দিনের শুরুতেই আকাশের মেঘলা ভাব কাটিয়ে রোদের ঝিলিক। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে সেই রোদের তেজ। অন্যদিনের মতো চারপাশ অন্ধকারে ঢেকে যায়নি; নেই বিদ্যুতের ঝলকানি, মেঘের গর্জন কিংবা ঝোড়ো বাতাস।
মঙ্গলবার (৫ এপ্রিল) সকালে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার কাউয়াদীঘি হাওরপারের প্রকৃতি যেন একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে। কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি, মেঘের গর্জন আর ঝোড়ো হাওয়ার পর নেই সেই তাণ্ডবের ছাপ। আকাশ পরিষ্কার, রোদের আলো ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ছে চারদিকে।
কিন্তু এই আলো যেন পুরোপুরি আলোকিত করতে পারছে না কৃষকের মন। কারণ, এই সামান্য রোদই এখন তাদের কাছে শেষ আশ্রয়।
সদর উপজেলার আখাইলকুড়া ইউনিয়নের বিরইমাবাদ এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, রোদ উঠতেই কৃষকদের মধ্যে শুরু হয়েছে এক নীরব যুদ্ধ। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে তারা ছুটছেন ধান বাঁচানোর শেষ চেষ্টায়। কেউ ধান কেটে তুলছেন, কেউ নৌকায় করে সেগুলো সরিয়ে নিচ্ছেন উঁচু জমিতে। আবার কেউ ভেজা ধান মাড়াই করছেন, শুধু এই আশায় যতটুকু বাঁচানো যায়।
এসময় আরও দেখা গেছে, কোথাও কাটা ধান স্তূপ করে রাখা, কিন্তু সেগুলোতেও ধরেছে পচন। কোথাও আবার সেই স্তূপই ধীরে ধীরে তলিয়ে যাচ্ছে পানির নিচে। নৌকার অভাবে অনেক কৃষকের কাটা ধান পড়ে আছে পানির ভেতরেই, যেন নষ্ট হওয়ার অপেক্ষায়।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মৌলভীবাজারের সাতটি উপজেলায় ৫ হাজার ২০০ হেক্টর জমির ধান পানিতে নিমজ্জিত, এবং ৩ হাজার ৬৫০ হেক্টর জমির ধান পঁচে নষ্ট হয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন প্রায় ২০ হাজার কৃষক। মাঠপর্যায়ে জরিপের মাধ্যমে ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ চলছে।
স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্যে, দুই দিন আগেও যে জমিতে পানি ছিল না, সেখানে এখন বুকসমান পানি। ৪০-৫০ আঁটি ধান আনতে নৌকা ভাড়া গুনতে হচ্ছে ৫০০ টাকা, আর শ্রমিকের মজুরি ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা। ফলে ধান বিক্রি করে উৎপাদন খরচও তোলা যাচ্ছে না।
মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. জালাল উদ্দিন বলেন, জেলায় এখন পর্যন্ত ৫ হাজার ২০০ হেক্টর জমির ধান পানিতে নিমজ্জিত, এবং ৩ হাজার ৬৫০ হেক্টর জমির ধান পঁচে নষ্ট হয়েছে। কাউয়াদীঘি হাওরের জলাবদ্ধতা নিরসনে সেচ কার্যক্রম চালু থাকলেও ভারী বর্ষণের কারণে দ্রুত পানি নামানো যাচ্ছে না।
তিনি আরও জানান, মাঠপর্যায়ে জরিপের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে।
পুলক পুরকায়স্থ/এসএন