ঠাকুরগাঁওয়ে দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে সৌর সেচব্যবস্থা। ডিজেল ও বিদ্যুতের নির্ভরতা না থাকায় আশার আলো দেখছেন কৃষকেরা।
ধানসহ বিভিন্ন ফসল উৎপাদনের ক্ষেত্রে সেচ একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ কাজে পাম্পের মাধ্যমে পানি তুলতে কৃষকদের ডিজেল ও বিদ্যুতের ওপর নির্ভর করতে হয়।
সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে গেছে। এর আগে দীর্ঘ সময় দেশে জ্বালানি তেলের ‘সংকট’ ছিল। এ ছাড়া ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হয়। বাধ্য হয়ে কৃষকদের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে সেচ চলমান রাখতে হতো।
এমন পরিস্থিতিতে ঠাকুরগাঁওয়ের কৃষকরা আশার আলো খুঁজে পেয়েছেন। একটি বেসরকারি সংস্থার সরবরাহ করা সোলার পাম্পের মাধ্যমে তারা জমিতে সেচ দিচ্ছেন।
জানা গেছে, এই প্রযুক্তিতে সূর্যের আলো থেকেই সরাসরি পাম্প চালানো হচ্ছে। ফলে ডিজেল কিংবা বিদ্যুতের প্রয়োজন পড়ছে না। জেলার ২৬ জন কৃষককে এই পাম্প অনুদান হিসেবে দেওয়া হয়েছে। তাদের মাধ্যমে দুই হাজারের বেশি কৃষক সেচ সুবিধার আওতায় এসেছেন।
কৃষকরা বলছেন, ধানচাষের পাশাপাশি গম, ভুট্টা, আলু, সরিষাসহ বিভিন্ন সেচনির্ভর ফসলে এই সোলার সেচপাম্প ব্যবহার করা হচ্ছে। স্বল্প খরচে নিরবচ্ছিন্ন পানি সরবরাহ পাওয়ায় কৃষকরা আগের তুলনায় বেশি লাভবান হচ্ছেন।
তারা জানান, আগে ডিজেল কিনে সেচ দিতে তাদের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হতো। অনেক সময় বিদ্যুৎ না থাকলে জমিতে সময়মতো পানি দেওয়া সম্ভব হতো না। এখন সোলার পাম্পের মাধ্যমে দিনের আলোতেই সহজে সেচ দেওয়া যাচ্ছে। এতে খরচ যেমন কমেছে, তেমনি উৎপাদনও বেড়েছে।
ওমর ফারুখ নামে সুবিধাভোগী এক কৃষক বলেন, ‘আগে এক বিঘা জমিতে সেচ দিতে অনেক টাকা খরচ হতো। এখন সোলার পাম্প ব্যবহারের কারণে সেই খরচ অনেক কমে গেছে। সময়মতো পানি দিতে পারায় ফলনও ভালো হচ্ছে।’
মো. রাসেল নামে আরেক কৃষক জানান, ‘বিদ্যুৎ চলে গেলে আগে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হতো। এখন সূর্যের আলো থাকলেই সেচ দেওয়া যাচ্ছে। এতে আমাদের কাজ অনেক সহজ হয়েছে।’
জেলার রানীশংকৈলের নেকমরদ এলাকার বাসিন্দা মো. ওয়ালিউর বলেন, ‘ডিজেলের দাম বাড়ায় আগে সেচ নিয়ে চিন্তায় থাকতে হতো। এখন সোলার পাম্প থাকায় বাড়তি খরচ ছাড়াই নিজের ও অন্যের জমিতে পানি দিতে পারছি। এতে লাভও বেশি হচ্ছে।’
অনুদান দেওয়া বেসরকারি সংস্থাটি ‘স্মার্ট রাইস মিল’ প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের কাছে এসব পাম্প পৌঁছে দিয়েছে। ওই প্রকল্পের প্রজেক্ট ম্যানেজার কল্যাণ মহান্ত জানান, কৃষকদের মাঝে এই প্রযুক্তির গ্রহণযোগ্যতা দিন দিন বাড়ছে। অনেক কৃষক এর প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ঠাকুরগাঁওয়ের উপ-পরিচালক মাজেদুল ইসলাম বলেন, কৃষিতে সৌরপ্রযুক্তির ব্যবহার বাড়লে একদিকে কৃষকরা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবেন, অন্যদিকে বিদ্যুৎ ও ডিজেলের ওপর নির্ভরতা কমবে।