কুমিল্লার মুরাদনগরে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের এক নারীকে (২৫) ধর্ষণের মামলার প্রধান আসামি ফজর আলীকে রাজধানীর সায়েদাবাদ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাছাড়া, ভিডিও ধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ভিডিও ধারণকারীরা হলেন- অনিক, সুমন, রমজান এবং বাবু। গ্রেপ্তার সবাই মুরাদনগরের পাঁচকিত্তা এলাকার বাসিন্দা।
শনিবার (২৮ জুন) রাতে কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাশেদুল ইসলাম।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৬ জুন আনুমানিক রাতে মুরাদনগরের একটি গ্রামে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে ফজর আলী নামের একজনকে স্থানীয়রা আটক ও মারধর করেন। পরবর্তীতে ফজর আলী সেখান থেকে পালিয়ে যান। ঘটনাস্থলে কিছু লোক তাৎক্ষণিক ভুক্তভোগীর ভিডিও ধারণ করেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। খবর পেয়ে মুরাদনগর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে। ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন। ঘটনাটি ভিডিও ধারণ করে যারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছে তাদের মধ্যে চারজনকে এরই মধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা পুলিশ সুপার নাজির আহমেদ খান সংবাদমাধ্যমকে বলেন, মূল অভিযুক্ত ফজর আলীকে ঢাকার সায়দাবাদ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া ভিডিও ধারণকারী ও সরবরাহকারীদের কুমিল্লার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে আলাদা একটি মামলা করা হবে। মূল অভিযুক্ত ফজর আলী আহত অবস্থায় থাকায় তাকে আইন অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়ার পর আদালতে উপস্থাপন করা হবে।
থানায় করা অভিযোগ ও মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুর রহমানের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ১৫ দিন আগে হোমনা উপজেলার স্বামীর বাড়ি থেকে বাহেরচর পাঁচকিত্তা গ্রামে তার বাবার বাড়ি বেড়াতে আসেন ওই নারী। গত ২৬ জুন বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে ওই নারীর বাবা-মা বাড়ির বাইরে গেলে অভিযুক্ত ফজর আলী ভুক্তভোগীর বাড়িতে গিয়ে ঘরের দরজা খুলতে বলেন। ভুক্তভোগী ওই নারী ঘরের দরজা খুলতে অস্বীকৃতি জানালে, একপর্যায়ে ফজর আলী কৌশলে ঘরে ভিতরে প্রবেশ করেন। পরে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। এসময় তার চিৎকারে স্থানীয়রা এসে তাকে হাতেনাতে আটক করে ওই নারীকে উদ্ধার করে এবং অভিযুক্তকে মারধর করে ভিডিও করে রাখে। ভুক্তভোগী নারীর দুই সন্তান রয়েছে। তার স্বামী ৫ বছর যাবত প্রবাসে থাকেন।
ভুক্তভোগী ওই নারী জানান, টাকা ধার নেওয়া নিয়ে ফজর আলীর সঙ্গে আমাদের পারিবারিক পরিচয় হয়। এই সূত্র ধরেই ফজর আলী আমাদের বাড়িতে আসেন।
অমিয়/