ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে বড় দরপতন হয়েছে। লেনদেনে অংশ নেওয়া সিংহভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমার পাশাপাশি সবকটি মূল্যসূচকের বড় পতন হয়েছে। সেই সঙ্গে কমেছে লেনদেনের পরিমাণ।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় বৈশ্বিক বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে দেশীয় পুঁজিবাজারেও। বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। তবে দেশের শেয়ারবাজার দীর্ঘদিন ধরে পতনের মধ্যে রয়েছে। ফলে বিনিয়োগকারীরা আতঙ্কে বিক্রির চাপ না বাড়ালে দ্রুত বাজার ঘুরে দাঁড়াবে।
সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস গতকাল রবিবার প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) দাম বাড়ার তালিকায় নাম লেখাতে পেরেছে মাত্র ৩০টি প্রতিষ্ঠান। অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমায় প্রধান মূল্যসূচক কমেছে ১৩৮ পয়েন্ট।
অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) দাম কমার তালিকায় নাম লিখিয়েছে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান। ফলে এ বাজারেও মূল্যসূচকের বড় পতন হয়েছে। সেই সঙ্গে কমেছে লেনদেনের পরিমাণ।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর রবিবার ডিএসইতে লেনদেন শুরু হতেই আতঙ্কে এক শ্রেণির বিনিয়োগকারী শেয়ার বিক্রির চাপ বাড়িয়ে দেন। এতে লেনদেনের শুরুতেই ডিএসইর প্রধান সূচক ২২৩ পয়েন্ট কমে যায়। পরে কিছু ক্রেতা সক্রিয় হলে সূচকের পতন প্রবণতা কমে। অবশ্য ক্রেতার থেকে বিক্রেতার চাপ বেশি থাকায় সূচকের বড় পতন দিয়েই দিনের লেনদেন শেষ হয়।
ব্রোকারেজ হাউসের কর্মকর্তারা বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নিহত হয়েছেন। পরিস্থিতি জটিল হচ্ছে। এই আতঙ্ক শেয়ারবাজার খুলতেই বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ শেয়ার বিক্রির ভয়াবহ চাপ তৈরি করেন। ফলে অল্প সময়ের মধ্যে বাজারে বড় দরপতন হয়েছে।’
দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে মাত্র ৩০টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। বিপরীতে দাম কমেছে ৩৫৩টির। ৬টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
এদিকে ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৭টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে ১৯২টির দাম কমেছে এবং ৩টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ২টি কোম্পানির শেয়ার দাম বাড়ার বিপরীতে ৭৭টির দাম কমেছে।
বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ২১টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৮৪টির এবং ৩টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। তালিকাভুক্ত মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর মধ্যে ২টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে ২৯টির দাম কমেছে এবং ৩টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
সিংহভাগ প্রতিষ্ঠানের দরপতন হওয়ায় ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স তার আগের দিনের তুলনায় ১৩৮ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৪৬১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ সূচক ২৬ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৮৯ পয়েন্টে অবস্থান করছে। বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক তার আগের দিনের তুলনায় ৫২ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১১৭ পয়েন্টে নেমেছে।
মূল্যসূচক কমার পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও কমেছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৭৭৫ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। তার আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৯৪৭ কোটি ২৮ টাকা। লেনদেন কমেছে ১৭১ কোটি ৭২ লাখ টাকা।
লেনদেনে সব থেকে বড় ভূমিকা রেখেছে সিটি ব্যাংকের শেয়ার। কোম্পানিটির ৩৯ কোটি ৬৭ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২৭ কোটি ৩০ লাখ টাকার। ২৫ কোটি ৯৮ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে ওরিয়ন ইনফিউশন।
এ ছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে রবি, ব্যাংক এশিয়া, ব্র্যাক ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক, আনোয়ার গ্যালভানাইজিং, বেক্সিমকো ফার্মা এবং ঢাকা ব্যাংক।
গতকাল ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া কোম্পানিগুলোর মাঝে দর বৃদ্ধির শীর্ষে উঠে এসেছে শাইনপুকুর সিরামিক্স পিএলসি। কোম্পানিটির শেয়ারদর তার আগের কার্যদিবসের তুলনায় ১ টাকা ৭ পয়সা বা ৯ দশমিক ৯৪ শতাংশ বেড়েছে।
তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে ছিল নফর্মেশন সার্ভিসেস নেটওয়ার্ক-আইএসএন লিমিটেড। কোম্পানিটির শেয়ার দর ৫ দশমিক ০৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। তৃতীয় স্থানে থাকা ব্যাংক এশিয়ার দর বেড়েছে ৮ দশমিক ২৭ শতাংশ।
অন্য শেয়ারবাজার সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই কমেছে ২৪৫ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৮৪ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৩৫টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১৩৮টির এবং ১১টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ১২ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। তার আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ১৯ কোটি ৫৪ লাখ টাকা।