সিরাজগঞ্জ জেলা শহরে লোডশেডিংয়ের পরিমাণ কিছুটা কম থাকলেও উপজেলার বিভিন্ন গ্রামগুলোতে গত কয়েকদিন ধরে ঘন ঘন বিদ্যুৎ লোডশেডিং চলছে। আর এ লোডশেডিংয়ের কারণে গ্রাম অঞ্চলের মানুষের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে।
ইরি ও বোরো মৌসুমে লোডশেডিংয়ের কারণে চলনবিল এলাকায় ধানক্ষেতে সেচ দিতে না পারায় চরম অসুবিধায় পড়েছেন কৃষকেরা। এ ছাড়ও লোডশেডিংয়ের কারণে সিরাজগঞ্জের তাঁতশিল্প এলাকায় ইঞ্জিনচালিত কারখানাগুলোতে ব্যাহত হচ্ছে উৎপাদন। কারখানার মালিকেরা ডিজেল চালিত জেনারেটরের সাহায্যে পাওয়ার লুম ও তাঁত কারখানা সচল রাখার চেষ্টা করছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জ্বালানি তেল সংকটের কারণে চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ উৎপাদন কম হওয়ায় এ সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, জেলার তাড়াশ, রায়গঞ্জ, শাহজাদপুর, বেলকুচি, উল্লাপাড়া ও চৌহালীসহ বিভিন্ন উপজেলার বিভিন্ন গ্রামগুলোতে গত কয়েকদিন ধরে ঘনঘন লোডশেডিংয়ে প্রচণ্ড গরমে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। দিনে-রাতে এ লোডশেডিংয়ে উপজেলা শহরসহ গ্রামাঞ্চলের শিশু ও বৃদ্ধ মানুষ অসহ্য গরমে যন্ত্রণায় পড়েছে এবং অনেকেই বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।
লোডশেডিংয়ের ব্যাপারে রায়গঞ্জ ভূইয়াগাতী জোনাল অফিসের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার (এজিএম) রওনক হোসেন বলেন, মূলত গ্রিড থেকে বলা হচ্ছে লোড কমাতে, তাই আমরা লোড কমিয়ে দিচ্ছি। বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ার কারণে এ সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে।
এ ব্যাপারে শাহজাদপুর জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. শামীম খান “খবরের কাগজকে” বলেন, প্রতিদিন চাহিদার তুলনায় ৪০ থেকে ৬০ ভাগ বিদ্যুৎ কম পাচ্ছি। যার কারণে লোডশেডিং হচ্ছে। মূলত জ্বালানি তেল সংকটের কারণে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ উৎপাদন কম হচ্ছে। যার কারণে আমরা গ্রাহকের কাছে যথেষ্ট পরিমাণ বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারছি না। এ সংকট কতদিন থাকবে তা বলতে পারছি না।
সিরাজুল ইসলাম/নাঈম