ঘড়ির কাঁটা তখন ১টা ছুঁইছুঁই। পটুয়াখালী কলাতলা হাউজিং রাস্তার মোড়ে অন্যদিনের মতো মানুষের ভিড় নেই। তপ্ত রোদে পিচঢালা সড়ক থেকে যেন আগুনের হলকা ওঠছে। গরম বাতাসে নিঃশ্বাস নিতেও কষ্ট হচ্ছে। এমন সময় রাস্তার পাশের একটি গাছের ছায়ায় রিকশা থামিয়ে বসে ছিলেন শামীম মাতবর। কপাল বেয়ে ঝরছিল ঘাম। কিছুক্ষণ আগে যাত্রী নামিয়ে এসে একটু বিশ্রাম নিচ্ছিলেন।
শামীম মাতবর বলেন, 'এখন আর আগের মতো একটানা রিকশা চালাতে পারি না। একটু চালালেই শরীর দুর্বল হয়ে যায়। রোদে মনে হয় আগুন ঝরছে। কিন্তু ঘরে বসে থাকলে তো সংসার চলবে না'।
সাম্প্রতিক সময়ে তীব্র গরমে পটুয়াখালীর জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে উঠেছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন খোলা আকাশের নিচে কাজ করা শ্রমজীবী মানুষ। রিকশাচালক, দিনমজুর, নির্মাণশ্রমিক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের অনেকেই বলছেন, দাবদাহের কারণে কাজের গতি কমে গেছে, কমেছে আয়ও।
শহরের নিউমার্কেট, চৌরাস্তা, লঞ্চঘাট, কলেজরোডসহ বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, দুপুরের পর রাস্তাঘাট অনেকটাই ফাঁকা। প্রয়োজন ছাড়া মানুষ বাইরে বের হচ্ছেন না। গাছের ছায়া, দোকানের সামনের শেড কিংবা ভবনের বারান্দায় আশ্রয় নিতে দেখা গেছে রিকশাচালকদের। কেউ যাত্রীর অপেক্ষায়, কেউবা একটু স্বস্তির খোঁজে বিশ্রাম নিচ্ছেন।
রিকশাচালক হানিফ চৌকিদার বলেন, আগে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চালাতাম। এখন দুপুরে অন্তত ঘরে বসে থাকতে হয়। মাথা ঘোরে, শরীর ক্লান্ত হয়ে যায়। আয়ও কমে গেছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রচণ্ড গরমের কারণে অনেকেই অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত কমিয়ে দিয়েছেন। ফলে যাত্রীসংখ্যা কমে যাওয়ায় রিকশাচালকদের আয়েও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
লঞ্চঘাট এলাকায় অপেক্ষমাণ আরেক রিকশাচালক ইউসুফ মোল্লা বলেন, আগে দিনে যে আয় হতো, এখন তার চেয়ে অনেক কম হচ্ছে। কিন্তু বাজারখরচ, বাসাভাড়া সব তো আগের মতোই আছে। গরমে কাজ করা যায় না, আবার কাজ না করলেও সংসার চলে না।
পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. মশিউর রহমান বলেছেন, অতিরিক্ত গরমে দীর্ঘ সময় বাইরে থাকলে পানিশূন্যতা, মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, দুর্বলতা এবং হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে। বিশেষ করে যারা খোলা পরিবেশে কাজ করেন, তাদের সতর্ক থাকতে হবে। পর্যাপ্ত পানি পান, ওরস্যালাইন গ্রহণ এবং প্রয়োজন হলে ছায়াযুক্ত স্থানে বিশ্রাম নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
হাসিবুর রহমান/খাদিজা রুমি/