মাগুরায় মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে তিনটি মরদেহ উদ্ধার হওয়ায় জেলাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে শ্রীপুর উপজেলায় এক গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগে তার স্বামীকে আটক করেছে পুলিশ।
বুধবার (১ এপ্রিল) দুপুরে শ্রীপুর উপজেলার বড়উদাস গ্রামে নেপিয়ার ঘাসের ক্ষেত থেকে লিমা খাতুন (২৪) নামে এক গৃহবধূর বিবস্ত্র মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি ওই গ্রামের হাই জোয়ার্দারের মেয়ে এবং ঝিনাইদহ জেলার হাটগোপালপুর গ্রামের সুজন শেখের (২৫) স্ত্রী।
পুলিশ জানায়, সকালে স্থানীয় কৃষক জামাল শেখ জমিতে কাজ করতে গিয়ে মরদেহটি দেখতে পান। পরে নিহতের পরিবারকে খবর দিলে তার বাবা এসে রশি পেঁচানো মরদেহটি শনাক্ত করেন।
খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।
বুধবার সন্ধ্যায় পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, পারিবারিক কলহের জেরে স্বামী সুজন শেখ স্ত্রীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন।
পুলিশ সুপার জানান, গত ৩০ মার্চ লিমা তার শাশুড়ির সঙ্গে বাবার বাড়িতে বেড়াতে আসেন। পরদিন সন্ধ্যায় সুজন কৌশলে ফোন করে তাকে নির্জন স্থানে ডেকে নেন। সেখানে পিছন থেকে রশি দিয়ে গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে মরদেহ ফেলে পালিয়ে যান।
পুলিশের তথ্যমতে, প্রায় সাত বছর আগে প্রেমের সম্পর্কের মাধ্যমে তাদের বিয়ে হয় এবং তাদের সংসারে দুটি সন্তান রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে দাম্পত্য কলহ চলছিল, যা এই হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ঘটনার পর অভিযুক্ত সুজন শেখকে আটক করে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে মামলার প্রক্রিয়া চলছে।
এদিকে একই দিন বিকেলে শ্রীপুর উপজেলার বরইচারা-ওয়াপদা সড়কের পাশে ইকোপার্ক সংলগ্ন এলাকা থেকে এক অজ্ঞাত পুরুষের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার পরিচয় এখনো জানা যায়নি।
এর আগে, মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুরে মাগুরা সদরের খদ্দকছুন্দী এলাকায় মধুমতি নদী থেকে অজ্ঞাত এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সেই নারীর পরিচয়ও এখনও শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
পুলিশ পৃথকভাবে প্রতিটি ঘটনার তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
কাসেমুর রহমান/অমিয়/