বরগুনার আমতলী ও পাথরঘাটা উপজেলায় পৃথক বজ্রপাতের ঘটনায় দুইজন নিহত হয়েছেন। একই দিনে বজ্রপাতের বিকট শব্দে আতঙ্কিত হয়ে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ১১ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরে বৃষ্টির সময় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তিরা হলেন, আমতলী উপজেলার পূজাখোলা গ্রামের কৃষক নুরজামাল (৫৪) এবং পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের পদ্মা এলাকার জেলে আল আমিন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরে আমতলীর পূজাখোলা গ্রামে বৃষ্টির মধ্যে বিলে ও পাথরঘাটা উপজেলার বলেশ্বর নদীতে মাছ ধরার সময় বজ্রপাতে নুরজামাল ও জেলে আল আমিন মারা যান।
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাহাদাৎ মো. হাসনাইন পারভেজ ও পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান,, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ দুই পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
এদিকে, দুপুরের দিকে বরগুনা সদর উপজেলার ফুলঝুড়ি ইউনিয়নের ফুলঝুড়ি স্কুল অ্যান্ড কলেজে বজ্রপাতের বিকট শব্দে অন্তত ১১ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। তারা সবাই ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
স্কুল সূত্রে জানা যায়, কালবৈশাখী ঝড়ের সময় হঠাৎ বজ্রপাত হলে বিকট শব্দে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এতে কয়েকজন শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন সমস্যায় আক্রান্ত হয়। প্রথমে তাদের স্থানীয় কমিউনিটি ক্লিনিকে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরগুনার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
স্কুলের একাধিক শিক্ষার্থী জানায়, বজ্রপাতটি স্কুলের সামনে একটি তালগাছে আঘাত হানে। বিকট শব্দে অনেকেই ভয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে।
প্রতিষ্ঠানটির সহকারী শিক্ষক মো. ওবায়দুল কবির বলেন, বজ্রপাতের পর তৃতীয় তলায় থাকা শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক বেশি দেখা যায়। পরে তাদের প্রাথমিক সেবা দিয়ে হাসপাতালে পাঠানো হয়।
বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. মো. মাহফুজুর রহমান বলেন, বজ্রপাতের শব্দে আতঙ্কিত হয়ে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়েছে। তবে তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক নয়। প্রয়োজন হলে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে।
মহিউদ্দিন অপু/অন্তরা