আমি পা ঝাড়া দিলে কুকুরটি পানিতে পড়ে যায়। তখন কুমির এটিকে নিয়ে যায়।’ তবে পুরো বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের দাবি উঠেছে।