ফরিদপুরের চরভদ্রাসন পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের (কেন্দ্র কোড: ৫২১) এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে ভুল প্রশ্নপত্রে উচ্চতর গণিত (সৃজনশীল) পরীক্ষা নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে উপজেলাজুড়ে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়। এর আগে গত ১৭ মে এ ঘটনা ঘটে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অনুমোদন অনুযায়ী ‘নায়াগ্রা’ (৩ সেট) প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার কথা থাকলেও ওই কেন্দ্রের ৩৪ জন শিক্ষার্থীকে ভুলবশত ‘সাহারা’ (১ সেট) প্রশ্নপত্র দিয়ে পরীক্ষা নেওয়া হয়। ঘটনার পর দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে কেন্দ্র সচিব, হল সুপার ও ট্যাগ অফিসারকে শোকজ (কারণ দর্শানোর নোটিশ) করা হয়েছে। একই সঙ্গে পরীক্ষা কেন্দ্র সচল রাখতে জরুরি ভিত্তিতে নতুন কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ মে অনুষ্ঠিত উচ্চতর গণিত (সৃজনশীল) পরীক্ষায় চরভদ্রাসন উপজেলায় মোট ৬৮ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে রোকন উদ্দিন সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের ৩৪ জন পরীক্ষার্থী নির্ধারিত ‘নায়াগ্রা’ (৩ সেট) প্রশ্নপত্রে সঠিকভাবে পরীক্ষা দিলেও চরভদ্রাসন পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে থাকা বাকি ৩৪ জন পরীক্ষার্থীকে দেওয়া হয় ‘সাহারা’ (১ সেট) প্রশ্নপত্র।
এ ব্যাপারে চরহাজিগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থী মেহেদী হাসান জানায়, পরীক্ষা শেষে অন্য কেন্দ্রের এক বন্ধুর প্রশ্নপত্র দেখে আমরা বুঝতে পারি যে একই বিষয়ের হলেও দুই কেন্দ্রে প্রশ্নপত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন ছিল। পরে বিষয়টি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুনীল কুমার মণ্ডলকে জানানো হয়।
এ ব্যাপারে চরহাজিগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুনীল কুমার মণ্ডল বলেন, শিক্ষার্থী মেহেদী বিষয়টি জানানোর পর আমি তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবহিত করি। পরে তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেন।
চরভদ্রাসন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা খন্দকার মাকসুদুর রহমান বলেন, বিষয়টি জানার পরপরই আমরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হয় দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসার ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. জাহিদ তালুকদারের সঙ্গে। তবে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
বিষয়টি নিয়ে চরভদ্রাসন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুরাইয়া মমতাজ বলেন, ঘটনাটি ১৭ মে পরীক্ষার দিন ঘটলেও আমরা ১৮ মে বিকেলে জানতে পারি। পরে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। পরীক্ষার্থীদের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। তারা যে প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দিয়েছে, সেই প্রশ্ন অনুযায়ীই খাতা মূল্যায়ন করে ফলাফল প্রকাশ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, দায়িত্বে অবহেলার কারণে কেন্দ্র সচিব শিক্ষক নজরুল ইসলাম, হল সুপার শিক্ষক মোজাহারুল হক এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসার মো. জাহিদ তালুকদারকে শোকজ করা হয়েছে। পরীক্ষা কেন্দ্রের কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে জরুরি ভিত্তিতে নতুন কেন্দ্র সচিব, হল সুপার ও ট্যাগ অফিসার নিয়োগ দিয়ে দায়িত্ব হস্তান্তর করা হয়েছে।
নয়ন/নাঈম