চট্টগ্রামের বাকলিয়া থানার ১৯ নং ওয়ার্ডের চরচাক্তাই চেয়ারম্যান ঘাটা এলাকায় সাড়ে তিন বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় জনতা ও পুলিশের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে।
বিক্ষুব্ধ জনতা পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেয় এবং র্যাব-পুলিশের ৭-৮টি গাড়িতে ভাঙচুর করে।
সংঘর্ষের ঘটনায় দুইজন সংবাদকর্মীসহ স্থানীয়দের ২০ জন আহত হয়েছেন। যার ফলে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে প্রায় তিনঘন্টা যান চলাচল বন্ধ ছিল।
ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে সন্ধ্যার পর থেকে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। স্থানীয়রা চেয়েছিল, অভিযুক্তকে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হোক। কিন্তু পুলিশ তাতে রাজি না হয়ে অভিযুক্তকে থানায় নিয়ে যেতে চাইলে উপস্থিত জনতা ক্ষিপ্ত হয়ে যায়। রাত ৯টার দিকে সংঘর্ষ জোরদার হয়। রাত সাড়ে ১০টার দিকে উত্তেজিত জনতা পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়।
বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সোলাইমান বলেন, বৃহস্পতিবা (২১ মে) রাত সাড়ে ১১টার দিকে পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে।
বিকেল ৫টার দিকে বাকলিয়া থানার চেয়ারম্যানঘাটা এলাকার আবু জাফর রোডে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র।
ভুক্তভোগীর খালা খবরের কাগজকে বলেন, বিকেলে চেয়ারম্যান ঘাটা সংলগ্ন বালির মাঠ এলাকার একটি দোকানের ভেতরে সাড়ে তিন বছরের তার ভাগ্নিকে ফুসলিয়ে নিয়ে যায় এক যুবক। সেখানে শিশুটির ওপর যৌন নিপীড়ন চালানো হয়। ঘটনার পর শিশুটি কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি ফিরে তার নানা-নানিকে বিস্তারিত জানায়।
বিষয়টি জানতে পেরে ক্ষুব্ধ নানা-নানি তাৎক্ষণিকভাবে ওই দোকানে গিয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় অভিযুক্ত যুবককে হাতেনাতে ধরে ফেলেন। মুহূর্তের মধ্যে এই খবর ছড়িয়ে পড়লে শত শত বিক্ষুব্ধ জনতা ঘটনাস্থলে জড়ো হয়ে অভিযুক্তকে গণপিটুনি দিতে শুরু করে। উপস্থিত জনতার জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত যুবক ঘটনার দায় স্বীকার করে বলে, আমাকে শয়তানে পাইছে, তাই দোকানের ভেতরে নিয়ে এই কাজ করেছি।’
খবর পেয়ে বাকলিয়া থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থল ‘বিসমিল্লাহ’ ভবনে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অভিযুক্তকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।
কিন্তু উত্তেজিত জনতা ধর্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে পুলিশের গাড়ি ঘেরাও করে রাস্তা আটকে দেয়। ভুয়া ভুয়া বলে স্লোগান দেয়। তারা আসামিকে পুলিশের হেফাজত থেকে ছিনিয়ে নিয়ে গণপিটুনির চেষ্টা চালায়।
একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং জনতা পুলিশকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পুলিশ ও জনতার মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ ও টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে। লাঠিচার্জের মুখে ক্ষুব্ধ জনতা চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে পুরো নূর হোসেন চেয়ারম্যান ঘাটা ও বালির মাঠ এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, মুহূর্তের মধ্যে বন্ধ হয়ে যায় স্থানীয় দোকানপাট। সংঘর্ষ চলে রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত।এরপর পুলিশ পুরো এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেয়। তবে এলাকায় বর্তমানে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
ঘটনার পর পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) পাঠিয়েছে। অভিযুক্ত যুবককে আটক করে থানায় নিয়ে গেছে পুলিশ।
আমান/