বাড়তি শুল্ক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ২৯ জুলাই অনলাইনে বৈঠক হবে।
বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বাণিজ্য উপদেষ্টা সেখ বশির উদ্দিন জানান, যুক্তরাষ্ট্র ঘোষিত পাল্টা শুল্কের হার কমানোর বিষয়ে অবশেষে দেশটির সঙ্গে বৈঠকের তারিখ পেয়েছে বাংলাদেশ। সরকার সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে আলোচনা করার জন্য অপেক্ষায় থাকলেও বৈঠকটি হচ্ছে আপাতত অনলাইনে।
এদিকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সূত্র বলেছে, যেহেতু এটি দর-কষাকষির বিষয়, তাই সরকার এখনো চেষ্টা করছে, বৈঠকটি সশরীর করার জন্য।
বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে বাণিজ্য উপদেষ্টা নিজ দপ্তরে এলে সাংবাদিকরা যুক্তরাষ্ট্রের বাড়তি শুল্ক বিষয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন করেন। আগামী ১ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের বাড়তি শুল্ক কার্যকর হওয়ার কথা, দেশটির সঙ্গে তৃতীয় দফার আলোচনার কোনো খবর আছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘গত ২২ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধিকে (ইউএসটিআর) আমাদের করণীয় সম্পর্কে পত্র দিয়েছি। এখন জবাবের অপেক্ষায় আছি। উত্তর পেলে দর-কষাকষি করার জন্য আমরা যুক্তরাষ্ট্রে যাব।’
বাণিজ্য উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘আমরা অনলাইন বৈঠকের শিডিউল পেয়েছি। বিষয়গুলো গতিশীলভাবে এগোচ্ছে বলেই আমাদের চিঠির ওপর ভিত্তি করে তারা অনলাইন বৈঠকের সময় দিয়েছে।’
আগামী ১ আগস্টের পরেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনার সুযোগ আছে কি না জানতে চাইলে বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘অবশ্যই।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের জন্য যেমন প্রয়োজন যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও প্রয়োজন। এ বিষয়ে আমাদের কর্মকাণ্ডে কোনো স্থবিরতা নেই। কর্মকাণ্ড যথেষ্ট গতিশীলতার সঙ্গে এগোচ্ছে।’
বাংলাদেশের অবস্থান সঠিকভাবে তুলে ধরার কথা জানিয়ে বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘সক্ষমতার ভিত্তিতে আমাদের যা করণীয়, তা তুলে ধরেছি। এখন আছি যুক্তরাষ্ট্রের আমন্ত্রণের অপেক্ষায়।’
নিজের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি বা দেশটিকে বাড়তি সুবিধা দেওয়ার সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে বাংলাদেশ- বিভিন্ন গণমাধ্যমে উঠে আসা এমন অভিমতের বিষয়ে জানতে চাইলে বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘আমার কোনো বক্তব্য নেই। আপনার মতো আমিও একজন বাংলাদেশি। দেশের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করে আমরা কেন কাজ করব?’
বাণিজ্য উপদেষ্টা এ বিষয়ে আরও বলেন, ‘যদি তা-ই হতো, তাহলে তো আন্তমন্ত্রণালয়ের বৈঠকের দরকার পড়ে না। নির্দিষ্ট কোনো কিছু মেনে নিয়ে কাজটা করে ফেললেই হয়ে যায়। স্বার্থ ক্ষুণ্ন করার প্রশ্ন এলে এত পরিশ্রমেরও দরকার নেই।’ তিনি বলেন, ‘সরকারের প্রায় সব মন্ত্রণালয় একসঙ্গে কাজ করছে। এর ওপর ১৫ দিন ধরে দিন-রাত কাজ হয়েছে। আমরা আমাদের অবস্থান তুলে ধরেছি, তাদের আমন্ত্রণ পেলে আলোচনা করতে যাব।’
বাংলাদেশ কী প্রত্যাশা করছে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে, এমন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘দেশটির কাছে ভালো কিছু প্রত্যাশা করছি। এ জন্য করণীয় কাজগুলো করছি।’ নতুন শুল্কহার কার্যকরের আর এক সপ্তাহ বাকি থাকার এ সময়ে দর-কষাকষি বা আলোচনার আমন্ত্রণ পাওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ কতটা আশাবাদী, এ বিষয়ে সেখ বশির উদ্দিন বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি আপনার মতোই আগ্রহী।’
দর-কষাকষির জন্য লবিস্ট নিয়োগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সেখ বশির উদ্দিন বলেন, ‘এটি ব্যবসায়ীদের এখতিয়ার। সরকার কোনো লবিস্ট নিয়োগ করেনি। আপনাদের একটা জিনিস বুঝতে হবে, যুক্তরাষ্ট্র ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ভিত্তিতে কাজটি করছে। এ কাঠামোতে লবিস্টদের করার কোনো কিছু আছে কি না, আমি ঠিক জানি না।’
বাণিজ্য উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘আমাদের বিভিন্ন বিষয়ে পরিবর্তন আনতে হবে। এ পরিবর্তনগুলো বাংলাদেশ ছাড়া অন্য কেউ বুঝতে পারবে না। পরিবর্তনগুলোতে আন্তমন্ত্রণালয়- সংশ্লিষ্ট অনেকগুলো আইনি প্রক্রিয়া আছে। এ আইনি প্রক্রিয়াগুলো একজন লবিস্টের পক্ষে বোঝা সম্ভব নয় বলে আমার ধারণা।’